নারীর হক নারীই ব্যাহত করে

  এজে ইকবাল আহমদ ০৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর হক নারীই ব্যাহত করে
প্রতীকী ছবি

জগতে এমন কিছু নেই যা সম্পর্কে পবিত্র ইসলামে বলা হয়নি। আজ বহুল ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। এ দিবসটি নিয়ে অনেক সেমিনার, সভা-সমিতি, আলোচনা এবং র‌্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বড় বড় বক্তারা আলোচনা করবেন।

অনেক নারীনেত্রী টকশোতে চায়ের কাপে ঝড় তুলবেন। তবে মেয়েদের নিয়ে আগেকার যুগের হীন মন-মানসিকতা চলছেই। নইলে আজকে যত আলোচনা এবং র‌্যালি হচ্ছে তা কেন র‌্যালিতেই থমকে থাকছে?

দুটি ঘটনা দিয়ে কলামটি শুরু করছি।

দৃশ্যপট-১ : এক ভদ্রমহিলা প্রতিবেশী মহিলাকে বলছেন, ‘আমার জামাইটি খুবই ভদ্র ছেলে। আমার মেয়ে যা বলে তাই শোনে। আর আমার ছেলেটার কথা কী আর বলব? আস্ত ভেড়া, বউয়ের কথায় উঠে আর বসে।’

দৃশ্যপট-২ : এক মহিলা নিজের মেয়েকে বলছেন ভালো করে পড়াশোনা করতে। স্বাবলম্বী হতে হবে। মেয়ে অন্য ঘরে যাওয়ার পরই ছেলের বউকে বলছেন, ‘মেয়েদের এত পড়ে কী হবে? সংসার দেখা আর স্বামীর খেদমত করাই তাদের আসল কর্তব্য।’ এ দুটি দৃশ্যের ব্যাখ্যা শেষে লিখব। এখন অন্য প্রসঙ্গে যাই।

অধিকারের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে সম্পত্তির ব্যাপারটি। আমাদের সমাজে মেয়েদের সম্পত্তিতে প্রায়ই ঠকানো হয়। ভাইয়েরা বোনকে ঠকায়। পিতাও অনেক সময় কন্যাকে কম সম্পত্তি দেয়। তাকে বলে যে, ‘তোকে তো বড় ঘর দেখে বিয়ে দিয়েছি। তোর স্বামীর কি কম আছে?’ আবার স্বামীর মৃত্যুর পর বহু পরিবারে দেখা যায়, ছেলেরা বাবার সম্পত্তি থেকে মাকে সঠিক ভাগটুকুও দেয় না।

হয়তো পিতা কৃষিজমি থেকে বছরে ৫০০ মণ ধান পেতেন। অথচ তার মৃত্যুর পর হয়ে পড়েন অসহায়। তার হাতে অনেক সময় ওষুধ কেনার জন্য সামান্য ৫ হাজার টাকাও থাকে না। পবিত্র কালামে পাকে বর্ণিত আছে, ‘মাতা পিতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং মাতাপিতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে মেয়েদের অংশ আছে, তা অল্পই হোক বা বেশিই হোক, একটি নির্ধারিত অংশ।’ (সূরা নিসা : ৭)। তাই সম্পত্তিতে মেয়েদের অংশ সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া সবার কর্তব্য।

মেয়েরা যখন বউ হয়, তখন অন্য এক অধিকারের প্রশ্ন ওঠে। মেয়ে দেখতে গিয়ে পছন্দ হলে এবং বিয়ের পর ছেলের বউকে উঠিয়ে আনার সময় মেয়ের ক্রন্দনরত বাবা-মাকে বেশিরভাগ লোকই বলেন যে, কোনো চিন্তা করবেন না, আপনাদের মেয়ে আমার সংসারে মেয়ের মতোই থাকবে।

পরে তো আর সেই ওয়াদা রাখেন না। বেশিরভাগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনই পূত্রবধূর সাংসারিক কাজের মূল্যায়ন করেন না। অনেক সময় স্বামীকেও এ কথা বলতে শোনা যায়, ‘কী এমন কাজ কর, রান্নাবান্না আর বাচ্চাকে স্কুলে আনানেয়া ছাড়া?’ বিয়ের সময়ের ওয়াদা বেমালুম ভুলে যান তারা। অথচ পবিত্র কোরআনে আছে, ‘এবং প্রতিশ্রুতি পালন কর, প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ ( ১৭ সূরা বনি ইসরাঈল : ৩৪)।

অনেক সংসারে পূত্রবধূকে অবহেলা করা হয়। তার পিতার সামাজিক মর্যাদা শ্বশুরবাড়ির চেয়ে একটু নিচে হলেই অনেক শাশুড়ি বলে বসেন, তোমার বাবার কী আছে? অথচ ইসলামে মেয়েদের তো নয়ই, কোনো মানুষকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না, কারণ আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে ভালোবাসেন না।’ (৩১ সূরা লোকমান : ১৮)। তাই নারীকে অবহেলা করা উচিত নয়।

সবশেষে বলছি, কলাম লেখার শুরুতে যে দুটি সত্য ঘটনার উল্লেখ করেছিলাম তার ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। দৃশ্যপট-১ এ ভদ্রমহিলা ছেলেকে ভেড়া বলেছেন কারণ সে তার (মহিলার) পূত্রবধূর কথা শোনে। তাহলে তার মেয়ের জামাইও তো ভেড়াই হবে। সেও তো মহিলার মেয়ের কথায় উঠবস করছে।

তাই এক যাত্রায় দুই রকম ফল আশা করা যায় কি? দৃশ্যপট-২ এ আরেক ভদ্রমহিলা। মেয়ের লেখাপড়া মেনে নিলেও ছেলের বউয়ের পড়ালেখা মেনে নিতে পারছেন না। এখানেও একই কথা। মন-মানসিকতা দুটি মেয়ের ক্ষেত্রে দুই রকম। সে জন্য এ নারী দিবসে মন-মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের আজকের দিনে একটাই শপথ নিতে হবে; বিশ্ব নারী দিবসে প্রত্যেক নারীর মন-মানসিকতার পরিবর্তন হোক।

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×