ইমাম হোসাইন প্রেমীদের জন্য একটি গ্রন্থ

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আল ফাতাহ মামুন

কারবালায় ফোরাত তীরে ইমাম হোসাইনকে শহীদ করে ইয়াজিদের দস্যুরা সব আলো নিভিয়ে দিয়েছিল, তখন একশ্রেণীর জ্ঞানপাপী ইয়াজিদকে আলোর মুখোশ ঢেকে জ্ঞানী বলে প্রচার করে। আহলে বাইতের প্রতি চরম নির্যাতন করা, বিশিষ্ট সাহাবিদের হত্যা করা, কাবাঘরকে ভেড়া-বকরি-ঘোড়ার আস্তাবলে পরিণত করেও শান্ত হয়নি ইয়াজিদের দস্যুরা। তিন দিনের বিশেষ অভিযানে মক্কা ও মদিনায় ন্যক্কারজনক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ইয়াজিদ বাহিনী প্রমাণ করে, অন্ধকার কখনই আলোকে গ্রহণ করে না।

গোলার আঘাতে কাবাঘর জ্বালিয়ে দেয়া এবং মক্কা-মদিনায় নির্বিচারে হত্যা-লুণ্ঠন ও ধর্ষণের ঘটনা ইতিহাসে ‘হাররার ঘটনা’ নামে পরিচিত। অপারেশন হাররার বিভৎসতা তুলে ধরার জন্য এ কথাই যথেষ্ট, ইয়াজিদ বাহিনীর ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই বছর ১০ হাজারের বেশি নারী জারজ সন্তান প্রসব করেন। আফসোস! মুসলিম দুনিয়ায় আজ অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা-গবেষণা হয়, কিন্তু হাররার ঘটনার বিভীষিকা সম্পর্কে জানে না অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়া এবং খানকার বুজর্গরাও!

হাররার ঘটনার মতো ইয়াজিদের অসংখ্য দুষ্কর্ম চেপে যেতে চেয়েছে একদল জ্ঞানপাপী। তাদের স্পর্ধা এতদূর গড়িয়েছে যে, তারা বলতে শুরু করেছে, কারবালার ঘটনার জন্য ইমাম হোসাইন (রা.)ই দায়ী। স্বৈরশাসক ইয়াজিদ ক্ষমতার দাপটে অর্থের লোভে কিনে নিয়েছিল জ্ঞানের মুখোশপরা লোভী মস্তিষ্কগুলোকে।

কেউ ভয়ে কেউ লোভে মুখ খোলেনি ইয়াজিদের বিরুদ্ধে। ইয়াজিদকে ভালো বলে তার অপকর্ম মোছার দুঃসাহস তৎকালীন দরবারি আলেমরাই দেখিয়েছিল এবং আজও দেখাচ্ছে।

সময় পাল্টাল এরপর। তখন ১১৮০ খ্রিস্টাব্দ বয়ে চলছে। বাগদাদের মসনদে খলিফা আল নাসের দিনিল্লাহ এলেন। তাকে ঘিরে আছে আলেম উলামারা। প্রশ্ন উঠল, ইয়াজিদকে অভিশাপ দেয়া জায়েজ, নাকি জায়েজ নয়? ছিমছাম গড়নের একজন মাথা উঁচু করে বললেন- যে পাপীষ্ঠ রাসূলের শহরে গণহত্যা-গণধর্ষণ চালিয়েছে, কাবাঘর উড়িয়ে দিয়েছে তাকে অভিশাপ দেয়া ছাড়া আর কীই বা দেয়া যায়?

ওই মজলিসে ছিলেন ইয়াজিদি সমর্থক এক শায়েখ। নাম তার আবদুল মুগিস। সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে চলে গেলেন মজলিস ছেড়ে। লিখে ফেললেন, ‘ফাদাইলুল ইয়াজিদ’ নামে একটি গ্রন্থ। সেখানে দেখানো হয়েছে, ইয়াজিদের চেয়ে বড় বুজুর্গ তার সময়ে আর কেউ ছিল না। ইমাম হোসাইন ইয়াজিদের কাছে মাথা নত না করে কী ভুলটাই না করলেন- তাও প্রমাণ করেছেন যুক্তি ও হাদিস দিয়ে।

এ গ্রন্থের জবাবে হোসাইন প্রেমিক ইমাম ইবনে জাওজি (রহ.) লেখেন, ‘আল রাদ্দু আলাল মুতাআসসিবিল আনিদ আল মানি মিন জাম্মি ইয়াজিদ’। ইয়াজিদকে ভালো বলতে গিয়ে কীভাবে ঘৃণ্য মিথ্যাচার ও জাল হাদিসের কারখানা খুলে বসেছে জ্ঞানপাপীরা তা বড় সুন্দর করে দলিলসহ চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছেন আবুল ফারাজ ইবনে জাওজি (রহ.)।

বইটি বাংলা অনুবাদ করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের ধর্মীয় লেকচারার তরুণ আলেম মাওলানা আবদুল্লাহ যোবায়ের। সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুর রশিদ। বাংলায় বইটির নাম দেয়া হয়েছে- ‘ইয়াজিদকে নিন্দা করার বৈধতা ও বিরুদ্ধবাদীদের যুক্তি খণ্ডন’।

সম্পাদকের কথায় ড. আবদুর রশিদ বলেন, ‘ইমাম ইবনে জাওজি (রহ.) একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইয়াজিদপন্থীদের দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার জন্য এ মূল্যবান গ্রন্থটি লেখেন। বর্তমানে বাংলাদেশেও একই প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। ইয়াজিদকে অভিশাপ দিতে বাধ্য করা এ গ্রন্থের উদ্দেশ্য নয়। ইয়াজিদকে যে অভিশাপ দেয় দিতে থাকুক। যে দেয় না সে চুপ থাকুক। এতে আমাদের বিন্দু পরিমাণও আপত্তি নেই।

কিন্তু মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে হোসাইন (রা.) কে দোষারোপ করা, নির্লজ্জভাবে ইয়াজিদের পক্ষ নেয়া, তাকে দায়মুক্ত করার অপচেষ্টা করা, তার মর্যাদা বর্ণনায় মিথ্যা হাদিস রচনা করা, অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দোহাই দিয়ে কারবালায় মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড চালান, পবিত্র মদিনার হাররার গণহত্যা এবং মক্কায় পবিত্র কাবাঘর ধ্বংসকে হালকাভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা- এসবে আমাদের অবশ্যই আপত্তি আছে। তাই তাদের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এ গ্রন্থের আসল উদ্দেশ্য। আহলেবাইত প্রেমিক এবং হোসাইন সৈনিকদের জন্য গ্রন্থটি পড়া খুবই প্রয়োজন। আবদুল্লাহ যোবায়েরের আন্তরিক প্রচেষ্টা আল্লাহপাক কবুল করুন।’

ধ্রুব এষের প্রচ্ছদে ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। বইটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন ০১৩১৬৪৬৫২২৯ এবং ০১৮১৯২৮৪২৮৫ এই নম্বরে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Email : [email protected]