মোহাম্মাদী তরিকাই হচ্ছে ইসলাম

  সৈয়দ হুমায়ূন কবীর ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদম (আ.) প্রথম মানুষ এবং নবী। মানুষের জন্য ধর্মীয় মহাকাল আরম্ভ হয়েছে আদম (আ.) থেকে। ধর্মীয় মহাকাল চলবে কিয়ামত পর্যন্ত। ধর্মীয় মহাকালে বেলায়েতি জামানায় মহানবী-বিশ্বনবী-নুর নবীর বংশধর আওলাদে রাসূলরা সমগ্র সৃষ্টিসমূহের ওপর শ্রেষ্ঠ (৩ঃ৩৩ আয়াত অনুযায়ী)। আওলাদে রাসূলদের সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্বই হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকা। আল্লাহ প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে মোহাম্মাদ (সা.)-এর জবানে- মোহাম্মাদ (সা.) প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকায়। হাদিস-৩৭২৪।

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে তাঁর বিদায় হজে আরাফাতের দিন তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রিতে আরোহণ অবস্থায় খুতবা দিতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছি, হে লোক সকল। অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে গেলাম তোমরা তা ধারণ বা অনুসরণ করলে কখনও গোমরাহ হবে না। আল্লাহর কিতাব (আল-কোরআন) এবং আমার ইতরাত অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। -তিরমিজি শরিফ হাদিস-৬০৬৭।

হজরত যায়েদ ইবনে আকরাম (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী ‘খুম্ম’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও ছানা বর্ণনা শেষে ওয়াজ-নসিহত করলেন। তারপর বললেন, সাবধান, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা আসবে, আর আমিও তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের কাছে ভারী দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হল আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অবলম্বন কর, একে শক্ত করে ধরে রেখ। এরপর তিনি কোরআনের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন। তারপর বলেন, আর দ্বিতীয়টি হল আমার আহলে বাইত। আর আমি আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতের ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। -মুসলিম শরিফ- হাদিস-৩৭২৬।

হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তভাবে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনও গোমরাহ হবে না। তার একটি অপরটির চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ্র কিতাব যা আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত প্রসারিত এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও পৃথক হবে না কাওসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব, তোমরা লক্ষ কর আমার পরে এ দুইয়ের সঙ্গে তোমরা কি রকম আচরণ কর। (মুসলিম)-তিরমিজি শরিফ।

স্থান-কাল উল্লেখপূর্বক সাহাবি বর্ণিত রাসূলে পাকের মুখ নিঃসৃত বাণীকে বাদ দিয়ে অথবা পাশ কাটিয়ে অন্য কারও কথা প্রচার করা উম্মতে মোহাম্মাদের কাজ হতে পারে না। আল্লাহ প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকায় ও মোহাম্মাদ (সা.) প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকার অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছে এসব বাণীতে। কোরআনকে মর্যাদা দিলে কোরআন মতে নবী বংশ- আহলাল বাইত-আওলাদে রাসূলদের মর্যাদা ও গুরুত্ব দিতে হবে।

কোরআনের মর্যাদা ও গুরুত্ব কোরআনেই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। নবী বংশ-আহলাল বাইত-আওলাদে রাসূলের সুমহান মর্যাদা ও গুরুত্ব আল্লাহর কোরআনই ধরে রেখেছে মানুষের জন্য। আল্লাহর কোরআন ও নবী বংশ এবং আওলাদে রাসূলদের প্রতি ভালোবাসা আনুগত্যশীলতাই মোহাম্মাদী তরিকা বা নবীর তরিকা।

রাসূলে পাকের ওফাতের পর ১৪০০ বছর ধরে নানা দোহাই দিয়ে ছোট-বড় সব অপকির্তিকে বৈধ করে নেয়া হচ্ছে- নবীর তরিকাকে পদদলিত করা হচ্ছে। আল্লাহ প্রদত্ত এবং নবী প্রদত্ত মোহাম্মাদী তরিকাকে অবজ্ঞা করে কখনও উম্মতে মোহাম্মাদ হওয়া যাবে না- সম্ভব নয়। নামাজের নির্দিষ্ট ও সঠিক কোনো রূপ রেখা রাসূলপাক রেখে যাননি।

হাদিসে আছে ‘সালাতে মুমিন বান্দার মেরাজ হয়।’ মুমিন বান্দার এই মেরাজ কার সঙ্গে হয়? আল্লাহর সঙ্গে এই মেরাজ হয় না রাসূল পাকের সঙ্গে এই মেরাজ হয়। কোরআনের এই আয়াত থেকে যা বোঝা যায় তা হচ্ছে ‘তোমরা নামাজসমূহের প্রতি বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের প্রতি যত্নবান হও। আর বিশেষ আনুগত্যের সঙ্গে আল্লাহর জন্য দাঁড়াও।’ (২:২৩৮)

‘আপনি বলুন, আমি তেমাদের শুধু একটি উপদেশ দিচ্ছি, তা হচ্ছে এই যে, তোমরা আল্লাহ্র নামে দু’ দু’জন করে ও এক একজন করে দাঁড়িয়ে যাও! তার পর তোমরা চিন্তা করে দেখ। তোমাদের সাথী তো কোনো পাগল নন, তিনি তো আসন্ন কঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ককারী ছাড়া আর কিছুই নন।’ (৩৪:৪৬)

এই আয়াতে দেখা যাচ্ছে নামাজে দাঁড়াতে হবে আল্লাহর জন্য। কিন্তু (৩৪:৪৬) আয়াতে বলা হয়েছে চিন্তাভাবনা করতে হবে রাসূল (সা.) কে নিয়ে। এই আয়াতগুলোয় বিষয়টি সুস্পষ্ট।

‘(আল্লাহ্তায়ালা) তিনি তাদের সামনের ও পেছনের সব কিছু জানেন অথচ তারা তাঁকে জ্ঞান দিয়ে আয়ত্ত করতে পারবে না।’ (২০:১১০)

‘তাঁকে কারো দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করতে পারে না। তিনি দৃষ্টিকে আয়ত্ত করেন; তিনি সূক্ষ্মদর্শী জ্ঞানময়।’ (৬:১০৩)

‘অবশ্য তোমার কাছে এসেছে রবের পক্ষ থেকে জ্ঞান-চক্ষু। সুতরাং যে দেখে, কল্যাণ তারই; অন্ধ সাজলে তারই ক্ষতি আর আমি পর্যবেক্ষক নই।’ (৬:১০৪)

কোরআনের এসব আয়াতে (৩৪:৪৬) বুঝা যাচ্ছে নামাজে-সালাতে রাসূল (সা.) কে বুঝতে হবে। আয়াত নম্বর (২০:১১০, ৬:১০৩, ৬:১০৪) তে বুঝা যাচ্ছে আল্লাহকে জ্ঞান দিয়ে আয়ত্ত করা যাবে না, চোখ দিয়ে আল্লাহকে দেখা যাবে না, তবে আল্লাহর জ্ঞান-চক্ষু বিশিষ্ট রাসূল (সা.) কে দেখলে কল্যাণ তারই, অন্ধ সাজলে সে ইহকালেও অন্ধ, পরকালেও অন্ধ। সরাসরি আল্লাহকে দেখার কোনো উপায় নেই নবী-রাসূল ছাড়া। বাস্তবে হোক স্বপ্নে হোক সালাতে হোক আল্লাহকে দেখার কোনো উপায় কায়দা পদ্ধতি নেই। বাস্তবে স্বপ্নে সালাতে রাসূল (সা.)কেই দেখতে হবে। সালাতে নামাজে রাসূল (সা.)-এর সঙ্গেই মেরাজ হবে মুমিন বান্দা নামাজে/সালাতে রাসূল (সা.)কে দেখবেন।

লেখক : টোপেরবাড়ী দরবার শরিফ, ধামরাই

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×