মন ভরাবে হাফেজে কোরআন

  হাফেজ শাহ শরীফ ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মন ভরাবে হাফেজে কোরআন

পবিত্র রমজান আসছে। কোরআন নাজিলের মাসে মসজিদে মসজিদে শুরু হবে খতমে তারাবি। সালাতুততারাবি মাহে রমজানের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। রমজানের সঙ্গে কোরআনের গভির সম্পর্ক খতমে তারাবির মাধ্যমে ফুটে উঠেছে, কোরআনের পাখিরা তারাবির সালাতে পুরো কোরআন সুরে সুরে তেলাওয়াত করে মুসল্লিদের শোনাবেন। খতমে তারাবির প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয়ে চারজন হাফেজে কোরআনের মতামত তুলে ধরেছেন-

ধীরস্থিরভাবে তেলাওয়াত করতে হবে : হাফেজ নূরুল আমীন

হাফেজ নূরুল আমীন। জামিয়া ইমদাদিয়া বারিধারা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের প্রধান হিসেবে চাকরি করছেন। হাফেজ হওয়ার পর থেকে একটানা ১৫ বছর ধরে তারাবি পড়িয়ে আসছেন। এ বছর ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে গুলশান আজাদ মসজিদে তারাবির হাফেজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই বিজ্ঞ হাফেজের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারাবির নামাজে তেলাওয়াত কতটা মধুর হওয়া উচিত তিনি বলেন, ধীরস্থিরভাবে তেলাওয়াত করতে হবে, তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়।

একটা সময় ছিল যখন মুসল্লিদের থেকে তাড়াতাড়ি পড়ার জন্য অনুরোধ করা হতো। এখন অনেকেই তাড়াহুড়ার তেলাওয়াত পছন্দ করেন না। ধীরস্থিরভাবে মধুর কণ্ঠে তেলাওয়াত শুনতে আগ্রহী আজকের মুসল্লিরা। তিনি আরও বলেন, আমি যেখানেই তারাবি পড়িয়েছি মক্কা-মদিনার মসজিদের মতো করে সুললিত কণ্ঠে তেলাওয়াত করেছি। এতে বহু মুসল্লি কোরআনের প্রেমিক হয়ে গেছেন।

একজন হাফেজকে ভালো তারাবি পড়ানোর জন্য কেমন প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন? জানতে চাইলে হাফেজ নূরুল আমীন বলেন, অনেকেই রমজান এলে তেলাওয়াত শুরু করেন। বছর ধরে তেলাওয়াতের মোটেও খেয়াল থাকে না। একজন হাফেজের জন্য এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আল্লাহতায়ালা কোরআনকে হাফেজের সিনায় সংরক্ষণ করেছেন। এটা যেন সিনা থেকে সিনায় বেঁচে থাকে।

শুধু রমজান মাসে কোরআন সংরক্ষণ করলেই হবে না। বছরজুড়ে কোরআনকে সিনায় তাজা রাখতে হবে। এর জন্য নিয়মিত দুই-তিন পারা তেলাওয়াত করা জরুরি। এভাবে একজন হাফেজকে হাফেজির দায়িত্ব আদায় করতে হবে।

কোরআনের অর্থ জানালে মুসল্লিরা উপকৃত হবেন : হাফেজ ফাহীম আব্দুল্লাহ

হাফেজ ফাহীম আব্দুল্লাহ। হাফেজ হওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর তারাবি পড়াচ্ছেন। সাত বছর ধরে তারাবি পড়াচ্ছেন বারিধারা জামে মসজিদ ও ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে।

তারাবির প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সারা বছরই তারাবির জন্য মনে মনে একটা প্রস্তুতি নিতে থাকি। নিয়মিত দুই-তিন পারা তেলাওয়াত করি।

রমজানের এক-দেড় মাস আগে থেকেই তেলাওয়াতের পরিমাণটা অনেক বাড়িয়ে দেই। এতে করে প্রস্তুতিটা বেশ ভালো হয়।

মুসল্লিদের কাছে তারাবির নামাজ কীভাবে প্রাণবন্ত প্রাণময় করা যায় এমন প্রশ্নের উত্তরে ফাহীম আব্দুল্লাহ বলেন, তারাবিতে আজকের তেলাওয়াতের সারমর্মটুকু আলোচনা করলে মুসল্লিদের মাঝে কোরআন বোঝার আগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে। এ কাজটি প্রতি বছর আমাদের মসজিদে নিয়মিত করা হয়। তারাবির আগে প্রতি দিনের তেলাওয়াতের সারমর্ম ইমাম হুজুর আলোচনা করে থাকেন, এতে মুসল্লিরা কোরআনের অর্থ জেনে উপকৃত হন।

মসজিদে চলে হাফেজদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি : হাফেজ আরশাদ ইসমাইল

হাফেজ আরশাদ ইসমাইল। তারাবি পড়ানোর অভিজ্ঞতা দশ বছরের। হাফেজ হওয়ার পর কোনো বছর তারাবি পড়ানো তার বাদ যায়নি। গত রমজানে তারাবি পড়িয়েছেন মিরপুর ৬ নাম্বার সেকশনে বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদে। এ বছর কোথায় তারাবি পড়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও তারাবির মসজিদ ঠিক হয়নি।

বিভিন্ন মসজিদে খোঁজ নিচ্ছি, চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তুলে ধরেন তারাবির ইন্টারভিউয়ের ১০ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এ হাফেজ বলেন, বেশিরভাগ মসজিদে ইন্টারভিউয়ের নামে চলে হাফেজদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি। মসজিদ কমিটি বা ইমাম-মোয়াজ্জিনের নিজস্ব লোক নিয়োগ দেয়া থাকে আগেই, নামেমাত্র চলে ইন্টারভিউ ইন্টারভিউ খেলা। এতে করে যোগ্য হাফেজে কোরআন তারাবি পড়ানো থেকে বাদ পড়ে যান। মুসল্লিরা হন বঞ্চিত।

সঠিক নিয়মে তারাবির হাফেজ নিয়োগ দিলে যোগ্য হাফেজরা তারাবি পড়ানোর সুযোগ পাবেন এবং পুরোপুরি খতমে তারাবির হক আদায় হবে। মুসল্লিরা খুশি হবেন।

কোরআনে হাফেজদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। তারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পবিত্র কোরআনের ত্রিশ পারা তেলাওয়াত করে সিনায় ধারণ করে রেখেছেন। যে কোনো হাফেজে কোরআন আল্লাহর বন্ধু। যে তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে আল্লাহ তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবেন, আর যে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ধারণ করবে আল্লাহ তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখবেন। তাদের অন্তর কোরআনের আলোয় আলোকিত, তাই কোরআনে হাফেজদের প্রতি সবসময় সম্মান প্রদর্শন করা মুসলমানের কর্তব্য। আসুন আমরা বারো মাস হাফেজদের ভালোবাসি, তাদের খোঁজ নিই।

রোজায় আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে থাকি : হাফেজ মুতাসীম বিল্লাহ

হাফেজ মুতাসীম বিল্লাহ। হাফেজ হওয়ার পর থেকে একটানা আট বছর তারাবি পড়াচ্ছেন। গত রমজানে তারাবি পড়িয়েছিলেন খিলগাঁও নূরবাগ জামে মসজিদে। এ বছরও একই মসজিদে তারাবি পড়ানোর জন্য নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম তেলাওয়াতে ভুল হলে করণীয় কী?

উত্তরে তিনি বলেন, খতমে তারাবি দু’জন বা তিনজন হাফেজ রেখে পড়ানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে ইমাম হাফেজ যদি ভুল পড়েন বা ভুলে যান পেছনের হাফেজ লুকমা দিয়ে শুধরে দেবেন। এটিই নিয়ম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনেক মসজিদে ভুল পড়লেও লুকমা দেয়া বা শুধরে দেয়া হয় না। এতে কোরআনের হক নষ্ট করা হয়। হাফেজদের এ বিষয়ে খেয়াল রাখা খুবই জরুরি, নইলে তারা গোনাহগার হয়ে যাবে।

এ বছর রমজানের সময়টুকু কীভাবে কাটাবেন জানতে চাইলে হাফেজ মুতাসীম বিল্লাহ বলেন, রমজানে আমরা এক মাসের জন্য আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে থাকি। দিনভর যেহেতু মসজিদে থাকা হয় তাই ইচ্ছা করেছি অবসর পেলে আগ্রহী মুসল্লিদের কোরআন তেলাওয়াত ও কোরআনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×