হজরত গাউসুল আজমের তরিকত সম্মেলন

  মুহাম্মদ রাশেদ হায়দার মহিউদ্দীন ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মরু আরবের শুষ্ক প্রান্তরে ইসলামের যে বীজ আল্লাহর হাবিব (সা.) বপন করেছিলেন তা আজ ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে ধরণির প্রান্তে প্রান্তে সবাইকে করছে বিমোহিত, যার পরশে সমগ্র সৃষ্টি হচ্ছে সম্মোহিত, সম্মানিত। ইসলামের এই যুগান্তকারী বিস্তৃতি এবং ব্যাপকতার নেপথ্যে যারা ত্যাগ শ্রম এবং কোরবানির মাধ্যমে অবদান রাখার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের আলোয় উদ্ভাসিত যে শক্তি তা হল ইমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে তাওহিদকে বুকে ধারণ করে এশকে মোস্তফার অনুশীলন করে নবী (সা.) কে পরিপূর্ণ অনুসরণ এবং অনুকরণ। প্রিয় রাসূল (সা.)-এর এ ভালোবাসাময় আকুলতায় তারা হয়েছেন সৃষ্টির দিশারী, পথহারাদের পাঞ্জেরি। তাদের নুরানি কর্ণকুহরে যেন প্রতিনিয়ত ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয় নিপীড়িতদের আহাজারি, বঞ্চিতদের রোনাজারি। একজন মানুষকে যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে খোদা তাঁর প্রিয়তম সৃষ্টিরূপে দুনিয়াতে পাঠায় মানুষ যখন তা ভুলে যায় তখন খোদার প্রতিনিধি হয়ে নবী (সা.)-এর আদর্শকে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে সলফে সালেহীনগণ তথা যুগের যারা সংস্কারক থাকেন তারা দায়িত্ব গ্রহণ করে সেসব পথভোলা মানুষকে খোদার পথে এনে জান্নাতের ঘ্রাণ বিলান। একবিংশ শতাব্দীর মাহেন্দ্রক্ষণে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার সময়ে নবীপ্রেম বিস্তারে এমন একজন কালজয়ী রাহবারকে আমরা পেয়েছি যিনি নুরে মোস্তফার সংস্পর্শে মানুষকে এমনভাবে পরিচালিত করছেন যে পথের শেষে অনাবিল প্রশান্তি। দূর করে দিচ্ছেন জীবনের ভ্রান্তি, ইবাদতে ক্লান্তি দূর করে ক্বলবে দিচ্ছেন খোদায়ী শান্তি, ইমান ও আখলাকে হেদায়েতময় তৃপ্তি, দোজাহানে বেহেশতি প্রশান্তিময় প্রাপ্তি। একজন বান্দা যখন গুনাহর সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে খোদাকে বেমালুম ভুলে যায় তখন সে যদি কাগতিয়া আলীয়া গাউসুল আজম দরবার শরিফে আসে তখন হজরত গাউসুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বক্ষ নিঃসৃত নবী (সা.) নুরে পাক গ্রহণ করে, তখন তার জীবন ঐশী কৃপায় ভরপুর হয়ে ওঠে। হাদিস শরিফে বর্ণিত রয়েছে যে ব্যক্তি এ নুর গ্রহণ করবেন তার তিনটি পরিবর্তন জীবনে আসবে ১) সে দুনিয়া থেকে হালকা হয়ে আখিরাতের দিকে ধাবিত হবে, ২) সবসময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকবে ও ৩) ইসলামের জন্য তার বক্ষ প্রসারিত হয়ে যাবে। এ নুরে পাক গ্রহণের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনগুলো হয় তা যেন আজ বাস্তবতা পাচ্ছে গাউসুল আজমের অনুসারীদের মাঝে। এ নুরের প্রভাবে মানুষ আশেকে রাসূলে পরিণত হচ্ছে। যার হৃদয়ে নবীর প্রেম থাকে তার জীবন তো সুন্নতের অলঙ্কারে সুসজ্জিত থাকবে। তার চলাফেরায় চিন্তাধারায় কথাবার্তায় ইসলামের জ্যোতি, খোদার ভীতি দৃশ্যমান হয়ে নফসের প্রভাব দূর হয়ে ইনসানিয়্যত হবে বেগবান। সর্বোপরি খুঁজে পাবে এহসান তথা খোদার সন্ধান, মারেফাতের সুঘ্রাণ। এ মহান তরিকতের আরেকটি মহামূল্যবান নেয়ামত হল ফয়েজে কোরআন তথা কোরআনের নুর। যেখানে মিলে হাকিকতের সুধা শরাফত, যার ঝলকানিতে ক্বলবে উঠে আল্লাহ আল্লাহ সুরের অশ্রুজলে বিনীত প্রার্থনায় এ রকম অগণিত ইনসানে কামেল সৃষ্টির রূপকার হজরত গাউসুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। এ মহান ব্যক্তিত্বের অবদান স্বরূপ উনি পেয়েছেন খলিফাতুর রাসূলের দুর্লভ মোকাম, খলিলুল্লাহ উপাধি, গাউসিয়্যতের আসনে হয়েছেন উপবিষ্ট। তাই তো তার সংস্পর্শে অশান্ত হৃদয় হয় শান্ত-শিষ্ট, সাধারণ ব্যক্তিও হয়ে ওঠে খোদার কাছে বিশিষ্ট। গাউসিয়্যতের সোনালি আলোর রুপালি ছটা আজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রান্ত থেকে প্রান্তে সব দিগন্তে। হজরত গাউসুল আজম সৃষ্টিকে করেছেন খোদা প্রেমের আহ্বানে ভরপুর, বাজিয়েছেন নবী প্রেমের সুরাসুর। প্রেম শান্তির এ শাশ্বত পয়গামকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ইনশাআল্লাহ ২০ জানুয়ারি গাউসুল আজম সিটি বায়েজিদ চট্টগ্রামে হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক তরিকত কনফারেন্স। যেখানে হবে হেদায়েতের সুধামাখা প্রেম নুর বিনিময়। হুব্বে মোস্তফা প্রেমিকদের আমন্ত্রণ রইল।

লেখক : প্রাবন্ধিক

email : [email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×