পাঠক কলাম

মুসলিম দেশে বৃদ্ধাশ্রম কেন

  খায়রুল আহসান মারজান ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি সংস্কৃতি পরিবারকেন্দ্রিক। পরিবারপ্রধান বাংলাদেশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হলেও বাংলাদেশে এই পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা অতুলনীয়। দুঃখের বিষয় হল, বর্তমানে এ পারিবারিক বন্ধন শিথিল হতে চলেছে পশ্চিমা দেশের অনুকরণে এ দেশেও গড়ে উঠছে আজকাল বৃদ্ধাশ্রম।

সরকারি হিসাব মতে, দেশে এখন সরকারি ছয়টি এবং বেসরকারি পনেরোটি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। এখানে ৭০ শতাংশই নারী। নারী জাগরণের এ মাহেন্দ্রক্ষণেও শেষ বয়সী নারীদের এ করুণ দৃশ্য অকল্পনীয়। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সন্তানরা পিতা-মাতার ওপরে নির্ভরশীল থাকে বলে তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ মনে করে। অথচ প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে এ সন্তানদেরই একটি অংশ মা-বাবাকে ভুলে গিয়ে ফেলে দিয়ে সংসার নামক নতুন রাজ্য গড়ে। স্ত্রী-সন্তানের এ রঙিন রাজ্যে তখন সাদাকালো যুগের বুড়া-বুড়ির কোনো জায়গা হয় না। অথচ মা-বাবা যতক্ষণ সক্ষম থাকেন; যন্ত্রের মতো সংসারের ঘানি টেনে যান। কিন্তু যখনই তারা অক্ষম হয়ে পড়েন; সন্তানদের সাহায্য দরকার হয়; তখনই এ শ্রেণির সন্তানরা তাদের বোঝা মনে করতে থাকে। একটু ভেবেও দেখে না যে, অক্ষম, অসহায় ছোট্ট সেই অবুজ বয়সে আমাদের সক্ষম করে তুলতেই পিতা-মাতা তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু বিলিয়ে দিয়েছেন। খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্ট করে আমাদের লালন-পালন করেছেন। অথচ তিলে তিলে গড়া এই সংসারে আজ তারাই যেন বহিরাগত।

কখনও বা সন্তান মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যান। কখনও পিতা-মাতাই বাধ্য হয়ে চলে যান নিঃসঙ্গ, নীরব, ভালোবাসাহীন বৃদ্ধাশ্রম নামক বনবাসে। সেখানকার ছোট্ট কুঠুরিতে বসেই জীবনের শেষ সময়গুলো পার করেন।

বৃদ্ধাশ্রম নামক জঘন্য প্রথা থেকে মুক্তির জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রথমত পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধে দীক্ষিত করা। যাতে করে ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ বুঝতে পারে এবং প্রবীণ বয়সে এ সন্তানই আপনাকে বোঝা মনে না করে। তাড়াহুড়া করে মৃত্যুর আগেই সন্তানদের মাঝে সম্পদ বণ্টন না করলে বৃদ্ধাশ্রম থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

বিষয়টি মানবতার। বিষয়টি দায়িত্ব, সহানুভূতি ও ভালোবাসার। পারিবারিক সমাজব্যবস্থা আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি। এখন সময় এসেছে এই সংস্কৃতিকে মজবুত করে ধরে রাখার। তাই সবার উচিত এ বৃদ্ধাশ্রম নামক অপসংস্কৃতিকে সামাজিকভাবেই প্রতিহত করা।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×