মুসলমানের হৃদয়ে ছড়াক কোরআনের রোশনাই

  আহনাফ আবদুল কাদির ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরআন

প্রায় সবার ঘরে ঘরেই কোরআন আছে। আলমারির তাকে, টেবিলের কোণে গিলাপবদ্ধ সাজানো কোরআন। মাঝে মধ্যে সেই কোরআন থেকে কিছু অংশ আমরা পাঠ করি, মুখস্থ আওড়াই, চুমু খাই, যত্ন করে রেখে দেই আগের জায়গায়।

মৌলভীকে দাওয়াত করে ঘরে এনে কোরআন খতম করাই, আপ্যায়ন করি, হাদিয়া দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করি। রোগীর পাশে কোরআন তেলাওয়াত করে তার আরোগ্য কামনা করি। কবরের আজাব লাঘবে মৃতের পাশেও পাঠ করি কোরআন। তবুও কোরআন ও আমাদের মাঝে একটি দেয়াল থেকেই যায়। একটি দূরত্বের প্রাচীর ঘিরে রাখে আমাদের। প্রতিনিয়ত কোরআন পাঠ করে, বুকে জড়িয়ে ধরে, চুমু খেয়েও সেই প্রাচীর ভেদ করতে পারছি না আমরা।

প্রভুর প্রদত্ত সত্যবাণী পাঠ করে আলোকিত হচ্ছে না আমাদের ভেতর ও বাহির। ‘হুদাল্লিন্নাস’- মানবতার জন্য আলোর পরশ, ‘হুদাল্লিল মুত্তাকিন’- স্রষ্টার পরিচয়প্রাপ্ত মানুষের জন্য আলোর পরশ। অথচ কোথায় সে আলো, আলোর পরশ? অন্ধকারে হাতড়ে মরছে মানবতা। ঘোর অন্ধকারময় জীবন নিয়ে গুমড়ে মরছে বিশ্বাসী।

হায়! বিশ্বকে আলোকিত করার চেরাগ হাতে নিয়ে মুসলমান আজ নিজেই পদে পদে উষ্টা খাচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে মার খাওয়া জাতিতে পরিণত হয়েছে। এর মূল কারণ কী? একটাই কারণ, হৃদয়ের সঙ্গে সংযোগ নেই খোদার বাণীর। তারা আজ তোতাপাখির মতো কোরআনের বাণী শুধু মুখেই আওড়াচ্ছে। না বুঝে কোরআন পড়ছে; আর হৃদয়ে চাষাবাদ করছে বর্ণহীন ফুল, ভিন্ন সুর।

কোরআন কী বলছে তার কোনো চর্চাই নেই মুসলিম সমাজে। প্রতিনিয়ত কোরআনের নির্দেশনা পদদলিত করে মার খাচ্ছে বিজাতির হাতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ইন্না হাজাল কোরআনা ইয়াহদি লিল্লাতি হিয়া আকওয়ামু’- অবশ্যই এ কোরআন পরিচালিত করে সুদৃঢ় পথের দিকে (সুরা ইসরা : ০৯)। এত শক্তিশালী গ্রন্থ আমাদের কাছে আছে/ অথচ আমরা রয়েছি ঘুমের ঘোরে।

আজ কোরআন মুখস্থের প্রতিষ্ঠান আছে ঢের, নেই কোরআন বুঝার প্রতিষ্ঠান। হাদিস, ফিকহের উচ্চতর গবেষণাগার থাকলেও সে হারে নেই কোরআনের গবেষণাগার। তাই দিনে দিনে আরও হতাশা, আরও অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে মুসলিম জাতি। ইজ্জতির জীবন থেকে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে লাঞ্ছনার দিকে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যাতে আপনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসাতে পারেন’ (সূরা ইবরাহিম : ০১)।

খোদা তায়ালার উদ্দেশ্য ছিল কোরআন আমাদের আলোকিত জীবনের সন্ধান দেবে, উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানো মানবতাকে আলোকিত করবে। অথচ আমরা বস্তু কোরআনকে আমাদের বুকে টেনে নিলেও, কোরআনের বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করতে শিখিনি। কোরআনের রঙে নিজেদের জীবনের সামগ্রিক দিক সাজাতে পারিনি। তাই মুখে মুখে উচ্চারিত কোরআন প্রতিনিয়ত আর্তনাদ করছে আর আমাদের অভিশাপ দিচ্ছে।

হাদিসের ভাষায়, ‘এমন অনেক পাঠক আছে কোরআনের, যারা নিয়মিত কোরআন পাঠ করে অথচ কোরআন তাদের অভিশাপ দিতে থাকে’। যারা কোরআনের আয়াতকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে না হাশরের মাঠে কোরআন তাদের বিপক্ষে দাঁড়াবে। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘ওয়া কালার রাসুলু, ইয়া রাব্বি, ইন্না কওমি ইত্তাখাযু হাজাল কোরআনা মাহজুরা- রাসূল বলবেন, হে আমার রব! আমার জাতি এ কোরআনকে পরিত্যাগ করেছে’ (সূরা ফুরকান : ৩০)।

এ আয়াতের তাফসিরে ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) কোরআন পরিত্যাগের পাঁচটি ধরন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কোরআন পরিত্যাগ হল-

ক. কোরআনের প্রতি ইমান না আনা। তেলাওয়াত পরিত্যাগ করা, শ্রবণ না করা এবং মনোযোগ না দেয়া। খ. কোরআনের আমল পরিত্যাগ করা। গ. কোরআন অনুযায়ী বিচার না করা। ঘ. কোরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা ছেড়ে দেয়া এবং এর মর্মার্থ বুঝতে চেষ্টা না করা। ঙ. কোরআনের মাধ্যমে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ত্রুটির চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। প্রিয় পাঠক, আসুন! কোরআন পড়ি, কোরআন বুঝি। কোরআনের রঙে, কোরআনের ঢঙে নিজেকে সাজাই। কোরআনের আলোয় আলোকিত করি আত্মা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। আমাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠুক আল্লাহর বাণীতে। হৃদয় বেজে উঠুক খোদার প্রেমে।

লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×