উপার্জন পবিত্র হলে সুন্দর হবে জীবন

  হাফেজ আরমান হোসেন ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তিনিই মহান সত্তা, যিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছেন। (সূরা বাকারা : ২৯)।

তিনি মানুষকে দিয়েছেন পূর্ণ স্বাধীনতা, যা তার এখতিয়ারভুক্ত। ফলে প্রত্যেকে স্ব-স্ব যোগ্যতা, মেধা, শ্রম ও সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। পবিত্র কোরআনে সালাতের পাশাপাশি জাকাত তথা অর্থের উল্লেখ হয়েছে ৮২ স্থানে। আল্লাহ অর্থনৈতিক বিধান দিয়েছেন। ফলে কোরআনুল কারিমকে একটি অর্থবিদ্যাবিদ বললেও ভুল হবে না।

মানুষ কীভাবে উপার্জন করবে, কোন পথে তা ব্যয় করবে এবং উপার্জনে যাবতীয় অর্জনীয় ও বর্জনীয় গুণাবলীর সম্পর্কে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাই তো ব্যক্তির উপার্জিত সম্পদে তিনি জাকাত ফরজ করেছেন, যেন সম্পদ এক শ্রেণির লোকের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে। আল্লাহতায়ালা ফরজ ইবাদত শেষে জীবিকার জন্য জমিনে ছড়িয়ে পড়তে বলেছেন।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে এবং আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুময়া : ১০)।

আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ জানেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, কেউ আল্লাহর অনুগ্রহের সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। (সূরা মুয়জাম্মিল : ২০)।

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য ও রিজিক উপার্জনের বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য পৃথিবী ভ্রমণ করে।

এ ছাড়া স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করেছেন, আর ভিক্ষাবৃত্তিকে তিনি নিন্দা করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তার রশি নিয়ে চলে যাক, পিঠে কাঠের বোঝা বহন করে এনে বিক্রয় করুক এবং তার চেহারাকে আল্লাহর আজাব থেকে বাঁচিয়ে রাখুক, এটা তার জন্য মানুষের কাছে ভিক্ষা করার চেয়ে উত্তম।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-১০৪২)।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায় সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যার মুখমণ্ডলে এক টুকরো গোশতও থাকবে না।

দুস্থ মানবতার সেবায় দান করার রীতি ইসলামে রয়েছে। তবে ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা ইসলামে মানা করেছে।

হালালভাবে উপার্জন করাকে সর্বোত্তম উপার্জন বলেছে ইসলাম।

হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সর্বোত্তম উপার্জন কোনটি? জবাবে তিনি বলেছেন, সৎ উপার্জন ও সততার ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় সর্বোত্তম। (মুসনাদে আহমাদ খ. ৪, পৃ. ১৪১)।

নবী রাসূলগণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা নিজ হাতে কাজ করেছেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম জীবনে ছাগল চরানোর কাজ করতেন।

লেখক : শিক্ষার্থী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা ডেমরা

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×