‘করোনা’ থেকে বাঁচতে কুনুতে নাজিলা পড়ুন

  এসএম আনওয়ারুল করীম ২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে আমাদের প্রিয় ভূমি বাংলাদেশেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে সবার মাঝে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

১. রোগ-মহামারী কিংবা দুর্যোগ- বান্দাদের পরীক্ষা করতে বিভিন্ন সময় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আসে (সূরা বাকারা : ১৫৫)। তাই এ সময় সবার উচিত ধৈর্যধারণ করা, আল্লাহতায়ালার ওপর বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

২. বিভিন্ন শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী এমন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল। মহানবী (সা.)-এর সময়েও মহামারী রোগ ছড়িয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরশাদ করেছেন, যদি তোমরা মহামারীর কোনো সংবাদ শোন তাহলে সেখানে প্রবেশ থেকে বিরত থাক। আর যদি কোনো শহরে বা নগরে কেউ সেই মহামারীতে আক্রান্ত হয় তাহলে সেখান থেকে তোমরা বের হয়ো না (বুখারি, হাদিস নং ৫৩৯৬)।

৩. পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সবকিছু আল্লাহতায়ালার ইচ্ছাতেই ঘটে। সবকিছুর কারণ ও প্রতিকার বুঝতে আমরা সামর্থ্য রাখি না। তাই এ মুহূর্তে আমাদের উচিত, মসজিদে ও ঘরে সম্মিলিত কিংবা একাকীভাবে দোয়ার আমল করা। করোনাভাইরাসসহ সব ধরনের রোগ থেকে পরিত্রাণ চাওয়া।

৪. প্রত্যেক মসজিদে ফজর নামাজে ‘কুনুতে নাজেলা’ পড়া। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) ফজরের নামাজের সময় কোনো জাতির জন্য দোয়া করতে কুনুতে নাজেলা পড়তেন (তিরমিজি, হাদিস নং ৪০১)।

৫. সর্বদা পরিচ্ছন্ন থাকুন। জীবাণুমুক্ত থাকুন। দু’হাত ধুয়ে নিন। সব সময় অজু অবস্থায় থাকতে চেষ্টা করুন। ময়লা-আবর্জনার মাধ্যমে কোনো ব্যাধি যেন না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রোগ নিরাময়ে সহযোগী- একটি সুন্নাহসম্মত কাজ।

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের ব্যক্তিগত হাইপিংটা কন্ট্রোল করতে হবে। কারণ সব হাঁচি-কাশিই করোনাভাইরাস নয়। তবে একটু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কাশি দেয়ার সময় হাতটা মুখ থেকে দূরে রাখতে হবে। সব সময় কাছে টিস্যু পেপার রাখতে হবে।

যখন হাঁচি-কাশি দেবেন তখন টিস্যু ব্যবহার করবেন এবং তা ফেলে দেবেন। একই টিস্যু দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবে না। সাবান দিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফেনা করে ভালোভাবে হাতটা পরিষ্কার করতে হবে। যেখানে সেখানে থুথু ফেলা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেহেতু সবাই একসঙ্গে থাকে, মেঝেতে সবাই একসঙ্গে ঘুমায়- এ ক্ষেত্রে কারও জ্বর-কাশি হলে তাকে আলাদা কোনো রুমে রাখা উচিত। একটু সচেতনতার মাধ্যমে অসুস্থদের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে। যখনই সন্দেহ হবে কোনো ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে, তখনই স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মসজিদুল হারামের খতিব আবদুর রহমান সুদাইসী গত ৮ মার্চ এশার নামাজের পর কাবা চত্বরে বয়ান করেছেন। তিনি উপস্থিত লোকদের উদ্দেশে বলেন, হে আমার মুসলমান ভাইয়েরা! এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ ভাইরাস আল্লাহর হেকমতেই কার্যকর হয় এবং তাঁর কুদরতেই হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরীক্ষা।

যাতে বান্দা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। তিনি বলেন, কোনোভাবেই আল্লাহর প্রতি আস্থাহীন হওয়া মানুষের উচিত নয়। বরং প্রয়োজন তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করা। তাঁর ওপর ভরসা রাখা ও দোয়া করা। যাতে আল্লাহ এ ভাইরাস ও মহামারী থেকে মানবতাকে হেফাজত করেন।

লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত