সোনারগাঁয়ের পাঁচপীর দরগাহ মসজিদ

  শাহ মোহাম্মদ মাজহারুল হক ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলার প্রচীন রাজধানীখ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নিদর্শন। তেমনই এক নিদর্শন পাঁচপীর দরগাহ মসজিদ।

সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ভাগলপুর গ্রামে চতুর্দশ শতকের ঐতিহাসিক এ স্থাপনা সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম নিদর্শন তাজমহলের আদলে নির্মিত। মোগল স্থাপত্য কলার অনুপম কারুকাজে গড়া মসজিদটি দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ভিড় করে।

অনেক বিখ্যাত পর্যটক এ মসজিদের অবস্থান নিয়ে লিখেছেন, ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম ভাগলপুর। পারস্য থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে আসা পাঁচপীর আওলিয়া আর দরবেশের দরগাহ রয়েছে এ গ্রামে। এ দরগাহের পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ওই মসজিদটি যা পাঁচপীর দরগাহ মসজিদ নামে পরিচিত।

সংস্কারের অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি। সরকারি কোনো আর্থিক অনুদান না পাওয়ায় দিনে দিনে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে কালের সাক্ষী এ মসজিদটি। পাঁচপীর দরগাহ মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা মোহাম্মদ আল মাহবুব নিজ উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।

আল মাহবুব জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতা আর নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার কাজে হাত দিলেও অনেক টাকার প্রয়োজন। এ ছাড়া সমজিদ সংলগ্ন কয়েক বিঘা জমি রয়েছে যাতে একটা মাদ্রাসা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকার যে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সোনারগাঁয়ের এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটিকেও মডেল মসজিদের প্রকল্প থেকে আর্থিক অনুদান দিয়ে এর সংস্কার কাজে সহায়তা করা হোক। ভাগলপুরের পার্শ্ববর্তী শাহচিলাপুরে রয়েছে আরেক ঐতিহাসিক নিদর্শন- বারোভূঁইয়াদের অন্যতম সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের মাজার। এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাগলপুরের প্রবীণ মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ জামাল মোল্লা বলেন, পাঁচপীরের ভক্ত শুধু বাংলাদেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান ও মেদিনীপুর জেলা পর্যন্তও রয়েছে।

পূর্ববাংলার উপকূলীয় জেলার নাবিকরা নৌযাত্রার আগে আপদ-বিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য পাঁচপীরকে স্মরণ করত। পর্যটকরা এখনও পাঁচপীর দরগাহ পরিদর্শনে আসেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁগামী একাধিক কাউন্টার সার্ভিস বাস আছে। এসব বাসে করে মাত্র ৪০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের সোনাখালী অথবা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে রিকশায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ভাগলপুর গ্রাম। সুন্দর এ গ্রামটিতে রয়েছে মোগল আমলের চমৎকার ওই নিদর্শন, যা দেখে যে কারও নয়ন জুড়িয়ে যাবে।

লেখক : আইনজীবী

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×