কোরআনে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন
jugantor
কোরআনে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন

  মেহেদী হাসান সাকিফ  

২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের জীবন সামান্য কিছু সময়ের সমষ্টি মাত্র। দুনিয়ার এ ক্ষণিক মুহূর্তেও এমন কে নেই- যে সফলতার সুধা পান করতে চায় না। কোনো ব্যক্তি যখন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর নিয়ত করেন- এটিই তার সফলতা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মানবজীবনের সফলতার মানদণ্ড ঘোষণা করেছেন, ‘যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন- কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল (সূরা মুলক, আয়াত-২)।

সৃষ্টিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি সৎ আমল করে- সেই সর্বশ্রেষ্ঠ।

সৎ আমলের পরিচয় তুলে ধরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি ভালো কর্মী যে আল্লাহতায়ালার হারাম বিষয়াদি থেকে সর্বাধিক বেঁচে থাকে এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্য করার জন্য সদাসর্বদা উন্মুখ হয়ে থাকে (কুরতুবী)।

অথচ আমাদের কারও কারও কাছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের নাম সফলতা। আবার অনেকের কাছেই বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া। কিংবা বিপুল সুনাম অর্জনের নামই সফলতা। বলা হয়ে থাকে, দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত। মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন একই সূত্রে গাঁথা। তাই এগুলোর একটিও মুমিনের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সফলতার মাপকাঠি হতে পারে না। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়াবনত। আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ। আর যারা জাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়।

আর যারা তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া। নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। আর যারা নিজেদের আমানতগুলো ও অঙ্গীকারে যত্নবান। আর যারা নিজেদের সালাতগুলো হেফাজত করে। তারাই হবে ওয়ারিশ। যারা ফেরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে সূরা মুমিনুন, আয়াত (১-১১)।

আল্লাহর ভয় অর্জন করা হচ্ছে জীবনে সফলতা অর্জনের একটি অন্যতম মানদণ্ড। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে তাকওয়াসম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত (সূরা হুজরাত, আয়াত ১৩)।

যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে তিনি দুনিয়া ও আখিরাত দু’জগতেই সম্মানিত হন। সবাই তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা তালাক, আয়াত (২-৩)।

এ ছাড়া জীবনে সফলতার অনেক পথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণনা করেছেন। এর একটি পথ হচ্ছে, যে কৃপণতা করে না- সে সফল : ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর, শোন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত তারাই সফলকাম’ (সূরা তাগাবুন : ১৬)।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবন যেমন সুন্দর হয় তেমনিভাবে জীবনে আসে সফলতা। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা দরকার যারা মানুষকে ভালোর দিকে আহ্বান করে এবং সৎকাজের আদেশ করতে থাকে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে থাকে, আর এরাই হবে সফলকাম’ (সূরা আলে-ইমরান : ১০৪)।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার তুচ্ছতা সম্বন্ধে এক হাদিসে আছে- জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কান কাটা মৃত বকরির বাচ্চার পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটিকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পছন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটিকে কোনো কিছুর বিনিময়েই নিতে পছন্দ করব না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটি তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ)-এর চেয়েও নিকৃষ্ট’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

কোরআনে আল্লাহ পথ দেখিয়েছেন

 মেহেদী হাসান সাকিফ 
২০ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের জীবন সামান্য কিছু সময়ের সমষ্টি মাত্র। দুনিয়ার এ ক্ষণিক মুহূর্তেও এমন কে নেই- যে সফলতার সুধা পান করতে চায় না। কোনো ব্যক্তি যখন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর নিয়ত করেন- এটিই তার সফলতা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মানবজীবনের সফলতার মানদণ্ড ঘোষণা করেছেন, ‘যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন- কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল (সূরা মুলক, আয়াত-২)।

সৃষ্টিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি সৎ আমল করে- সেই সর্বশ্রেষ্ঠ।

সৎ আমলের পরিচয় তুলে ধরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সে ব্যক্তি ভালো কর্মী যে আল্লাহতায়ালার হারাম বিষয়াদি থেকে সর্বাধিক বেঁচে থাকে এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্য করার জন্য সদাসর্বদা উন্মুখ হয়ে থাকে (কুরতুবী)।

অথচ আমাদের কারও কারও কাছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের নাম সফলতা। আবার অনেকের কাছেই বিপুল পরিমাণ বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া। কিংবা বিপুল সুনাম অর্জনের নামই সফলতা। বলা হয়ে থাকে, দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত। মুমিনের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন একই সূত্রে গাঁথা। তাই এগুলোর একটিও মুমিনের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সফলতার মাপকাঠি হতে পারে না। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, অবশ্যই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়াবনত। আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ। আর যারা জাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়।

আর যারা তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া। নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। আর যারা নিজেদের আমানতগুলো ও অঙ্গীকারে যত্নবান। আর যারা নিজেদের সালাতগুলো হেফাজত করে। তারাই হবে ওয়ারিশ। যারা ফেরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে সূরা মুমিনুন, আয়াত (১-১১)।

আল্লাহর ভয় অর্জন করা হচ্ছে জীবনে সফলতা অর্জনের একটি অন্যতম মানদণ্ড। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে তাকওয়াসম্পন্ন। নিশ্চয় আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত (সূরা হুজরাত, আয়াত ১৩)।

যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে তিনি দুনিয়া ও আখিরাত দু’জগতেই সম্মানিত হন। সবাই তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। সূরা তালাক, আয়াত (২-৩)।

এ ছাড়া জীবনে সফলতার অনেক পথ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনুল কারিমে বর্ণনা করেছেন। এর একটি পথ হচ্ছে, যে কৃপণতা করে না- সে সফল : ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর, শোন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত তারাই সফলকাম’ (সূরা তাগাবুন : ১৬)।

সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবন যেমন সুন্দর হয় তেমনিভাবে জীবনে আসে সফলতা। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা দরকার যারা মানুষকে ভালোর দিকে আহ্বান করে এবং সৎকাজের আদেশ করতে থাকে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে থাকে, আর এরাই হবে সফলকাম’ (সূরা আলে-ইমরান : ১০৪)।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার তুচ্ছতা সম্বন্ধে এক হাদিসে আছে- জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি কান কাটা মৃত বকরির বাচ্চার পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে এটিকে এক দিরহামের বিনিময়ে নিতে পছন্দ করবে? তারা বললেন, আমরা তো এটিকে কোনো কিছুর বিনিময়েই নিতে পছন্দ করব না। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এটি তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ)-এর চেয়েও নিকৃষ্ট’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৭)।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন