তিন তরুণ হাফেজের হজযাত্রা

  আসিফ আসলাম ০২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হজ

হাফেজ মুহাম্মদ আমের হাসান

প্রশ্ন : এই প্রথম হজে যাচ্ছ, কেমন লাগছে?

উত্তর : কিছু কিছু আনন্দ আছে, যেগুলো মুখে প্রকাশ করা যায় না। এটা হচ্ছে সে রকমই একটা আনন্দ, শুধু এতটুকু বলি, সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

প্রশ্ন : এই ছোট্ট বয়সে বাইতুল্লাহর প্রতি ভালোবাসা কার অনুপ্রেরণায়?

উত্তর : আমার মাদ্রাসার শিক্ষকরা প্রায়ই নবীজি (সা.)-এর কথা বলেন, বাইতুল্লাহর কথা বলেন, মদিনার কথা বলেন। আমি সিরাতেও পড়েছি, ছোট ইসমাঈলের গল্প পড়েছি। ছোট্ট ছোট্ট সাহাবার কাহিনী পড়েছি। আর তখন থেকেই মক্কা-মদিনার প্রতি একটা টান অনুভব করি। প্রবল টান। আমার এক বন্ধু গত বছর হজে গিয়েছিল। তার মুখে বাইতুল্লাহ সফরের গল্প শুনে আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।

প্রশ্ন : তোমার সঙ্গে আর কে কে যাচ্ছে?

উত্তর : আমি আমার আব্বু-আম্মুর সঙ্গে যাচ্ছি ৪০ দিনের সফর, দোয়া করবেন, যেন সহিহ সালামতে সফর শেষ করতে পারি।

হাফেজ মুহাম্মদ আবু রায়হান

প্রশ্ন : আল্লাহর ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন কবে থেকে দেখছিলেন?

উত্তর : বুঝ হওয়ার পর থেকেই দেখতাম। আব্বা আমাদের বাইতুল্লাহর গল্প বলতেন, রাসূলের গল্প শোনাতেন। আল্লাহর দরবারে প্রায়ই কাঁদতে থাকতেন, যেন আল্লাহ তাকে বাইতুল্লাহর জন্য কবুল করেন। কিন্তু তিনি যেতে পারেননি। এর আগেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু আমার অন্তরে বাইতুল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বীজ বুনে গেলেন। সেই টান থেকেই হজে যাওয়া।

প্রশ্ন : শুনলাম, ঋণ নিয়ে হজে যাচ্ছেন?

উত্তর : হ্যাঁ, আমার খুব কাছের এক ভাই (আল্লাহর তার ওপর রহম করুন) আমাকে বেশ কিছু টাকা ঋণ দিয়েছেন। ছোট বয়স থেকে হজের উদ্দেশ্যে অল্প অল্প করে কিছু টাকা সঞ্চিত ছিল। সব মিলিয়ে হজের সফরের খরচের ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : কোনো দিক থেকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

উত্তর : আল্লাহর শোকর, আমার কোনো সমস্যা হয়নি। তবে চতুর্দিক থেকে কিছু কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা শুনে কষ্ট লাগে। আমার দূর সম্পর্কের এক ভাই হজে যাওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছিলেন, গ্রাম থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকায় এসে দেখে সেখানে কোনো ট্রাভেলস অফিস নেই। সব হাওয়া, এটা খুবই দুঃখজনক। এসব কুচক্রীদের সাজা দেয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম

প্রশ্ন : হজে রওনা হওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন?

উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এ ছাড়া যারা আগে হজ করেছে তাদের থেকে শুনেও কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেটা হচ্ছে, আমাদের দেশের ট্রাভেলসগুলোর খুবই খারাপ অবস্থা। তারা হজযাত্রীদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় তা পূরণ করে না। কাবাঘরের মেহমানদের থাকা-খাওয়া সব ক্ষেত্রে কষ্ট সহ্য করতে হয়। সেই মানসিকতা নিয়েই যাচ্ছি।

প্রশ্ন : যদি এমনটাই হয়, তাহলে ট্রাভেলসগুলো থেকে এত এত মানুষ কেন যাচ্ছে?

উত্তর : আসলে আমাদের দেশের ট্রাভেলসগুলো ব্যবসায় অধিক লাভের জন্য অনেক কিছু করে। হজের সময় তারা বেছে বেছে বিভিন্ন বড় মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস ও মসজিদের খতিবদের ফ্রিতে হজে নিয়ে যায়। সেই হুজুর যেই ট্রাভেলসে যাচ্ছেন তার মুসল্লি অথবা ভক্তদের সেই ট্রাভেলসে যাওয়ার জন্য ভিড় পড়ে যায়। কারণ সবাই চায়, যতই কষ্ট হোক তার হজটা কোনো হক্কানি আলেমের তত্ত্বাবধানে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক।

প্রশ্ন : আপনার শুভযাত্রা কামনা করছি। আশা করছি পবিত্র শহরগুলোয় দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করতে ভুলবেন না।

উত্তর : সেটা তো অবশ্যই- প্রথমবার হজে যাচ্ছি। সেখানের প্রতিটি বরকতময় স্থানে দেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও জাতির সুখ, সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করব ইনশাআল্লাহ।

লেখক : প্রাবন্ধিক, শিক্ষার্থী, রাহমানিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা

ঘটনাপ্রবাহ : হজ ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×