সবুজ গম্বুজের ছায়ায় কি মায়া

  মঈন চিশতী ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মক্কার কাবা হল মানবপ্রেমের উৎস বা পাওয়ার হাউস। আর সেই পাওয়ার হাউসের সুইচ মদিনার গম্বুজে খাজ্বরা বা সবুজ গম্বুজ। সেখানে কী আকর্ষণ তা আশেক মাত্রই জানেন। সবুজ গম্বুজের ছায়ায় কী মজা যারা সেখানে বসেন তারাই জানেন। রমজানে আসরের পর থেকে ইফতারির দস্তরখান বিছানো হয়; আশ্চর্যজনক হলেও সত্য সবুজ গম্বুজের পূর্বপার্শ্বে বাবে বেলালে কোনো দস্তরখান বিছানো হয় না। কারণ হল বেলালের উত্তরসূরি আশেকে রাসূলরা এখানে বসে থাকে ইফতারি আশায় নয় নবীর প্রেমের আশায়। ঠিক ইফতারির আগ মুহূর্তে হাতে হাতে ইফতারি দিয়ে দেয় নবীপ্রেমিকগণ।

মদিনার সবচেয়ে বড় কাজ নবীজিকে সালাম দেয়া আর চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ তাকবিরে উলার সঙ্গে মসজিদে নববীতে আদায় করা। এর বিনিময়ে নেফাক্বী বা মনের কুটিলতা দূর হওয়া আর জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্তির কথা নবীজি বলেছেন। প্রথমবার যখন হজে আসি আমাদের মুয়াল্লিম খুব সতর্কতার সঙ্গে এর গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। ইদানিং এর তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। শুধু জিয়ারত করে অনেকে চলে যান। চল্লিশ নামাজের সঙ্গে আত্মার কী সম্পর্ক তা বুঝলে এটি কেউ বাদ দিতেন না। অনেকে বলেন, এখানে আটদিন না থেকে কাবায় গিয়ে তাওয়াফ করা উত্তম। তাওয়াফ অবশ্যই উত্তম। কিন্তু নবীপ্রেমের চেয়ে তা উত্তম কি? নিজের মনের কাছে প্রশ্ন করুন নবীজিকে যিনি ঈমানের সঙ্গে দেখে ঈমান নিয়ে বিদায় হয়েছেন তিনি সাহাবীর মর্যাদা লাভ করেন। আর কাবা দেখলে এর তাওয়াফ করলে হাজীর মর্যাদা লাভ করেন। কার মর্যাদা বেশি? আর আমরা কি আবু বকর উমর উসমান আলী প্রমুখ সাহাবী রেদ্বওয়ানুল্লাহ থেকে দ্বীনি বিষয় বেশি বুঝি? ঐসব জলিলুল ক্বদর সাহাবীরা নিজ মাতৃভূমি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মক্কার তাওয়াফের মর্যাদা ছেড়ে নবীজির খেদমতে চলে এসেছিলেন।

সুযোগ পেলেই প্রেমাস্পদের কাছে ছুটে আসি বারবার : এবার মদিনার যাত্রায় আমরা পারিবারিকভাবে এলেও মক্কা হতে যে বাসে আসি সে বাসে সারা রাস্তায় চলে দরূদ এবং কাসিদা। আমি কিছু বক্তব্য রাখি। মদিনার আদবের উপর ছোট হুজুর কবি নজরুলের আমি যদি আরব হতাম মদিনার পথ গেয়ে যাত্রীদের নবীপ্রেমে মাতিয়ে তোলেন। জোহরের পরপর নেমে নবীজিকে সালাম দিয়ে আসরের অপেক্ষায় থাকি সবুজ গম্বুজের পাশে। মদিনার ভক্তরা আমার বসার স্থানে আগেই ইফতারির দস্তরখান পেতে রেখেছিল। মদিনায় ইফতারি এক এলাহীকাণ্ড। মোখতার রমজান মাদানি নামে এক আমেরিকান নাগরিক প্রায় ২৬ বছর যাবৎ মসজিদে নববীর ভিতরে ১৫৩ নং জুতার বাক্সের কাছে প্রায় হাজারখানেক হাজীর ইফতারির আয়োজন করেন। তার সঙ্গে ধৈবাৎ সাক্ষাৎ হলে একদিন বাধ্য হয়ে ইফতার করি। তিনি আতর হাদিয়া দেন। আমি হাতে আংটি হাদিয়া দেই। এখানের নিয়ম হল যে, যেখানে আয়োজন করবেন সারা রমজান তাকে সেখানে ইফতারির আয়োজন করতে হবে। মসজিদের চারপাশে এর আয়োজন চলে। যাদের দস্তরখান মসজিদের যত কাছে তারা সামাজিকভাবে এখানে ততো মর্যাদার অধিকারী। আমাদের দেশে ইফতার মাহফিল পার্টি সেন্টার বা হোটেলে আয়োজন করে রাজনৈতিক রূপ দেয়া মর্যাদার প্রতীক ধরা হয়। এমন কি ইসলামী দলগুলো তেমনটি করে। অথচ ইফতার একটি ইবাদত এটি মসজিদে হওয়াই উত্তম। আমরা সেই এবাদতকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে রোজাকে হালকা করে দিচ্ছি। মদিনা এলে বিষয়টি বুঝা যায়, এই এবাদতকে তারা কতটা তাকওয়ার সঙ্গে গ্রহণ করেছে। (মদিনা চত্বর থেকে লেখা)

লেখক : ধর্মচিন্তক সুফি ও গবেষক

Email : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×