ফিরে আসুক মদিনার ভ্রাতৃত্ববোধ

  গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মদিনা
ছবি: সংগৃহীত

এক মুসলমান অপর মুসলমানকে দৈহিক, মানসিক যে কোনোভাবে কষ্ট দেয়া হারাম। নবী করিম (সা.) বলেন- সেই প্রকৃত মুসলিম যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুখে কর্কশ কথা বলে না, কোনো অন্যায়-অসত্য উক্তি করে না অথবা দুর্ব্যবহার করে কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেয় না, কোনো মুসলিমের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে না, সেই প্রকৃত মুসলিম। হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানকে গালি দেয়া, দুর্ব্যবহার করা ফাসেকি বা সীমালঙ্ঘন করার শামিল, আর মারামারি ও হানাহানি করা কুফরি।

প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন- একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সুতরাং সে যেন তার অপর মুসলিম ভাইয়ের ওপর জুলুম না করে, তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও লাঞ্ছিত না করে। এটাই এক মুসলিমের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় প্রতিপন্ন করবে। একজন মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের রক্ত, মাল ও সম্ভ্রমহানি করা হারাম (মুসলিম)।

সর্বাবস্থায় যে কোনো মুসলিম ভাইকে সাহায্য করতে নির্দেশ দিয়ে প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন- ‘অত্যাচারী এবং অত্যাচারিত হলেও তুমি তোমার মুসলিম ভাইকে সাহায্য কর। এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, অত্যাচারিত অবস্থায় আমি তাকে সাহায্য করব, বুঝলাম; কিন্তু অত্যাচারী অবস্থায় আমি তাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি? নবী করিম (সা.) জওয়াবে বললেন, তুমি তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে এটা হবে তোমার তাকে সাহায্য করা’ (বুখারি ও মুসলিম)।

পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও সহানুভূতির দিক বিচারে প্রিয় নবী (সা.) সমগ্র মুসলিম জাতিকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি পারস্পরিক মমত্ববোধ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির দিক দিয়ে সব মুসলিমের একটি দেহের মতো পাবে। তাদের একটি অঙ্গ ব্যাধিগ্রস্ত হলে সব দেহে অস্থিরতার সৃষ্টি হয় এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করে’ (বুখারি ও মুসলিম)।

অন্য হাদিসে সমগ্র মুসলিম জাতিকে এক ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘সব মুসলিম একই ব্যক্তি তার চক্ষু বা মাথা অসুস্থ হয়ে পড়লে সব দেহই অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

ইসলাম মুসলমানদের মধ্যে সার্বিক ঐক্য, সংহতি, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি এবং অনুপম ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করেছে, যা তাদের এক অভিন্ন সত্তায় পরিণত করেছে। মানবাত্মার সঙ্গে দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সম্পর্ক যেমন অবিচ্ছেদ্য, মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্ক তেমন অবিচ্ছেদ্য।

মদিনায় হিজরত করার পর নবী করিম (সা.) আনসার ও মুহাজেরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সৃষ্টি করে দেন। এ মৌখিক ভ্রাতৃত্বের ওপর ভিত্তি করে আনসাররা নিজেদের সম্পদ-সম্পত্তি মুহাজেরদের ভাগ করে দেন। এমনকি যে আনসারীর দুজন স্ত্রী ছিল তার থেকে উত্তম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আপন মুহাজের ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহ দেন। এক কথায় ইসলাম মানুষকে যে অনন্য ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিক্ষা দিয়েছে তা মানব জাতির ইতিহাসে বিরল। আজ ইসলামের সেই ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনা জরুরি।

লেখক : প্রাবন্ধিক

ই-মেইল : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×