মসজিদের গ্রাম বেরাইদ

  আল ফাতাহ মামুন ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মসজিদের গ্রাম

ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। তাহলে মসজিদের গ্রাম কোনটি? এমন প্রশ্ন তো উঠতেই পারে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনরে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড বেরাইদকে ‘মসজিদের গ্রাম’ বললে খুব একটা ভুল হবে না। ছোট্ট এই গ্রামে প্রাচীন ও নতুন মসজিদের সংখ্যা এক ডজনেরও বেশি। শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর আর কোনো গ্রাম বা ওয়ার্ডে এত সংখ্যক প্রাচীন ও নতুন মসজিদের সমাহার ঘটেছে কিনা বলা মুশকিল।

বেরাইদের সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদের নাম ‘বেরাইদ ভূঁইয়াপাড়া জামে মসজিদ’। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর একটি। বাংলায় সুলতানি আমল শুরু হয় ১২ শতকে। শেষ হয় ১৬ শতকে। প্রত্নতত্ত্ববিদ আবুল খায়ের বলেন, বেরাইদ ভূঁইয়াপাড়া মসজিদ ঠিক কোন সালে নির্মাণ তা বলা মুশকিল। তবে মসজিদে কারুকার্য এবং নির্মাণশৈলী দেখে অনুমান করা যায় এটি সুলতানি আমলের শেষ সময়ে নির্মাণ হয়ে থাকবে। ঠিক একই সময়ে বিক্রমপুরের বাবা সালেহ মসজিদ (১৫০৫) এবং সোনারগাঁর গেয়ালদি মসজিদ (১৫১৯) নির্মাণ হয়।

এক গম্বুজবিশিষ্ট ভূঁইয়াপাড়া মসজিদটি বর্গাকার গঠনে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটি সংস্কার করে পরিধি বাড়ানো হয়েছে একাধিকবার। তবে মসজিদের আদি অংশ এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। অক্ষুণ্ণ অংশটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর কতৃক সংরক্ষিত।

প্রাচীনত্বের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মোড়লপাড়া জামে মসজিদটি। এটি নির্মাণ হয় ১৮৩৩ সালে। শুরুর দিকে এটি একতলা পাকা মসজিদ ছিল। মসজিদের কোনো গম্বুজ ছিল না। পরে এটি সংস্কার করে দোতলা করা হয়। প্রায় একশ বছর আগে বেরাইদের ধর্মদরদী হাজী আবদুল জব্বার মিয়ার উদ্যোগে এ মসজিদের বারান্দায় দারুল হাদিস নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদ্রাসাটির অস্তিত্ব এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

১৮৯৩ সালে বেরাইদের পূর্বপাড়ায় নির্মাণ হয় দৃষ্টিনন্দ আরেকটি মসজিদ। মসজিদের নাম বেরাইদ পূর্বপাড়া মসজিদ। বালু নদের তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদটি। বর্ষার মৌসুমে দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন পানির ওপর ভাসমান মসজিদ। নদীপথে যারা যাতায়াত করেন, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন বেরাইদ পূর্বপাড়া মসজিদের দিকে। এ মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, নারীদের জন্য আলাদা নামাজের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

বেরাইদের অন্য মসজিদগুলো হল- আগার ও চটকীপাড়া মসজিদ, আসকারটেক জামে মসজিদ, চিনাদীপাড়া জামে মসজিদ, আরৈদ্দাপাড়া জামে মসজিদ, বায়তুল মাহফুজ জামে মসজিদ, ছোট বেরাইদ মসজিদ, পাঁচদিরটেক আহলে হাদিস মসজিদ, পশ্চিমপাড়া মসজিদ, ভূঁইয়ানগর মসজিদ, ফকিরখালি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং ফকিরখালি বাইতুল মামুর জামে মসজিদ।

মসজিদে সমৃদ্ধ বেরাইদকে নিয়ে ইতোপূর্বে দেশের প্রতিটি প্রধান কাগজ বিভিন্ন সময়ে ফিচার ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বেরাইদের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং মসজিদের বর্ণনা সমৃদ্ধ ফিচারগুলো একসঙ্গে করে একটি সংকলন করেছে বেরাইদের কৃতী সন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া। সংকলন গ্রন্থে বেরাইদের ইতিহাস এবং প্রতিটি মসজিদের সচিত্র বর্ণনা নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। সংকলনটি এ বছরের ২৬ মার্চে প্রকাশ হয়। ভূমিকায় লেখক বলেন, সম্প্রতি বেরাইদ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়। বেরাইদ এখন আর গ্রাম নয় ওয়ার্ড। তবুও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে আমরা সংকলনটির নাম রেখেছি ‘মসজিদের গ্রাম বেরাইদ।’

‘মসজিদের গ্রাম বেরাইদ’ উৎসর্গ করা হয়েছে বেরাইদের জনমানুষের নেতা পাঁচ পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ একেএম রহমতুল্লাহকে। মসজিদের ওপর এমন তথ্যবহুল সংকলটির মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র ১২৫ টাকা। বেরাইদ পাঠাগার ও আর্কাইভের উদ্যোগে প্রকাশিত সংকলনটি পেতে যোগাযোগ করুন ০১৭১১১৭১৮১৯ এই নম্বরে।

Email : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×