দিল্লিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবতা
jugantor
দিল্লিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবতা

  জামাল আস-সাবেত  

১৩ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীর পৃথিবী মুসলমানের অপেক্ষায়।

পুলিশ লাঠিপেটা করল মুসল্লিদের, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করল, যুবক মসজিদ থেকে দৌড়ে পালাল।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এমন নৃশংস দৃশ্য দেখতে হবে, তা কখনই ভাবিনি।

মানুষের প্যান্ট খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার ধর্মীয় পরিচয় কী(!)? নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মোড়কে কট্টর মৌলবাদী হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াবে গোটা ভারতে তা আসামের অবস্থা দেখেই অনেকটা আঁচ করা গেছে। অবশেষে দিল্লিতে মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ল। অর্ধ শতাধিক নিরিহ মানুষ লাশ হয়ে গেল। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হল! দিল্লির নালা থেকে লাশ উদ্ধার হল!

দৈনিক যুগান্তরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ ‘কাছ থেকে দেখা দিল্লি দাঙ্গা’ শিরোনামে ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর অনুবাদ পড়ে জানতে পারলাম, ভারতে মুসলিম হত্যার ভয়াবহতা কতদূর এগিয়েছে! হিন্দু জঙ্গিগোষ্ঠী কতটা রক্ত খেলায় মেতেছে! পুলিশের ছত্রছায়ায় জঙ্গিরা কীভাবে মানুষকে হেনস্তা করছে!

এক উর্দু দৈনিক পত্রিকার মুসলমান সাংবাদিক আশফাক বলেন, উন্মত্ত উন্মাদরা যখন তাকে (কেবল মুসলমান হওয়ার অপরাধে) পেটানো শুরু করে, তখন তিনি এক হিন্দি পত্রিকার সাংবাদিকের কারণে বেঁচে যান!

সবচেয়ে ভীতিকর স্লোগান এখন ‘জয় শ্রী রাম এবং ভারত মাতার জয়’। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করাই যেন মূল লক্ষ্য! হিন্দুরা জেগে উঠেছে। সুতরাং মুসলমান খেদাও আন্দোলন চলবে। এভাবেই স্লোগান চলছে!

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তার কী হবে? এ প্রশ্নই এখন জনমনে ঘুরছে। ‘দেশ ভিন্ন হলেও, মানুষের ধর্ম অভিন্ন’ এ সত্যটি মেনে না নিলে পাশের দেশ তো বটেই, সারা বিশ্ব-ই অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে। সব দেশেই বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ, জাত-উপজাত বসবাস করে। তা-ই বলে, ক্ষমতায় যে আসবে, সে কি অন্য জাতির ওপর নৃশংসতা চালাবে?

শ’য়ে শ’য়ে বছর মুসলিম নেতারা ভারতবর্ষ শাসন করেছে, এভাবে তো কখনই হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালায়নি। ভারত এত কৃতঘ্ন হবে, মুসলমানরা কখনও ভাবেনি।

ভারতের মুসলিমরা নির্যাতিত হবে আর গোটা বিশ্বের মুসলিমরা চুপচাপ বসে থাকবে, এমনটা আশা করা বোকামি। পাশের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মুসলিমরাও জেগে উঠবে, প্রতিবাদ করবে, নিন্দা জানাবে এটাই স্বাভাবিক।

পৃথিবীতে অনেক বন্ধু-রাষ্ট্র শত্রু হয়েছে আবার শত্রু-রাষ্ট্র বন্ধু হয়েছে। ভারত আমাদের শত্রু হয়ে যাক, তা আমরা কখনই চাই না। কারণ আমাদের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা বিশ্বাসী। কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। এ নীতি আমরা মেনে চলি। আর ভারত যেহেতু স্বাধীনতার সময় পাশে ছিল, তাই তারা আমাদের ভালো বন্ধু।

বর্তমান পরাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, আফগানিস্তানের নিঃস্ব মুসলমানদের কাছে কৌশলগত কারণে হেরে যুদ্ধ গুটিয়ে নিয়েছে। ২০০১-২০২০ সাল পর্যন্ত চলা এ যুদ্ধে আফগান মুজাহিদরা বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা সন্ত্রাসী নন, তারা নিরাপদ। তাদের ওপর যা হয়েছে, তা অন্যায়। আমেরিকা সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী বলে যাদেরকে এত বছর বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল, আজ তারা কুর্নিশ করছে। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে, ‘আফগান তালেবান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়’।

ভারতকে এর থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। মুসলিমরা কোনো দেশেই সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে না। তারা সন্ত্রাসী নয়। কেবল তাদের ওপর অন্যায় করা হলে, তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাই মোদি তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে,

মুসলমানরা নজরুলের ভাষায় বলে উঠবে-

‘মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত।’

লেখক : লেকচারার ও কলাম লেখক

[email protected]

দিল্লিতে মুখ থুবড়ে পড়ল মানবতা

 জামাল আস-সাবেত 
১৩ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীর পৃথিবী মুসলমানের অপেক্ষায়।

পুলিশ লাঠিপেটা করল মুসল্লিদের, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করল, যুবক মসজিদ থেকে দৌড়ে পালাল।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এমন নৃশংস দৃশ্য দেখতে হবে, তা কখনই ভাবিনি।

মানুষের প্যান্ট খুলে পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার ধর্মীয় পরিচয় কী(!)? নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) মোড়কে কট্টর মৌলবাদী হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়াবে গোটা ভারতে তা আসামের অবস্থা দেখেই অনেকটা আঁচ করা গেছে। অবশেষে দিল্লিতে মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ল। অর্ধ শতাধিক নিরিহ মানুষ লাশ হয়ে গেল। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হল! দিল্লির নালা থেকে লাশ উদ্ধার হল!

দৈনিক যুগান্তরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ ‘কাছ থেকে দেখা দিল্লি দাঙ্গা’ শিরোনামে ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক ইমরান আহমেদ সিদ্দিকীর অনুবাদ পড়ে জানতে পারলাম, ভারতে মুসলিম হত্যার ভয়াবহতা কতদূর এগিয়েছে! হিন্দু জঙ্গিগোষ্ঠী কতটা রক্ত খেলায় মেতেছে! পুলিশের ছত্রছায়ায় জঙ্গিরা কীভাবে মানুষকে হেনস্তা করছে!

এক উর্দু দৈনিক পত্রিকার মুসলমান সাংবাদিক আশফাক বলেন, উন্মত্ত উন্মাদরা যখন তাকে (কেবল মুসলমান হওয়ার অপরাধে) পেটানো শুরু করে, তখন তিনি এক হিন্দি পত্রিকার সাংবাদিকের কারণে বেঁচে যান!

সবচেয়ে ভীতিকর স্লোগান এখন ‘জয় শ্রী রাম এবং ভারত মাতার জয়’। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র করাই যেন মূল লক্ষ্য! হিন্দুরা জেগে উঠেছে। সুতরাং মুসলমান খেদাও আন্দোলন চলবে। এভাবেই স্লোগান চলছে!

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তার কী হবে? এ প্রশ্নই এখন জনমনে ঘুরছে। ‘দেশ ভিন্ন হলেও, মানুষের ধর্ম অভিন্ন’ এ সত্যটি মেনে না নিলে পাশের দেশ তো বটেই, সারা বিশ্ব-ই অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে। সব দেশেই বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ, জাত-উপজাত বসবাস করে। তা-ই বলে, ক্ষমতায় যে আসবে, সে কি অন্য জাতির ওপর নৃশংসতা চালাবে?

শ’য়ে শ’য়ে বছর মুসলিম নেতারা ভারতবর্ষ শাসন করেছে, এভাবে তো কখনই হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ চালায়নি। ভারত এত কৃতঘ্ন হবে, মুসলমানরা কখনও ভাবেনি।

ভারতের মুসলিমরা নির্যাতিত হবে আর গোটা বিশ্বের মুসলিমরা চুপচাপ বসে থাকবে, এমনটা আশা করা বোকামি। পাশের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মুসলিমরাও জেগে উঠবে, প্রতিবাদ করবে, নিন্দা জানাবে এটাই স্বাভাবিক।

পৃথিবীতে অনেক বন্ধু-রাষ্ট্র শত্রু হয়েছে আবার শত্রু-রাষ্ট্র বন্ধু হয়েছে। ভারত আমাদের শত্রু হয়ে যাক, তা আমরা কখনই চাই না। কারণ আমাদের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা বিশ্বাসী। কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। এ নীতি আমরা মেনে চলি। আর ভারত যেহেতু স্বাধীনতার সময় পাশে ছিল, তাই তারা আমাদের ভালো বন্ধু।

বর্তমান পরাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, আফগানিস্তানের নিঃস্ব মুসলমানদের কাছে কৌশলগত কারণে হেরে যুদ্ধ গুটিয়ে নিয়েছে। ২০০১-২০২০ সাল পর্যন্ত চলা এ যুদ্ধে আফগান মুজাহিদরা বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা সন্ত্রাসী নন, তারা নিরাপদ। তাদের ওপর যা হয়েছে, তা অন্যায়। আমেরিকা সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসী বলে যাদেরকে এত বছর বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিল, আজ তারা কুর্নিশ করছে। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে, ‘আফগান তালেবান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়’।

ভারতকে এর থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। মুসলিমরা কোনো দেশেই সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে না। তারা সন্ত্রাসী নয়। কেবল তাদের ওপর অন্যায় করা হলে, তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তাই মোদি তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে,

মুসলমানরা নজরুলের ভাষায় বলে উঠবে-

‘মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত।’

লেখক : লেকচারার ও কলাম লেখক

[email protected]

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন