হে আল্লাহ, এদেশের মানুষকে ভেজাল থেকে বাঁচান

  মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতারণা হারাম

ভেজাল খাদ্যপণ্যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সয়লাব। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে ১৭ কোটি মানুষ।

মানবতাবিরোধী এ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে ইসলামে। সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহপাক বলেছেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে গুলিয়ে দিও না এবং তোমরা জেনেশুনে সত্যকে গোপন করো না।’ (সূরা বাকারা : ৪২)।

যে কোনো পণ্যে ভেজাল মেশানোর প্রক্রিয়ায় সব কথা ও কর্মকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন- অনেক সময় মিথ্যা কথা বলে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ভেজাল পণ্য শতভাগ খাঁটি বলে বিক্রি করা হয়, যা ধর্মে নিষিদ্ধ। আল্লাহপাক বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নেয় তারাই যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না।’ (সূরা নাহল : ১০৫)।

অনেকে শুধু মিথ্যা বলেই থেমে থাকেন না বরং কসম করে মিথ্যা বলার মাধ্যমে ক্রেতার বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করে পণ্য বিক্রি করেন। অথচ নবী করিম (সা.) তা নিষেধ করেছেন। বিশ্বনবী বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন হল- যে তার ব্যবসায়িক পণ্য মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে।’ (মুসলিম)।

ভেজাল মেশানো বা বিক্রির প্রক্রিয়ায় মিথ্যা বলা, সত্য গোপন করা বা মিথ্যা কসম করার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নিষিদ্ধ অপরাধের গোনাহ হয়।

এতে প্রতারণা করার গুনাহ হয়। আর ইসলামে প্রতারণা করা নিষিদ্ধ। অথচ খাদ্যদ্রব্য বা যে কোনো পণ্যের ত্রুটি গোপন করা স্পষ্ট প্রতারণা। হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতারণামূলক বেচাকেনাকে নিষিদ্ধ করেছেন। (মুসনাদে আবু হানিফা)। নবীজি আরও বলেছেন, ‘যে প্রতারণা করে (ব্যবসার ক্ষেত্রে) সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম, তিরমিজি)। অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনেশুনে কোনো ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রি করা কারও জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না ক্রেতাকে ওই ত্রুটি সম্পর্কে জানানো হয়।’ (বোখারি)। মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্রেতাকে না জানিয়ে দোষযুক্ত পণ্য বিক্রি করে, সে অবিরাম আল্লাহর ক্রোধ ও ফেরেশতাদের অভিশাপে পতিত থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ)।

ন্যায্যমূল্যের বিনিময়ে ভেজালমুক্ত পণ্য পাওয়া ক্রেতা বা ভোক্তার অধিকার। কিন্তু ভেজালদানকারীরা ভোক্তাদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকে, যা ধর্মে নিষিদ্ধ। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক শপথ করে কোনো মুসলমানকে বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত এবং জান্নাত হারাম করে দেন।’ এক ব্যক্তি আরজ করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা যদি খুবই সামান্য বিষয় হয়? তিনি বলেন, ‘যদি একটা গাছের কাটা ডালও হয় তবুও।’ (মুসলিম, নাসায়ি)।

ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় অসুস্থ হয়ে কষ্ট পায়। আর মানুষকে কষ্ট দেয়া হারাম। আল্লাহপাক বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীদের কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সূরা আহজাব : ৫৮)।

খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারী মানব হত্যা বা গণহত্যাকারী। কারণ এসব খাবার খেয়ে ও পণ্য ভোগ করে অনেকে সরাসরি আবার অনেক মানুষ নীরবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। আল্লাহপাক বলেন, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সূরা মায়িদা : ৩২)।

সর্বোপরি ভেজাল পণ্য বা নির্দিষ্ট ভেজাল অংশ বিক্রির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ হারাম এবং তা ভোগ করলে দোয়া, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, ‘হারাম উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা গ্রহণ করলে তার ইবাদত কবুল হয় না।’ (বায়হাকি)। ‘হারাম খাদ্যে পরিপুষ্ট যে দেহ, নরকাগ্নিই তার জন্য উপযুক্ত স্থান।’ (আহমাদ, দারিমি, বায়হাকি)।

আল্লাহ সবাইকে এ মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×