দুই পর্বের ইজতেমায় ব্যথিত মুসল্লি

  হাফেজ শাহ শরীফ ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই পর্বের ইজতেমায় ব্যথিত মুসল্লি
ছবি: সংগৃহীত

পৃথকভাবে দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হল বিশ্ব ইজতেমা। অমীমাংসিত রয়ে গেল সমঝোতা। খোলা হল না ঐক্যের দুয়ার। সমঝোতার চাবি যাদের হাতে তারা কেউ আগ্রহ দেখাল না। যার যার অবস্থানে অটল সবাই। তাহলে কি এ বিবেধ যুগ যুগ ধরে চলবে?

কহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ তীরে যে ঐশী আনন্দের বাতাস বইছিল তা কি আর বইবে না? এটা আমাদের জন্য কখনও কল্যাণ বয়ে আনবে না। দাওয়াত ও তাবলিগ নবীওয়ালা কাজ। রাসূল (সা.) মানুষের মাঝে ঐক্যের দাওয়াত দিয়েছেন। মুসলমানদের ঐক্য ছাড়া এ কাজ সফল হবে না। ঐক্য ছাড়া মুসলমানদের কোনো কাজে বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।

মুসলমানদের ঐক্যের ব্যাপারে কোরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও (সূরা আল হুজরাত-১০)।

আল্লাহ ঝগড়া করতে নিষেধ করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে পরস্পরে মীমাংসার কথা বলেছেন, যাদের বাড়াবাড়ির কারণে ঐক্য নষ্ট হয় আল্লাহর কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।

দুই পর্বের ইজতেমা ঘুরে জানতে পারলাম মুসল্লিদের ব্যথিত হৃদয়ের আকুল আবেদন। কয়েকজনের মতামত তুলে ধরছি।

মুহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, লালমনিরহাট থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, দশ বছর পর টঙ্গীর ময়দানে এসেছি। মাঠের পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। অজু-গোসল, টয়লেটের সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পুরো এলাকা। দেখে খুব ভালো লাগছে।

কিন্তু আমাদের মনমানসিকতা উন্নত করতে পারছি না। আফসোস হয় হঠাৎ কী হয়ে গেল? আমরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছি। আল্লাহ আমাদের মাঝে ঐক্য দান করুন এটাই আশা করি।

মুহাম্মদ মানিক মিয়া, পঞ্চগড় থেকে এসেছেন। জানতে চেয়েছিলাম, আপনার এলাকায় তাবলিগের দাওয়াতের কাজ কেমন চলছে? উত্তরে তিনি বলেন, তাবলিগ জামাতের ভাঙন এলাকার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। যারা একসঙ্গে দাওয়াতের কাজ করত তারা এখন একজন আরেকজনকে দেখতে পারে না।

এ বিরোধ চলতে থাকলে আগামী দিনে বিরোধ আরও বাড়বে। আমরা বিভক্তি চাই না। আমরা মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ কাজ করতে চাই।

আবদুস সাত্তার, সৈয়দপুর থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, এক আল্লাহর জন্য কাজ করব। সবাই মিলেমিশে কাজ করব। আমাদের মুরব্বিদের কাছে দাবি তারা যেন আমাদের এক করে দেয়। আগামী বছর একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা করতে চাই।

মোহাম্মদ স্বপন মিয়া, আব্দুহল্লাপুর পশ্চিম পাড়ায় তুরাগ নদীর পাড় ঘেঁষে তার বাড়ি। বিশ্ব ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য বাড়ির উঠানে খাবার পানি ও অজুর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সঙ্গে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িত। প্রতি বছর মুসল্লিদের জন্য খাবার পানি ও অজুর ব্যবস্থা করি। মুসল্লিরা দূরদূরান্ত থেকে এসে পানি পান করে তৃষ্ণা মিটায়।

এতে আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করি। এখন দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ায় খুব ব্যথিত হয়েছি। বয়ান শোনার জন্য ও আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে অনেক মহিলারা আমাদের বাড়িতে আসত। এখন আসছে না। দেখে মনে হচ্ছে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে।

সাধারণ মুসল্লিদের এমন ব্যবহারে আমিও ব্যথিত হয়েছি। তাবলিগ জামাতে কোনো বিরোধ ছিল না। যারা এক পাতিলের খাবার এক পাত্রে বসে খায় তাদের মধ্যে কেন আজ বিভক্তি? এক দল আরেক দলকে বাতিল বলছে। দু’দল থেকে ইজতেমা শেষে কয়েক হাজার জামাত বের হয়েছে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে। তারা কি দ্বীনের সঠিক দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে নাকি নিজেদের দল ভারী করে বিভক্ত ইজতেমার সাথী তৈরি করবে?

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুক।

লেখক : প্রাবন্ধিক

ই-মেইল : [email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব ইজতেমা ২০২০

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×