কী শিক্ষা পাচ্ছি ওয়াজ মাহফিল থেকে

  মোহাম্মদ আখতার হোসেন আজাদ ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরে-ঘরে ইসলামের আহ্বান পৌঁছে দিতে বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আগেকার দিনের ওয়াজ-মাহফিল আর বর্তমান ওয়াজ-মাহফিলে অনেক পার্থক্য। আগে গ্রাম-গঞ্জে বা নির্দিষ্ট এলাকায় বছরে দু-একটি মাহফিলের আয়োজন করা হতো। কোথাও মাহফিলের আয়োজন করা হলে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হতো। বর্তমানের বক্তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সমাজে সুকৌশলে বিভিন্ন দল-উপদল ও মতের ভিত্তিতে ভাগ হয়ে পড়ছেন। ফলে মতাদর্শানুযায়ী এখন একই এলাকার পাড়ায় পাড়ায় আলাদাভাবে অনেক উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার করে মাহফিল হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, অত্যধিক শব্দে মাইক ব্যবহার মানবদেহে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ৫০ ডেসিবলের বেশি শব্দ হলে কানের সেলের ক্ষতি হয়, রক্তচাপ বাড়ে। এটি আইনত দণ্ডনীয়। মাহফিলের সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনা করে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহারের বিকল্প খোঁজা জরুরি। কারণ উচ্চ শব্দে গভীর রাত পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের ফলে শিশু-বৃদ্ধদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। সমাজের অসুস্থ ব্যক্তি, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, পড়ার কোনো উপায় থাকে না। মাহফিল যেহেতু একটি নির্দিষ্ট মাঠে হয়, সেখানে সাউন্ড বক্সের ব্যবহার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে পারে।

ওয়াজ-মাহফিল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের একটি ঐতিহ্যগত ধর্মীয় আচার। ফেসবুক ও ইউটিউবের কল্যাণে ওয়াজ-মাহফিল কেবল ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা শোনা যাচ্ছে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে; কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ বক্তার বাম্পার ফলন হয়েছে তা রীতিমতো দেশের সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে। অধিকাংশ বক্তা ভিত্তিহীন ধর্মীয় আবেগপ্রবণ বক্তব্য রেখে সমাজে অবান্তর উত্তেজনার সৃষ্টি করছেন। একজন বক্তা আরেকজন বক্তার বক্তব্যকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়িয়ে পড়েছেন। আবার অনেক বক্তাকে নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করে নারীবিদ্বেষী বিভিন্ন কুরুচিশীল বক্তব্য দিতে দেখা যায়। যার ফলে নারী শিক্ষা নিয়ে জনমনে বিভক্তির সৃষ্টি হচ্ছে। কথিত ধর্মীয় বক্তা বিভিন্ন অপপ্রচার ও সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য-উপাত্তহীন উসকানিমূলক কথা বলে মাহফিলকে সরকারবিরোধী মঞ্চে পরিণত করছেন। ওয়াজ-মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে ধর্মের বাণী শোনানো, ইসলামের পথে আহ্বান, সৎ পথে আদেশ এবং অসৎ পথে নিষেধ; যা আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূলরা করে গেছেন। কিন্তু বর্তমানে বক্তাদের একে অপরের প্রতি উপহাসমূলক বক্তব্যে যেন গিবত ও বিষোদগার বেশি হচ্ছে। এক বক্তা আরেক বক্তাকে কাফের বলা, মুনাফিক-বিদআতি, ইসলামচ্যুত ইত্যাদি নামে কটূক্তি করছেন। আবার ইসলামের মূল বিষয়গুলোকে একপাশে রেখে সামান্য বিষয়গুলোকে নিজের মনগড়া ব্যাখা করে সমাজে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি নষ্ট করছেন। প্রায় সব বক্তা নিজের মতাদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং মতাদর্শগত বিরোধ নিয়ে চড়াও হচ্ছে। নামাজে হাত বাঁধা, সূরা ফাতিহার পর জোরে আমিন বলা, হাত তুলে মোনাজাত করা বা না করা, রাসূল (সা.) নূরের নাকি মাটির তৈরি, কবরে বেঁচে আছেন কিনা মারা গেছেন এসব বিষয় নিয়ে মুসলমান সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। কখনও কখনও এসব বিভক্তি থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হচ্ছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামাদের নিয়ে ওয়াজ-মাহফিল করার জন্য বক্তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ, সব বক্তাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে ওয়াজকারীদের তালিকা প্রণয়ন করা যেতে পারে; কিন্তু এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে যেন নীতিমালার নামে ওয়াজ-মাহফিলের প্রতি কোনো হেলা না করা হয়। ওয়াজ-মাহফিল হোক মানবতার কল্যাণে, আলোকিত সমাজ গড়ার উদ্দেশ্যে।

লেখক : শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×