সৎ শিক্ষার প্রচারক হওয়ার সাধনা

  মাহমুদা খাতুন মুন্নী ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা মানুষকে উন্নত করে। শিক্ষা ছাড়া জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। দুনিয়ায় যা কিছু বর্তমান ও অতীত সে সম্পর্কে জানতে হলে শিক্ষার মাধ্যমেই জানতে হয়। যে শিক্ষা ব্যক্তিকে বিকশিত করে, সমাজকে করে আলোকিত এবং জাতিকে করে উন্নত, সেই শিক্ষাকে আমরা সৎ শিক্ষা বলতে পারি। সৎ শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের অন্ধকার, মনের অন্ধকার দূর হয়। সৎ শিক্ষার গুণে জনগণের কল্যাণ করা যায়। সৎ শিক্ষার গুণেই বহির্বিশ্বে জাতি ও রাষ্ট্রের মর্যাদা ও সম্মান বেড়ে যায়।

ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে উন্নততর করতে হলে বিদ্যা শিক্ষার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সামাজিক কল্যাণ ও সাধারণের জন্য আমাদের এমন শিক্ষা লাভ করতে হবে যেন স্থান ও কালের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব মানবতার সেবায় আদর্শ হওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে সৎ শিক্ষাকেই আমাদের একমাত্র সহায়ক ভাবতে হবে। ইসলাম ধর্মে শিক্ষা তথা ইলমকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন মজিদ ও হাদিস শরিফে ইলম অর্জনের তাগিদ দিয়েছে বারবার। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনের প্রথম যে বাক্যটি নাজিল করেন তাতেও বিদ্যা শিক্ষার প্রতি নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ পাক বলেছেন, ইক্করা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাকা, খালাকাল ইনসানা মিন আলাক। ইকরা ওয়া রাব্বুকাল আকরামুল্লাজি আল্লামা বিল কালাম। আল্লামাল ইনসানা মালাম ইয়ালাম।

অর্থাৎ : তোমার প্রতিপালক প্রভুর নামে পাঠ কর, যিনি মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে সৃষ্টি করেছেন। পড়, তোমার প্রতিপালক যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষাদান করেছেন। মানুষ যা জানত না আল্লাহ পাক সেই বিষয়ে শিক্ষাদান করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা.) এ সম্পর্কে বলেছেন : তালামুল ইলমি ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিমিন ওয়া মুসলিমাতি উজ্বলুবুল ইলমা ওয়ালাও কানা।

অর্থাৎ : প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য বিদ্যা শিক্ষা করা ফরজ বা অবশ্য করণীয়। তোমরা বিদ্যা অন্বেষণ কর যদি তার জন্য চীন দেশেও যেতে হয়। শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষিত ব্যক্তির কদর বা মর্যাদা দিতে বলেছেন। রাসূলে কারিম (সা.) যুদ্ধে আটক বন্দিদের অবস্থা ভেদে ৫০০ থেকে ৬০০ দিরহাম মুক্তিপণ ধার্য করেছিলেন, কিন্তু শিক্ষিত বন্দিদের তিনি অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেননি। তিনি শিক্ষিত বন্দিদের প্রত্যেককে ১০টি করে মুসলমান বালককে শিক্ষাদান করার শর্তে মুক্তিপণ ধার্য করেছিলেন। জীবনযাপনের জন্য মানুষ নানা রকম পেশা অবলম্বন করে। মানুষের জীবনযাপনে শিক্ষাই তাকে আলোর পথ, বাঁচার উপায় বলে দেয়। সৎ উদ্দেশ্যে যে সৎ শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার আলোকে জীবনকে সুন্দর ও উজ্জ্বল করে তাদের সম্পর্কে হাদিস শরিফে অনেক বর্ণনা আছে।

সৎ শিক্ষা সম্পর্কে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি শিক্ষার জন্য পথে বের হয় আল্লাহপাক তাকে বেহেশতের কোনো একটি পথে পৌঁছে দেন। ফেরেশতাগণ শিক্ষা অর্জনকারীর জন্য নুরের ডানা বিছিয়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। অন্যত্র বলা হয়েছে, ব্যক্তির মৃত্যুর পর যেসব নেক আমল ও সৎ কার্য তার কাছে পৌঁছে সে পথ হল সে ব্যক্তি সৎ শিক্ষা গ্রহণ করে এবং শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে। সৎ শিক্ষা তথা দ্বীন শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেন জীবনের সর্বক্ষেত্রে শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে পারি। সামাজিক অনাচার নিরক্ষরতা এবং কূপমণ্ডূকতা দূর করতে পারি। জীবনকে উজ্জ্বল করে সমাজকে আলোকিত করতে পারি। আল্লাহ পাক এই তৌফিক আমাদের দান করুন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×