নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করি

  আমাতুল্লাহ তামান্না ০২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দোয়া

ত্যাগ ও বিসর্জনের বার্তা নিয়ে আসছে কোরবানির ঈদ। এ প্রথা মুসলিম উম্মাহর পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ইবাদত। প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় দশ বছরই কোরবানি করেছেন। অধিকাংশ সাহাবি আর্থিকভাবে দুর্বল ছিলেন। কোরবানি দেয়ার মতো তাদের সামর্থ্য ছিল না। তারা সাওয়াবের আশায় কোরবানি করতেন। পুণ্যের আশায় সম্পদ বিসর্জন দিতেন।

কারণ কোরবানির মাধ্যমে সহজে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আল্লাহকে খুশি করা যায়। কোরবানি মুমিন-হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে। ত্যাগ ও বিসর্জনের মানসিকতা সৃষ্টি করে। তাই ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবারই কোরবানি দেয়া উচিত।

হাদিস শরিফে কোরবানির তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে এভাবে- ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.) কে তার কোরবানির কাছে উপস্থিত থাকতে বলেন এবং ইরশাদ করেন, এ কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা তোমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেবেন। তিনি জানতে চাইলেন হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি শুধু নবী-পরিবারের জন্য নাকি সব মুসলিমের জন্য?

তিনি উত্তরে বলেন, এ মর্যাদা সব মুসলিমের জন্য। -(মুসনাদে বাযযার, আত্তারগিব ২/১৫৪)।

কোরবানিদাতাকে আল্লাহতায়ালা কোরবানির পশুর পশমের পরিমাণ নেকি দান করবেন। এটি কত বড় পুরস্কার তা বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝতে পারবেন। কারণ একটি কোরবানির পশুর শরীরে কত লাখ পশম থাকে তা আল্লাহই ভালো জানেন। একসঙ্গে একজন মুসলমানের আমলনামায় এত বিশাল নেকির প্রাপ্তি জমা হওয়া কতই না আনন্দের! বান্দাকে পরকালে চিরস্থায়ী সুখের ঠিকানা বলে দেয়।

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, কোরবানি বান্দা এবং জাহান্নামের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কোরবানিদাতাকে সে জাহান্নামে যেতে দেয় না। হজরত হুসাইন বিন আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সাওয়াব পাওয়ার আশায় খুশি মনে কোরবানি করবে, এ কোরবানি তার এবং জাহান্নামের মাঝে প্রতিবন্ধক হবে।’-(আলমুজামুল কাবির, তাবরানি; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব : ১৬৫১)।

প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানেরই উচিত কোরবানি করা। কোরবানির মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার পথ সৃষ্টি করা। কোরবানি মুসলমানকে অনেক কিছু শেখায়- অগণিত নেকি, আল্লাহর ক্ষমা, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি, ত্যাগ ও বিসর্জনের মানসিকতা এবং আল্লাহর ভয়।

ত্যাগ ও বিসর্জনের এ মানসিকতা হৃদয়ে ধারণ করে আসুন কোরবানি করি। নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করি। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো মুসলমানই যেন কোরবানির এ তাৎপর্য থেকে বিরত না থাকি। মনে রাখতে হবে কোরবানি করা যেমন পুণ্যের কাজ তেমনি সামর্থ্য থাকার পরও কোরবানি না করা অনেক বড় গুনাহের কাজ।

লেখিকা : শিক্ষার্থী, মাস্টার্স-ইসলামিক স্টাডিজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×