দরুদ ও সালামের মর্যাদা

  ফিরোজ আহমাদ ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রত্যেকটি আমলের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব রয়েছে। দরুদ পড়া ও সালাম দেয়া একটি ভালো আমল। দরুদ পড়ার মাধ্যমে রাসূল (সা.)-এর দ্বীনের প্রতি ইমান ও মহব্বত বাড়ে। কোরআনেও দরুদ ও সালাম দেয়ার ওপর তাগিদ দেয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান; হে ইমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাক এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম পেশ) কর।’ (সূরা আহজাব : ৫৬)।

দরুদ ও সালামের ওপর আমল করলে আল্লাহতায়ালা আমলকারী ব্যক্তির মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহপাক তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করবেন। এতদ্ব্যতীত তার দশটি গোনাহ মাফ করা হবে এবং দশটি দরজা খুলে দেয়া হবে। (নাসায়ী, মিশকাত পৃ.-৮৬)।

দুনিয়ার জিন্দেগিতে যে যাকে ভালোবাসবে বা মহব্বত করবে কেয়ামতের দিন তার ভালোবাসার বা পছন্দের মানুষের সঙ্গে হাশর হবে। কারও যদি ইচ্ছা হয় যে, আমি হাশরের দিন রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে থাকব, তাহলে ওই ব্যক্তিকে দরুদের ওপর আমল করতে হবে। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, কেয়ামতে আমার কাছের জন সেই হবে যে আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজি, মিশকাত পৃ.-৮৬)।

পৃথিবীর যে কোনো স্থানে বসে, যে কেউ দরুদ ও সালাম পড়ুক না কেন আল্লাহর কুদরতে দরুদ ও সালাম পড়ার খবর রাসূল (সা.)-এর কাছে পৌঁছে যায়। আল্লাহতায়ালা এমন কিছু সংখ্যক ফেরেশতা নিয়োজিত করে রেখেছেন, তাদের দায়িত্ব হল পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে দরুদ ও সালাম পড়ার খবর সংগ্রহ করে রাসূল (সা.)-এর কাছে পৌঁছে দেয়া। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহর কিছু ফেরেশতা রয়েছেন, যারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করেন এবং আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছান। (নাসায়ী, দারেমি, মিশকাত পৃ.-৮৬)।

দোয়া কবুলের আদব হল দোয়া করার আগে রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া। দরুদ পড়ার গুরুত্ব এতটাই বেশি, যতক্ষণ পর্যন্ত রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া না হয়, ওই ব্যক্তির দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে জুলন্ত অবস্থায় থাকে। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, দোয়া আসমান ও জমিনে অবস্থান করতে থাকে, যতক্ষণ না তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠ না কর তা ওপরে ওঠে না। (তিরমিজি, মিশকাত পৃ.-৮৭)।

রাসূল (সা.)-এর নাম মোবারক যেখানে উচ্চারিত হয়, শোনার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ওপর দরুদ পড়তে হয়। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, কৃপণ ওই ব্যক্তি যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হল অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না। (তিরমিজি, মিশকাত পৃ.-৮৭)।

আল্লাহতায়ালা আমাদের দরুদ ও সালামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আমল করার তৌফিক দিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×