তাবলিগের মুরব্বিদের প্রতি আরজ, মিডিয়াজ্ঞান অর্জন করুন

  এহসান সিরাজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের দুই শীর্ষ  মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফূল ইসলাম ও মাওলানা জুবায়ের
তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের দুই শীর্ষ মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফূল ইসলাম ও মাওলানা জুবায়ের

আমি লেখালেখির সঙ্গে জড়িত এটা জেনে মাওলানা সাদবিরোধী এক বড় আলেম কিছুদিন আগে অভিযোগের সুরে বললেন, মিডিয়াগুলো বরাবরই আমাদের বিপক্ষে কথা বলে। তাকে বললাম, আপনারা মিডিয়াকে সহযোগিতা করবেন না অথচ মিডিয়ার কাছে এটা কীভাবে প্রত্যাশা করেন! তিনি বললেন, হুজুররা তো সব সময় বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। কই মিডিয়া তো সেভাবে ফলাও করে প্রচার করছে না।

এবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দৈনিক যুগান্তরের ইসলাম ও জীবন পাতায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দু’পক্ষের শীর্ষ দুই মুরব্বির সাক্ষাৎকার ছাপা হবে। সাক্ষাৎকার গ্রহণের দায়িত্ব পড়ে আমার ওপর।

সে অনুযায়ী যোগাযোগ করি মাওলানা সাদ সমর্থক কাকরাইলের ফায়সাল সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের সঙ্গে। প্রথমবার ফোন করার পর ফোন রিসিভ করেননি। ফোন করি মাওলানা সাদবিরোধী ফয়সাল কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা জুবায়ের আহমদকে। তার ফোনও বন্ধ। ফোন দিই আরেক মুরব্বি মাওলানা ওমর ফারুককে। পরপর তিনবার ফোন বাজলেও রিসিভ করেননি। আবার ফোন দিই ওয়াসিফ ইসলামকে। বললেন, ভাই আমি মিডিয়াতে কথা বলতে অক্ষম, আমি আপনাকে একজনের নাম বলে দিচ্ছি তিনি আমার হয়ে কথা বলবেন। বললাম, তার সঙ্গে কোথায় কীভাবে যোগাযোগ হবে? বললেন, আমি আপনাকে তার নাম ও মোবাইল নম্বর এসএমএস করে দিচ্ছি। চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর আবার ফোন দিলাম। বললেন, দুঃখিত ভাই, ভুলে গেছি! এখনই দিচ্ছি তিনি দিলেন রেজা আরিফের নম্বর। যিনি বিদেশি মেহমানের দায়িত্বে নিয়োজিত। ফোন দিলাম রেজা আরিফকে তিনি বললেন, ভাই কখন কোথায় দেখা হবে বলেন। তখন বিকাল তিনটা। বললাম, আজকে কখন কোথায় দেখা হতে পারে বলেন? তিনি বললেন, ভাই আজকে না কাল দেখা হলে ভালো হয়!

ওদিকে বিপরীত পক্ষের কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পরদিন আবার মাওলানা জুবায়েরের মোবাইলে কল দিই। ফোন বন্ধ। মাওলানা ওমর ফারুক এবারও ফোন রিসিভ করলেন না। ফোন দিলাম মাওলানা জুবায়েরের ছেলে মোহাম্মদ হানজালাকে। পরপর তিনবার। ধরলেন না!

ফোন করলাম তাদের পক্ষের ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নানকে। তিনি বললেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছেন সেখান থেকে যাবেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে। সন্ধ্যার পর ছাড়া দেখা হচ্ছে না। সময় দিলেন বাদ মাগরিব সেগুনবাগিচায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মাগরিব নামাজ পড়ে ফোন দিলাম তাকে। ফোন বন্ধ! এসএমএস করলাম ‘যুগান্তর থেকে এসে সেগুনবাগিচায় বসে আছি’ তিন ঘণ্টায় কোনো উত্তর আসেনি! রাত ৯টার পর ফোন খোলা। ফোন দিই, ধরেন না! রাত পার হল। সকালে আবার তাকে ফোন দিলাম। বলেন, ভাই দুঃখিত ইজতেমা মাঠে আছি!

এভাবে তিন দিন ছুটেছি তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিদের সাক্ষাৎকার সংগ্রহে। ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধও অনেক ক্ষেত্রে তারা দেখাতে পারেননি। মাওলানা সাদ অনুসারী দ্বিতীয় সারির মুরব্বিরা কথা বললেও সাদবিরোধী কারও সাক্ষাৎই পাওয়া যায়নি। এ তিন দিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ পেছাতে হয়েছে। কিন্তু যাদের মিডিয়ায় কাভারেজ দিতে আমি হন্যে হয়ে ঘুরছি, তারা তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও কোনো সাড়া দেননি।

তখন উপলব্ধি হল, যারা মিডিয়া এড়িয়ে চলেন তাদের খবর মিডিয়াতে কীভাবে আসবে? অভিযোগকারী মাওলানা বলেছিলেন, আমরা সৌজন্যতা একটু কমই বুঝি!

তাবলিগ কর্তৃপক্ষের প্রবল অনিচ্ছা ও বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে এ জামাতের খবর ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়। এ জামাতের কর্মীরা আধুনিকতাকে ব্যক্তিগত কাজ ও পেশায় ব্যবহার করলেও দাওয়াতের কাজে, ওয়াজ-নসিহত ও দোয়া মোনাজাতে বা প্রচার-প্রসারে লাগাতে এখনও তীব্র বিরোধী! এখনও তারা মনে করেন এসব শয়তানের মাধ্যম ও যন্ত্রপাতি। তাই দ্বীন ইসলাম প্রচারে তা কাজে লাগানো নিষিদ্ধ! অথচ ইসলামই বিশ্বে জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতার প্রচলন ঘটিয়েছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মিডিয়া এবং সংবাদকর্মীরা যে মহাকর্মযজ্ঞে নিয়োজিত তা কি তাবলিগ জামাতকে বৈশ্বিক রূপ দিচ্ছে না?

তাবলিগের মুখ্য বিষয় তো প্রচার। আজকের মিডিয়া কি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচার কাজে কম কারামতি দেখাচ্ছে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অবশ্যই আল্লাহর দান ও নিয়ামত। এ সবের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপূর্ণ আলোচনায় ইসলামকে প্রচার করলে ঘরে ঘরে তাবলিগের জ্ঞান পৌঁছে দেয়া সম্ভব। তাবলিগ জামাতের কাজ ছাড়া অন্য বিষয়বস্তুর প্রচার চলছে বিশ্বময়, মহাকাশে ও ঘরে ঘরে এবং জনে জনে!

এ মোবারক জামাতের কর্তৃপক্ষকেও বিশ্ব ইজতেমার মতো বিশ্ব মিডিয়াকে বোঝার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। নইলে এ জ্ঞানে যারা পারদর্শী তারাই এর নেতৃত্বে আসবেন আগামীতে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও মিডিয়াকর্মী

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×