প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভি এমপি বলেন

মুমিনের প্রতিটি কাজই ইবাদতের সামিল

  এহসান সিরাজ ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। ফাইল ছবি

সময়টা নির্ধারণ হয়েছিল খুদে বার্তায়। এক বিকেলে উপস্থিত হয়েছিলাম জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ন্যাম ভবনের নির্ধারিত এপার্টমেন্টে। জানতে চেয়েছিলাম, জাতীয় সংসদে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ও আলেম-উলামা সম্পর্কে সমালোচনা করায় সরকারদলীয় হয়েও আপনি সংসদেই এর প্রতিবাদ করেছেন এর কারণটা কী? তিনি বললেন, সংসদে এ বিষয়ে আমি একা বলিনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বলেছেন! কওমির সন্তান হয়ে আমি কীভাবে নীরব থাকি?

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আলেমদের যে অবদান এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেনই উপমহাদেশে মুসলমানদের শিক্ষা এসেছে মাদ্রাসাগুলো থেকেই। আমি মনে করেছি যেখান থেকে অসত্য আওয়াজ এসেছে সেখান থেকেই সত্যটা উচ্চারিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান, নিজেও ইসলামী স্কলার। আছেন শিক্ষকতার মতো পেশায়! বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। সমাজসেবা বা রাজনীতিতে কেন এলেন?

তিনি বলেন, জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি সমাজসেবা করা এটা আমাদের আকাবিরে দেওবন্দ, নদওয়া বা তাবলিগি মুরব্বিদের একটা বিশেষ আমল! তা ছাড়া পৈতৃক সূত্রেও আমি এটা পেয়েছি। আমার বাবা তার নিজের গোলার ধান বিক্রি করে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দিয়েছেন! রাজনীতি মানে সমাজের সেবা করা, প্রতারণা করা নয়। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা, ওয়াদা খেলাফ না করা। জনগণের কাজ করা, তাদের পাশে থাকা, সমস্যা সমাধান করা, জনকল্যাণমূলক কাজ করাই রাজনীতি!

কারণ, বায়হাকির হাদিসে হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারও অভাব পূরণ করবে, এতে তার উদ্দেশ্য হল ওই ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করবে; প্রকৃতপক্ষে সে আমাকে সন্তুষ্ট করল। আর যে আমাকে সন্তুষ্ট করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করল। আর যে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করল, আল্লাহ তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন! রাজনীতির যদি সঠিক ব্যাখ্যা করা হয় তা হলে রাজনীতি এবং সমাজসেবা একটা আরেকটার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত; রাজনীতি একরকম ইবাদতও বটে।

জানতে চেয়েছিলাম, রাজনীতিতে এসে আপনি ধর্মীয় এবং সামাজিক কোন কাজটাকে প্রাধান্য দেন? বললেন, মুমিনের প্রতিটি কাজই ইবাদতের সামিল। সামাজিক কাজগুলোকে ধর্মের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বঙ্গবন্ধুকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পরিবার মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। আমার বড় ভাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। অনেক আগে থেকে আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পড়াশোনা করি। আল্লাহর হুকুমে বঙ্গবন্ধুর কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণ ছিল এক ঐতিহাসিক ভাষণ। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুখ দিয়ে বলানো কথা। এ জন্য মানুষের হৃদয়ে তার কথাগুলো স্থান করে নিয়েছে!

বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য কতটুকু আন্তরিক ছিলেন এটা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে বোঝা যায়। পীর-মাশায়েখ এবং আলেম-উলামাদের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল বইগুলো পড়লে জানা যাবে। আমার পরামর্শ থাকবে প্রত্যেকেই যেন বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা পড়ে রাজনীতি নামক ইবাদত করেন।

ড. আবু রেজাকে প্রশ্ন করেছিলাম, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আপনি বঙ্গবন্ধুর উদারতা ও ইসলামপ্রীতির নমুনা কীভাবে তুলে ধরেছেন? বললেন, আরব বিশ্বের সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক আছে এটা সবাই জানেন। নানা কারণে বিভিন্ন দেশের সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশ নিতে হয় আমাকে। ওই সব জায়াগায় আমি বঙ্গবন্ধু এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে উপস্থাপন করে থাকি।

কারণ, এর আগে জামায়াত-বিএনপি সরকার ইসলামের নাম ও লেবাস ধারণ করে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি করেছে। তারা আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে ইসলামবিরোধী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে বিদেশে। এ কারণে সে সময়ে দেশের ও দলটির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এর মোকাবেলায় আমি আমার মত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বদরবারে বিশেষ করে আরব বিশ্বে তুলে ধরছি অনবরত।

ড. আবু রেজার বাবা আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ফজলুল্লাহ ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত শাইখুল হাদিস আল্লামা জাকারিয়া কান্ধলভির সঙ্গী। দাদা ছিলেন আধ্যাত্মিক সম্রাট হজরত রশিদ আহমদ গাংগুহি (রহ.)-এর শিষ্য! তার পূর্বপুরুষ শেখ ইয়াসিন মক্কি সুদূর মক্কা থেকে এসে এ দেশে বসতি করেছিলেন।

তিনি কওমির সন্তান। পড়াশোনা করেছেন ভারতের নদওয়াতুল উলামায়। লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আরবি ভাষা সাহিত্যের ওপর স্নাতকোত্তর সনদ অর্জন করেছেন।

তার ভিন্নতা হল, সংসদ সদস্য হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন নিয়মিত! মুসলিম শরিফের মতো হাদিসের কিতাব এবং আরবি সাহিত্যের ক্লাস করাচ্ছেন। মানুষ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন জাতীয় সংসদে একমাত্র আলেম প্রতিনিধি হওয়ার কারণে। তার জনপ্রিয়তার কারণ হচ্ছে প্রতি জুমার নামাজ পড়ান ও খুতবা দেন নির্বাচনী এলাকার একেক মসজিদে একেক জুমায়। খুতবায় সমসাময়িক বিষয়ের ওপর মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেন।

দেশের প্রতিটি এলাকায় যদি এমন একজন করে প্রতিনিধি থাকতেন! দেশের আলেমদের কাছে এটাই তো চাওয়া সাধারণ মানুষের? তারা যেন সংসদ সদস্য হয়ে দেশসেবায় আসতে পারেন। যেহেতু মানবসেবাও ইবাদতের শামিল।

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×