হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত

  রিফাত মাহদী ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত

মুসলমানের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাবান রাত লাইলাতুল কদর। কেননা আল্লাহ তায়ালা একে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন। এই রাত প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কোরআনে সূরা কদর নামে একটি সূরাই নাজিল করেছেন।

সূরা কদরের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ

আমি একে (কোরআনকে) লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ করেছি। (হে নবী) আপনি কি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানেন? লাইলাতুল কদর হল- এক হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল আ.) অবতীর্ণ হয় পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। শান্তিপূর্ণ এ রাত, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

সূরাটি নাজিলের প্রেক্ষাপট

ইবনে আবি হাতেম (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) একবার বনী ইসরাইলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যিনি পুরো রাত ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং সারাদিন জিহাদে মশগুল থাকতেন। এমনিভাবে সে এক হাজার মাস কাটিয়ে দিল। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম বিস্মিত হলে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এই সূরা নাজিল হয়। যাতে শুধু এক রাতের ইবাদতই ওই মুজাহিদের হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

শাব্দিক ও আভিধানিক অর্থ

লাইলাতুল কদর আরবি শব্দ। এর মধ্যে লাইলাতুন অর্থ রাত বা রজনি। আর কদরের এক অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান। যার কারণে একে মহিমান্বিত রজনি বলা হয়। আবুবকর ওয়াররাক বলেন, এই রাতকে সম্মানিত রাত বলার কারণ এই যে, আগে যে ব্যক্তি আমলহীনতার কারণে মূল্যহীন হয়ে পড়েছে সে এই রাতে তাওবা, ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানিত ও মহিমান্বিত হতে পারবে। কদরের আরেক অর্থ তাকদির বা ভাগ্য। এই রাতে পরবর্তী এক বছরের বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে স্থানান্তর করা হয়। প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক ও বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেয়া হয়। হজরত ইবনে আব্বাস বলেন- মিকাঈল, ইসরাফিল, আজরাইল ও জিবরাইল এই চার ফেরেশতার কাছে দেয়া হয়।

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা

এর মর্যাদা কোরআনের আয়াতেই বর্ণিত হয়েছে। এক রাতের ইবাদত হাজার রাতের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এক হাজার মাসে তিরাশি বছরের কিছু বেশি হয়। এর শ্রেষ্ঠত্ব কতগুণ তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের এক বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি এই রাতের ইবাদতে থাকে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হজরত ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন- এই রাতে সিদরাতুল মুনতাহায়ে অবস্থানকারী জিবরাইল (আ.) দুনিয়ায় নেমে আসেন। মদ্যপায়ী এবং শূকরের মাংস ভক্ষণকারী ছাড়া সব মুমিন পুরুষ ও নারীকে সালাম করেন।

লাইলাতুল কদর কোন রাতে? কোরআন মাজিদের ভাষ্য অনুযায়ী এ কথা স্পষ্ট যে, এই রাত রমজান মাসেই রয়েছে। কিন্তু রমজান মাসের কোন রাতে লাইলাতুল কদর তা কোরআনে উল্লেখ নেই। রাসূল (সা.) বুখারির হাদিসে বলেন, তোমরা রমজান মাসের শেষ দশ দিনে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। মুসলিমের হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, শেষ দশকের বিজোড় রাতে কদর তালাশ কর।

তাই পুরো রমজানে ইবাদত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ করে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করব।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×