ধর্মভীরু তরুণ ধর্মবীর হোক

  আল ফাতাহ মামুন ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজকের তরুণদের আড্ডায় নারী থেকে শুরু করে হেন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে আলোচনা হয় না। শুধু একটি বিষয় আড্ডায় আসে না, কখনও-সখনও যদি এ বিষয়ে কোনো কথা ওঠে তা বেশি দূর এগোয় না- বিষয়টি হল ইসলাম ধর্ম। আমি আর কাউসার ছাড়া অন্যদের কাছে ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাও পরিষ্কার নয়। তাই এরা কেউ ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও তা বেশি দূর এগোয় না। এগোতে পারে না। যে বিষয়ে জানা নেই, ওই বিষয়ে ওরা আর কী বলবে- এ কারণেই আজকালকার আড্ডায় ধর্ম ‘দুর্লভতম’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

একদিন আড্ডায় কাউসার মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ার বিষয়ে কথা তোলে। কাউসার বলে নোবেল বিজয়ী আবদুল সালামকে একবার প্রশ্ন করা হল, বর্তমান বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি থেকে মানবতার কল্যাণের কোনো দিকে মুসলমানদের যুগান্তকারী অবদান নেই কেন? আবদুস সালাম তখন পাকিস্তানের একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করছিলেন। আগের প্রশ্নটি শেষ না হতেই আরেকটি প্রশ্ন তার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। প্রশ্নটি ছিল, বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানের এমন অভূতপূর্ব সাফল্যে মুসলমানদের কোনো অবদান কেন নেই? কেন মুসলমান আজ সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারছে না? ড. আবদুস সালাম এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।

কাউসার শেষ করতেই আমি বললাম, তোমাদের মতো মেধাবী তরুণদের এগিয়ে না এলে আবদুস সালামদের মাথা কখনই উঁচু হবে না। তোমরা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছ, যদি ধর্মটাও রপ্ত করতে পার তাহলে আশা করা যায় আবার জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের সোনালি দিন ফিরে আসবে। আমরা ধর্ম সম্পর্কে খুব একটা জানি না এটা সত্যি। কিন্তু জানার বা গবেষণার আগ্রহ যে নেই তা কিন্তু নয়। আমাদেরও ইচ্ছা হয় যা পড়েছি, যতটুকুই পড়েছি তা কোরআনের সঙ্গে ইসলামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি।

আমরা শুধু ধর্ম পড়েছি। বিজ্ঞান জানি না। যারা বিজ্ঞান জান। তোমরা ধর্মের যে যুগোপযোগী ব্যাখ্যা দিতে পারবে অনেক মাদ্রাসা পড়–য়ারাও তা দিতে পারবে না। আমাদের একটাই ভয়, ধর্ম নিয়ে ভাবতে গিয়ে, কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে যদি ভুল করে ফেলি তাহলে দুনিয়া এবং আখেরাত দুটোই শেষ।

তরুণরা যেখানে ধর্মের নেতৃত্ব দেয়ার কথা, সেখানে তারা মনের ভেতর এক ধরনের ফোবিয়া বয়ে বেড়াচ্ছে? অবশ্য এটা কীভাবে অস্বীকার করব, এ ফোবিয়ার জন্য আমরা মাদ্রাসা পড়ুয়ারাই দায়ী। আমরাই ইসলামকে কোরআনকে আমাদের নিজস্ব ‘সম্পত্তি’ বানিয়ে রেখেছি। আমাদের গণ্ডির বাইরের কেউ ইসলাম সম্পর্কে ভাবতে পারবে না বলতে পারবে না...

অথচ ধর্মকে গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলা আর যাই হোক ইসলামসম্মত নয়। হিন্দু, খ্রিস্টান, ইহুদিসহ পূর্ববর্তী ধর্মগুলো যখন পুরোহিতদের বানানো কারাগারে বন্দি ছিল, তখন কোরআন এসে ‘ইকরা’র ঘোষণা দিয়ে সব দেয়াল ভেঙে দিয়েছিল। পড়। পড়লেই মুক্তি। পড়লেই শান্তি। পড়াতে, জানাতে কোনো নিষেধ নেই। পড়লেই গবেষণার দুয়ার খুলে যায়। তাই রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘ইজতিহাদ কর। গবেষণা কর। ইজতিহাদ সঠিক হলে তোমার জন্য দুটো সওয়াব। আর ইজতিহাদ ভুল হলেও তোমার জন্য একটি সওয়াব আছে।’

পৃথিবীর আর কোনো ধর্মগুরু ধর্মকে এভাবে পাবলিক করে দেয়নি। এখানেই বুঝি মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিশেষত্ব। ভুল ইজতিহাদ করলেও নবীজি বলেছেন সওয়াব। অথচ আমরা কেউ ইজতিহাদ করছি না। তাই তো প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁ বড় আফসোস করে বলেছেন, সবাই বলে তরুণরা ধর্ম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু আমি দেখছি, আমরাই তরুণদে ধর্ম থেকে ঝেঁটিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজকালকার তরুণরা ধর্মভীরু হয়, ধর্মবীর হয় না। ধর্মকে ভয় পায়, ধর্মকে জয় করতে পারে না। যতদিন পর্যন্ত আমাদের তরুণরা ধর্মফোবিয়া কাটিয়ে ধর্মের নেতৃত্বে আসতে পারবে না- ততদিন পর্যন্ত ইসলাম-মুসলমানের শির নতই থাকবে। কোরআনের আলোয় হে মুসলমান জেগে ওঠো আবার।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Email : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×