ইসলামের দাওয়াতি দায়িত্ব পালন করছে যুগান্তর

  তানজিল আমির ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামের দাওয়াতি দায়িত্ব পালন করছে যুগান্তর
ছবি: যুগান্তর

২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। মিডিয়ার আকাশে উঁকি দিয়েছে নতুন একটি কাগজ। ‘সত্যের সন্ধানে নির্ভীক’ স্লোগানে পথচলা শুরু হয় দৈনিক যুগান্তরের। অল্প সময়ে পাঠকের অন্তরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যুগান্তরের আলো। পত্রিকাটির শুরু থেকে শুক্রবারের বিশেষ আয়োজন ‘ইসলাম ও জীবন’ ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

শূন্য দশকের গোড়ায় সংবাদের বৈচিত্র্যের সঙ্গে পত্রিকার জগতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে সপ্তাহে দু’দিন ফোর কালার ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা প্রকাশ করে যুগান্তর। সংবাদপত্রের জগতে যা এক ইতিহাস। এ পাতা ও সৃজনশীলতার কারণে যুগান্তর সে সময় চলে যায় পাঠক প্রিয়তার শীর্ষে। সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি যুগান্তরের ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা দেশের শীর্ষ আলেমদেরও মন জুগিয়েছে।

তাই তো দেশের অন্যতম ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী মহাপরিচালক, বিদগ্ধ মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘যুগান্তর তো আমাদের প্রিয় পত্রিকা। আমি সবসময় যুগান্তর পড়ি। যুগান্তর আমাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।’

গতানুগতিকভাবে অন্যান্য পত্রিকায়ও ইসলাম বিষয়ে লেখালেখি করা হয়। বাংলাদেশের মুসলমানরা অত্যন্ত ধর্মভীরু। ফলে জাতীয় দৈনিকগুলোয় সাপ্তাহিক ধর্মীয় লেখা ছাপা হয়ে থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যুগান্তরই ছিল শুরু থেকে ব্যতিক্রম। শুধু ফজিলত আর ইতিহাসের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতায় ছাপা হতে থাকল সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়।

আল্লামা বাবুনগরীর মতে- এ জন্য যুগান্তর অবশ্যই মোবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। গতানুগতিক ধারায় না হেঁটে তারা সাহস করে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে আলেমদের পরামর্শ প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান রেখেছেন তিনি।

‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার মাধ্যমে গত ২০ বছর ধরে যুগান্তর প্রচার করেছে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতার কথা, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা, জাতীয় পতাকা, দেশপ্রেমের কথা।

শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘যুগান্তর স্বাধীনতার পক্ষের একটি কাগজ। তাই মাদ্রাসা ছাত্রদের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তারা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। বিজয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস নিজেদের মতো করে পালনে মাদ্রাসাপড়ুয়ারা উদ্বুদ্ধ হয়েছে ইসলাম ও জীবনের মাধ্যমে’।

দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহের এ ইমাম বলেন, এ দেশের কওমি আলেমদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি কওমি শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির পেছনেও রয়েছে যুগান্তরের বেশ বড় ভূমিকা। বিভিন্ন সময় যুগান্তর ইসলাম ও জীবন পাতায় প্রকাশ করেছে, ইসলামী শিক্ষার তাৎপর্য, কওমি সনদের স্বীকৃতির কথা। বিশিষ্ট আলেম ও সুধীজনের কলাম ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কওমি সনদের মূল্যায়নের কথা তারা জাতির সামনে তুলে ধরেছে।

ইসলামকে যুগোপযোগী ও আধুনিক ধর্ম হিসেবে বাংলাভাষীদের কাছে উপস্থাপনে ‘ইসলাম ও জীবন পাতা’ এখনও অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। এ বিষয়ে আল্লামা মাসউদ বলেন, ‘যুগের মননের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার মাধ্যমে যুগান্তর সে গুরু দায়িত্ব পালন করছে। কারণ ইসলামের চিরন্তন সত্যকে সহজভাবে তুলে ধরতে না পারলে যুগ ইসলামকে বুঝবে না। আশা করব, যুগান্তর বিগত ২০ বছরের ধারাবাহিকতায় কৃতিত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাবে।’

আলেম সমাজের মর্যাদা, ইমাম-খতিবদের দায়িত্ব, ইসলামী শিক্ষা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির কথা শুরু থেকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে যুগান্তর।

মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর, গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব আল্লামা মাহমুদুল হাসানও বিষয়টির প্রশংসা করেছেন। তার মতে, যুগান্তর দেশ, স্বাধীনতা ও মানবতার পক্ষে কথা বলে। বিশেষভাবে ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা আলেমদের মর্যাদা, ইমাম-খতিবদের দায়িত্ব নিয়েও লেখালেখি করে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় বিষয়। আমরা আশা করব, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতাদর্শে যুগান্তর আরও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ইসলামে গণমাধ্যমকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি দোয়া করি, বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে কোরআন-সুন্নাহর প্রচারে ‘ইসলাম ও জীবন’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম বেফাকের সহসভাপতি ও জামেয়া মাদানিয়া বারিধারার প্রিন্সিপাল আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী মনে করেন, গণমাধ্যম বা মিডিয়া সাধারণ জীবনের বিবেচনায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ধর্মীয় বিবেচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণমাধ্যমের সুস্থ ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে।

আল্লামা কাসেমী বলেন, ‘জুমার দিন খতিবরা মসজিদের মিম্বরে বসে মুসল্লিদের উদ্দেশে দ্বীনি নসিহত করেন। প্রত্যেকের সামনে তার এলাকার নির্ধারিত মুসল্লিরাই থাকেন। কিন্তু একটি জাতীয় দৈনিকের এক পাতার ইসলাম নিয়ে আয়োজন এক দিনেই লাখো মানুষের সামনে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি দাওয়াতের বিশাল বড় একটি হাতিয়ার। ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার মাধ্যমে যুগান্তর সেই দাওয়াতি দায়িত্ব পালন করছে।

আমি আশা করব, দাওয়াতের যে মহান দায়িত্ব এ উম্মতের ওপর রয়েছে, সে মানসিকতায় যুগান্তর তার গুরুদায়িত্ব পালনে ব্রতী থাকবে। এর জন্য আমাদের যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, সে সহযোগিতার আহ্বানে সাড়া দেয়া আমাদের দায়িত্ব। আমি যুগান্তরের ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার জন্য মন খুলে দোয়া করি।

দেশের মূল স্রোতধারার সঙ্গে আলেম সমাজের সেতুবন্ধ তৈরিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল যুগান্তরের। দেশের লাখো মানুষের আধ্যাÍিক রাহবার চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলেমদের একটি দূরত্ব আমাদের দেশে রয়েছে। কারণ দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষার বিভাজনে বিপরীতমুখী দুটি ধারা গড়ে উঠেছে এখানে। সার্বজনীনভাবে ইসলামকে সবার সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যুগান্তরের ধর্ম পাতা নীরব একটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আলেমদেরও নজরে এসেছে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, নিয়মিত না হলেও আমি পাতাটি দেখার চেষ্টা করি। হক্কানি আলেমদের পরামর্শ নিয়ে জাতির কল্যাণে যুগান্তর আরও নিবেদিত হবে, এ প্রত্যাশাই থাকবে। কারণ ইসলাম শুধু আচারসর্বস্ব কিছু ক্রিয়া পালনের ধর্ম নয়, ইসলাম সামগ্রিক একটি জীবনব্যবস্থা। এতে মানবজীবনের সব বিষয়ে পূর্ণ নির্দেশনা দেয়া আছে। বিষয়গুলো বাঙালি মুসলমানদের সামনে সহজভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ও গবেষক আলেম ড. মুশতাক আহমদ যুগান্তরের ইসলাম বিভাগের ২১ বছরের এ পথচলায় বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, আশির দশকে আমরা যখন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি। তখনও ধর্মীয় প্রকাশনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। সাহিত্য ভাবনা এবং লেখালেখিকে দেখা হতো বাঁকা চোখে। মাতৃভাষা চর্চার মাঠে তখনও ফাঁকাই ছিল মাদ্রাসা পড়ুয়াদের জায়গাটুকু। সে সময় আমরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি করতাম।

তিনি বলেন, শূন্য দশকের গোড়া থেকে নতুন স্লোগানে যুগান্তরের আবির্ভাব হল। দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনার মাধ্যমে ধর্ম বিষয়ে বিশেষ আয়োজন ছিল পত্রিকাটির যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশের অন্যান্য কাগজগুলোর মধ্যে যুগান্তর একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে নিয়েছে।

ড. মুশতাকের মতে, ‘ইসলাম ও জীবনে’র মূল সফলতার জায়গা হল তরুণদের মূল্যায়ন। তিনি বলেন, এ পাতার সম্পাদক হাফেজ্জী হুজুরের (রহ.) স্নেহধন্য কলম সাধক হাফেজ আহমাদ উল্লাহ উঠতি লেখকদের অনুভূতি বুঝতে পেরে তাদের কাছে টেনে নিয়েছেন। যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধান করেছেন। পাঠকও এটি গ্রহণ করেছে। যুগান্তরের এ স্বতন্ত্র অবস্থান লাখো পাঠকের হৃদয়ে আলাদা একটি জায়গা করে নিয়েছে।

যুগান্তরের লেখকরা আজ মাদ্রাসাগুলোয় সাহিত্যের শিক্ষক। ইসলাম পাতার সেই প্রদায়করা আজ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের বিভাগীয় সম্পাদক। ইসলাম ও জীবন পাতাকে এভাবেই মূল্যায়ন করছিলেন লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ

তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণির একটি কাগজ হিসেবে যুগান্তর সর্বমহলেই সমাদ্ধৃত। গ্রামীণ জনপদের খবরসহ জাতীয় ইস্যুগুলো তারা জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলে। যুগান্তরের ইসলাম বিভাগও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষত মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ লেখকরা এখানে যে সুযোগ পেয়েছে, আমার জানামতে অন্য কোনো পত্রিকা এ সুযোগটি দিতে পারেনি। এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

আমার অনেক ছাত্রও যুগান্তরের মাধ্যমে লেখালেখিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আশা করব, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় যুগান্তর এগিয়ে যাবে। বিশেষত ইসলাম ও জীবন পাতায় গবেষণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি তরুণদের পৃষ্ঠপোষকতাও অব্যাহত রাখবে।

২০ পেরিয়ে ২১ বছরে পা রেখেছে যুগান্তর। দীর্ঘ এ পথচলায় দেশের ধর্মপ্রমাণ মুসলমানের হৃদয়জুড়ে ভালোবাসার আসনটি দখল করে আছে যুগান্তরের ইসলাম ও জীবন পাতা। পাঠকের দোয়া ও ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে যুগান্তর। ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতার মাধ্যমে পাঠকের অন্তরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক সত্যের আলো।

লেখক : আলেম ও যুগান্তরের সহ-সম্পাদক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×