করোনাভাইরাস: জুমার নামাজে বাংলা বয়ান পরিহার করুন

  সুফিয়ান ফারাবী ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ৩৯ জন।

আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে ও নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিনে আছেন অসংখ্য মানুষ।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জনসমাগম বা গণজমায়েত এড়িয়ে চলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত সর্বোচ্চ গণজমায়েত হয় প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজে। মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয় মসজিদে মসজিদে।

গণজমায়েতই যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রধান কারণ, এমন সময় কেমন হওয়া উচিত জুমার নামাজ- এ বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের চার শীর্ষ আলেম।

তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, মুসল্লিরা ওজু, সুন্নত ও সব ধরনের নফল নামাজ আদায় করবে নিজ নিজ গৃহে। জামে মসজিদে শুধু জুমার দু’রাকাত নামাজ ও খুতবা হতে পারে।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জুমার নামাজকে শুধু ফরজের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা জরুরি। জুমার দুই রাকাত নামাজ এবং খুতবার চেয়ে বেশি কিছু করার প্রয়োজন এ মুহূর্তে নেই।

বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব আলেম জুমা সীমিত করার পক্ষে মত দিচ্ছেন। যতটুকু না হলে জুমা আদায় হয় না, ততটুকু পালন করে বাকি অন্যান্য সুন্নত ও নফল ইবাদত ঘরে আদায় করবে। বাংলায় যে বয়ানটি করা হয়, সেটা কোনো জরুরি বিষয় নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর প্রয়োজনীয়তাও নেই।

এ ছাড়া আরবিতে যে খুতবা প্রদান করা হয় সেটিও অতি সংক্ষিপ্ত করতে হবে। সংক্ষিপ্ত খুতবা এমন হতে পারে- সেখানে, হামদ, দরুদ, কোরআনের আয়াত, দোয়া থাকবে। অর্থাৎ, যতটুকু না হলেই নয় এতটুকু পড়তে হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক শাইখুল হাদিস ড. মুশতাক আহমদ বলেন, মানুষের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে যেমন বাজার খোলা রাখতে হয়, তেমনিভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক চাহিদা মেটাতে মসজিদও খোলা রাখতে হবে। মসজিদে আজান নামাজ সব কিছু চলবে। মসজিদ রোগ বহন করে না। রোগ বহন করে মানুষ। সুতরাং আমরা মসজিদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করব।

কিন্তু আমরা যারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বোধ করছি, অথবা আক্রান্ত হয়ে গেছি, তারা কোনোক্রমেই মসজিদে আসব না। এমনকি যেখানে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, এমন স্থানে গমনাগমনও পরিহার করতে হবে।

ড. মুশতাক বলেন, আমরা বলব আপনি যদি অল প্রটেক্টেড হন, তাহলে আপনার জন্য মসজিদ উন্মুক্ত। কিন্তু যদি আপনি অল প্রটেক্টেড না হন, তাহলে আপনার জন্য কোনো ধরনের জনসমাগমে যাওয়া উচিত হবে না। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা উভয়টি ইসলামে পরিপূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

আপনার দ্বারা আপনার পরিবার-পরিজন অথবা অন্য যে কোনো মানুষ আক্রান্ত হোক এটা যেমনিভাবে আপনি চান না, ঠিক তেমনিভাবে শরিয়তও এটা চায় না। সুতরাং অল প্রোটেকশন না নিয়ে আপনি মসজিদে যাবেন না।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র ইমাম ও খতিব মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, জুমার দিনে শুধু জুমার দু’রাকাত নামাজ ছাড়া অন্যান্য সুন্নত নামাজ নফল ইবাদত ঘর থেকে আদায় করে আসাটাই হচ্ছে সাহাবিদের রীতি। তারা সবাই জুমার নামাজ ছাড়া অন্যান্য আমল ঘর থেকে আদায় করে আসতেন।

জুমার দিনে আমাদের দেশে যে বাংলা ওয়াজ হয়, সেটা নফল। বর্তমান যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তাতে বাংলা ওয়াজ পরিহার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

জীবন রক্ষা করা ফরজ। যে ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তার রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার সর্বশেষ সময়সীমা ১৪ দিন। কিন্তু তিনি ভাইরাস সংক্রমণ করবেন যেদিন থেকে আক্রান্ত হয়েছে সেদিন থেকেই। সুতরাং বাছাই করে মসজিদে মুসল্লি ঢোকানো কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। এ জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলা, জনাকীর্ণ এলাকা পরিহার করতে হবে। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ যদি মসজিদে না এসে ঘরে নামাজ আদায় করে নেয়, তবুও তিনি গুনাহগার হবেন না।

একই বিষয়ে লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, জুমার দিন মুসল্লিরা বাড়ি থেকে অজু করে আসবে। জুমার আগের ও পরের সুন্নত নামাজ, নফল ইবাদাত, কোরআন তেলাওয়াতসহ এ জাতীয় সব কাজ মুসল্লিরা বাড়িতে আদায় করবে।

আমাদের দেশে জুমার দিনে যে বাংলা বক্তব্য প্রদান করা হয় এটা শরিয়তের কোনো বিষয় নয়। সুতরাং এটা পরিহার করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

তিনি বলেন, যেহেতু ভাইরাসটি জনসমাগমের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়, এজন্য যতটুকু সম্ভব জনসমাগম এড়িয়ে চলার নিমিত্তে জুমার দিনে আরবি খুতবা এবং জুমার কেরাতও অতি সংক্ষিপ্ত করা জরুরি। আরবি খুতবাটি এমন হবে- জুমার নামাজ সহিহ হয়ে যায় এতটুকু পরিমাণ খুতবা হলেই যথেষ্ট।

এ ছাড়া গত জুমায় দেখা গেছে কিছু কিছু মসজিদে হেক্সিসল জাতীয় হ্যান্ডওয়াশ রাখা ছিল। এটা খুবই প্রশংসনীয় একটি কাজ। এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা যেতে পারে।

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত