মানবকল্যাণে চ্যারিটেবল হাসপাতাল

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহম্মদ রুহুল আমিন খান

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে মানব সভ্যতার যেমন উন্নয়ন হয়েছে তেমনই উদ্ভব হচ্ছে ভয়াবহ নানা রোগ-ব্যাধির। ক্যান্সার, ব্রেইন টিউমার, এইডস সার্স মার্সসহ আরও কত রোগ-ব্যাধি। উন্নত দেশের রোগীরা এসব ভয়ানক রোগের চিকিৎসা যথাসময়ে নিতে পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশের রোগীদের এমন ভয়াবহ রোগের চিকিৎসা যথাসময়ে নেয়ার সুযোগ এখনও সৃষ্টি হয়নি। তবে যারা সামর্থ্যবান তারা বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নিতে পারেন। কিন্তু যাদের সামর্থ্য নেই তারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে আবার অনভিজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে ‘জীবন ও সহায়-সম্পত্তি’ হারাচ্ছেন।

রোগ-ব্যাধি কখনও পারিবারিক অবস্থা দেখে আসে না। সচ্ছল পরিবারের পক্ষেও অনেক রোগের চিকিৎসা খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। ফলে সাহায্যের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। তাই সব নাগরিকের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক চ্যারিটেবল হাসপাতাল। এ হাসপাতাল এমন হবে যেখানে ডাক্তারের চিকিৎসাসেবা প্রাধান্য পাবে, মানবিকতা ও মানবসেবার মনোভাব। ডাক্তারের অবহেলা ও অর্থ লিপ্সা থাকবে না। ডাক্তার কিংবা নার্স কারও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হবে না রোগী বা তার অভিভাবককে।

ধর্মের দৃষ্টিতেও জনকল্যাণ বা মানবসেবামূলক সব কাজই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। তাই জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো চ্যারিটেবল হাসপাতাল গড়া গেলে তা হবে সদকায়ে জারিয়া।

এ সদকার সওয়াব নির্মাতার মৃত্যুর পরও চালু থাকবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না- ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন ইলম- যার মাধ্যমে উপকৃত হওয়া যায় ও ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম)।

সদকা শব্দের অর্থ দান করা এবং জারিয়া অর্থ প্রবাহমান, সদাস্থায়ী ইত্যাদি। আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কল্যাণকর কাজে দান করা জরুরি।

রোগ-ব্যাধিতে জর্জরিত হয় নিুবিত্ত মানুষ। কোনো রোগের ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। জীবন বাঁচাতে মহাবিপদে পড়েন তারা। আর তাদের এ মহাবিপদ দূর করতে পারে চ্যারিটেবল হাসপাতাল। যারা মানুষের বিপদ দূর করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের বিপদ দূর করে দেবেন। রাসূল (সা.) বলেন, যে লোক কোনো মুসলমানের দুনিয়াবি বিপদাপদের মধ্যে একটি বিপদও দূর করে দেয়, আল্লাহতায়ালা তার পরকালের বিপদাপদের কোনো একটি বিপদ দূর করে নেবেন। যে লোক দুনিয়াতে অন্য কারও অভাব দূর করে দেয়, তার দুনিয়া ও আখিরাতের অসুবিধাগুলোকে আল্লাহতায়ালা সহজ করে দেবেন। যে লোক দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ-ত্রুটিকে গোপন রাখে, আল্লাহতায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে পর্যন্ত বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় থাকে, সে পর্যন্ত আল্লাহতায়ালাও তার সাহায্য-সহযোগিতায় থাকেন। (সহিহ মুসলিম)।

বাংলাদেশে ভালো মানের দাতব্য বা অলাভজনক কোনো হাসপাতাল নেই। হাসপাতাল ছাড়া কি অসুস্থের সেবা নিশ্চিত করা যাবে! তাই মধ্যবিত্ত, নিুবিত্ত সবার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন একটি আন্তর্জাতিক মানের চ্যারিটেবল হসপিটাল।

ভারতের তামিলনাড়ু প্রদেশের ভেলোরে আছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিখ্যাত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (CMC)। যেখান থেকে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ কম খরচে ভালো মানের চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নেয়ার জন্য সিএমসি হাসপাতালে যান। সেখানের চিকিৎসার মান খুব ভালো। সেখানের রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের আচরণ আপন মা-বাবার আচরণের মতো মানসিক প্রশান্তি দায়ক।

হজরত মুহাম্মাদ (সা.) সারা জীবন মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। এবং এ কাজে তিনি তার উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। আমরা কি পারি না মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে?

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা