মানবগ্রহ ধ্বংস হবে একদিন

কোরআন কী বলেছে * বিজ্ঞান কী প্রচার করছে

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলী আব্দুল মুনতাকিম

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কত মিলিয়ন, বিলিয়ন ও ট্রিলিয়ন কোটি আলোকবর্ষ দূরে আকাশের ওপর আরশে আছেন, যেখানে সশরীরে মহানবী (সা.) সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে দেখা করে এসেছেন (ইঙ্গিত-সূরা নজম-১৩ ও ১৪)। প্রতিটি মানুষের ঘাড়ের শিরা-ধমনিতে রয়েছেন আল্লাহ (সূরা ক্বাফ-১৬), এসব ব্যাখ্যা করা গত শতাব্দীর শুরুতে কঠিন ছিল।

বিজ্ঞান এখন বলছে, সুবিশাল ইউনিভার্স/বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তুলনায় পৃথিবী নামক গ্রহটি একটি কণা। সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে তো রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহপাক পৃথিবীকে মাছির ডানার মতোও মনে করেন না, না হলে কোনো অবিশ্বাসী একফোঁটা পানিও পেত না।

কদিন আগে দু’জন নারী নভোচারী মহাশূন্যে হেঁটেছেন। অনেকেই আমরা লাইভে দেখেছি।

স্কাই নিউজ বলছে- একটি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, মানুষকে অন্য গ্রহে যেতে হবে, না হয় পৃথিবী ছাড়তে হবে...

কী আশ্চর্য, একটি গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী ধ্বংসের বার্তা এত গুরুত্বপূর্ণ যে, পৃথিবীগ্রহের মানুষদের ঘুম হারাম। মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু, ইহুদি, জৈন, জোরাস্টারবাদী, কনফুসিয়াসসহ সব ধর্ম পণ্ডিতরা খবরটিতে আতঙ্কিত। ১৪০০ বছর আগে আল্লাহতায়ালা কালামে পাকে বলেছেন, সূরা ক্বিয়ামাহ, সূরা নাবা, সূরা তাকবির, সূরা ইনফিতরসহ বহু সূরায় বিশাল বড় কিয়ামত বা পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলে সতর্ক করেছেন।

ইজাস্সামা-উন্ফাতারাত- ওয়া ইজাল কাওয়াকিবুংতাসারাত... যখন আকাশ ফাটিয়া চৌচির হইবে... যখন নক্ষত্রগুলো ছিটকাইয়া পড়িবে... সূরা ইনফিতর।

ভবিষ্যৎ এ খবরটি শুধুই বিশ্বাসীদের জন্য নয়। দুনিয়ার সবার জন্য বলা হয়েছে। কোরআনের বিষয়বস্তুই ছিল মানুষ। তাই সব মানুষকেই কোরআনের কাছে যেতে হবে, তার মুক্তির বাণী কোরআন থেকেই নিতে হবে। কোরআনের বাণী থেকেই পৃথিবীবাসীকে সতর্ক হতে হবে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে কোরআনের ভবিষ্যৎ মহাপ্রলয়ের খবরটি নাসা বলেছে, একটি গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবী ধ্বংস করার জন্য। কোরআনের ১৪০০ বছর আগের বার্তা ও বিজ্ঞানের প্রমাণ এখন মানুষের সামনে। এটি নিঃসন্দেহে কোরআন অনুসারীদের জন্য গর্বিত হওয়ার মতো খবর। কারণ কোরআনের প্রতিটি অক্ষর-শব্দ সেই মহান সত্তার বাণী যিনি আল আউয়ালু ওয়াল আখিরু, যিনি আল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম। দুনিয়া ধ্বংস হওয়ার হবে, কিন্তু এমনি এমনি? না! হঠাৎ হবে না। বহু বছরব্যাপী আশ্চর্য, ব্যতিক্রম ও অভূতপূর্ব ঘটনা তো ঘটতেই থাকবে। কিয়ামত হঠাৎ হবে না। ঘটতে শুরু করবে বা শুরু হয়েছে। ওলামারা ইতিমধ্যে বক্তব্য-বিতর্ক শুরু করেছেন।

ইমাম মাহদি আসার আগে ৭০টি লক্ষণ মানুষ দেখবে, যার ৬৫টি ঘটে গেছে বলে আলেমরা মত দিয়েছেন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর, ফিলিস্তিনের বড় মাপের ইসলামী স্কলাররাই শুধু নয় ইহুদি-খ্রিস্টান ধর্মপণ্ডিতরাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন। চলুন দেখি তারা কী বলেন-

১) ফিলিস্তিনের শায়খ, ঈসা বাদওয়ান, একজন বৃদ্ধার নাতির জন্ম নিয়েই কথা বলা এবং দাজ্জাল হত্যা করার ঘোষণার ঘটনা জানান এবং বলেন ইমাম মাহদি এসেছেন। ২০১৯-এ তার বয়স ১৫ হয়েছে। ২) খ্যাতিমান আলোচক শায়খ ইমরান হোসেইন পরিষ্কার যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ইমাম মাহদি এসেছেন। ৩) শায়েখ সুফি হিশাম কাব্বানি ২০১৭ সালে হিসাব করে বলেছেন, আল্লাহপাক জ্ঞানের মালিক, বাস্তবতা এমন যে, আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে ইমাম আসবেন। ৪) কিং সউদের অধ্যাপক ইমরান নজদ, আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেছেন, ইমাম মাহাদি এসেছেন।

৫) বাংলাদেশের অনেক প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন জোর দিয়ে বলেছেন ইমাম মাহদির আগমনের কথা।

ইমাম মাহদির বিষয়ে ইহুদি-খ্রিস্টান পণ্ডিতরাও কথা বলা শুরু করেছেন। ইসরায়েলের শতবর্ষী ইহুদি পণ্ডিত ‘ইযহাক কাদুরি’ জেরুজালেমের এক হাসপাতালে ২৮/১/২০০৬ এ মারা যাওয়ার আগে সবাইকে বিস্ময়কর তথ্য দিয়ে বলে ও লিখে যান তার ধারণা ইয়েহুসুয়া (ঈসা) এসে গেছেন।

মহানবী (সা.) কী বলে গেছেন- সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে ইমাম মাহদির আগমন নিয়ে আমরা ৩টি হাদিস পাই এ রকম-

১) মহানবী (সা.) বলেন, ‘সেদিন কেমন হবে তোমাদের অবস্থা যেদিন তোমাদের মধ্যে ঈসা ইবনে মারইয়াম নেমে আসবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই একজন ইমাম হবেন মুমিন। অর্থাৎ তোমাদের সঙ্গে জামাতে শরিক হয়ে ঈসা (আ.) তোমাদের ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করবেন। ২) জাবের (রা.) বলেন, আমি রাসূল (সা.)কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মতের একটি দল হকের ওপর বিজয়ী থেকে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবে। এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম আসবেন। তাকে দেখে মুসলমানদের আমির বলবেন, আসুন! আমাদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করুন। ঈসা (আ.) বলবেন, না; বরং তোমাদের আমির তোমাদের মধ্যে থেকেই হবে। এই উম্মতের সম্মানের কারণেই তিনি এ মন্তব্য করবেন। ৩) নবী (সা.) বলেন, ‘আখেরি জামানায় আমার উম্মতের মধ্যে একজন খলিফা হবেন যিনি মানুষের মধ্যে মুক্ত হস্তে অগণিত ধন-সম্পদ দান করবেন।’

২৬ জন সাহাবির (রা.) মাধ্যমে ইমাম মাহদি বিষয়ে হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্য মতে কিয়ামত ঘনিয়ে আসছে এবং অবশ্যই তা ঘটতে যাচ্ছে। যা এখন নাসার বিজ্ঞানীরাও পৃথিবীর মানুষকে গ্রহ বদলের পরামর্শ দিচ্ছেন। মন দিয়ে তাদের কোরআন পড়তে অনুরোধ করছি। ইউনিভার্সের মালিক কী বলেছেন তা বোঝা যাবে কোরআন পড়লে।

লেখক : ডিজিএম, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট