জ্ঞানী আদম (আ.) কে সেজদা

  সৈয়দ হুমায়ূন কবীর ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আপনার রব যখন ফেরেশতাদের বললেন আমি জমিনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই, তারা বলল আপনি কি তথায় এমন এক জাতিকে সৃষ্টি করতে চান? যারা তথায় অশান্তি সৃষ্টি করবে, রক্ত প্রবাহিত করবে, আমরাই তো আপনার গুণগান গাই ও পবিত্রতা বর্ণনা করি। তিনি বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জান না। আর আমি তো মাটির মণ্ড থেকে মানব জাতিকে সৃষ্টি করব। তার আগে আমি জিন জাতিকে আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি যখন তাকে ঠিক করব এবং তাতে আমার মালিকীয় রুহ ফুঁকে দেব, আর আল্লাহ আদম (আ.)কে সব বস্তুর নাম শিখিয়ে দিলেন। অতঃপর ওগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও? যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল, আমরা আপনার গুণগান গাই, আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমরা আর কিছুই জানি না। তিনি বললেন, হে আদম! তুমি এদেরকে এগুলোর নাম বলে দাও, তিনি তখন তাদের এদের নাম বলে দিলেন। (আল্লাহ) বললেন, আমি কি বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের সব অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত। আর তোমরা যা প্রকাশ কর ও যা গোপন কর তা সম্পর্কেও আমি জ্ঞাত। আমি যখন ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সেজদা কর। তখন ইবলিস ছাড়া তারা সবাই সেজদা করল, সে অস্বীকার করল এবং অহঙ্কার করল, বস্তুত সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। আল্লাহতায়ালা বললেন, হে ইবলিস! তোমার কী হল যে তুমি সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না। সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। তিনি (আল্লাহ) বললেন- অতএব, তুই এখান থেকে নেমে যা, অতঃপর তোর এখানে অহঙ্কার করার কোনো অধিকার নেই। অতএব, তুই বের হয়ে যা, নিশ্চয়ই তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত। সে বলল আপনি যে কারণে আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব। তারপর আমি অবশ্যই তাদের নিকট আসব, তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডানে থেকে ও তাদের বামে থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। তিনি (আল্লাহ্) বললেন, তুই এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমাণিত অবস্থায় বের হয়ে যা, অবশ্য তাদের মধ্য থেকে যে তোর অনুসরণ করবে অবশ্যই আমি তোদের সবাইকে দিয়েই জাহান্নাম পরিপূর্ণ করব। কোরআনের আয়াত (২ঃ৩০-৩৮), (৭ঃ১১-২৫), (১৫ঃ২৬-৪৪), (১৭ঃ৬১-৬৫), (২০ঃ১২০-১২৩), (৩৮ঃ৬৭-৮৭)

পাকপাঞ্জাতনের নামের জ্ঞান আদম (আ.)কে শিখানো হয়েছিল বা দান করা হয়েছিল। পুতঃপবিত্র-বিশুদ্ধদের নামের প্রভাবে আদম (আ.)-এর মধ্যে যে নুরের ঝলকানি এসেছিল নুরের তৈরি ফেরেশতারা তা দেখে সম্মোহিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহপাক কখনও অমূলক হুকুম দেন না। আল্লাহর হুকুমে আদম (আ.)কে সেজদা করা ফেরেশতাদের জন্য সম্পূর্ণভাবে মান্য করা ফরজ ছিল। আদম সৃষ্টির বিপক্ষে ফেরেশতাদের অভিমত থাকলেও আদম (আ.)-এর মধ্যে নুরে মোহাম্মদসহ আওলাদে মুহম্মদের নুর দেখে ফেরেশতারা আল্লাহর হুকুমে আদম (আ.)কে সেজদা করে। আজাজিল মাটির আদমের মধ্যে নুরে মোহাম্মদের উপস্থিতি আমলেই আনেনি, আজাজিল মাটির আদমকে মাটির আদম হিসেবেই দেখেছে, তাই আগুনের আজাজিল আল্লাহর হুকুমকে অমান্য করে মাটির আদমকে সেজদা না করে বিতাড়িত-অভিশপ্ত শয়তান হয়ে গেল। আজাজিল আদম (আ.)-এর মাধ্যমে নুরে মোহাম্মদ (সা.)কে সেজদা না করায় অভিশপ্ত-বিতাড়িত ইবলিস হয়ে গেল। ঠিক একইভাবে আওলাদে রাসূলদের সম্মান না করলে সে অভিশপ্ত-বিতাড়িত ইবলিসে পরিণত হয়ে যাবে। জ্ঞান-গরিমা আজাজিলের চেয়ে বেশি থাকলেও রেহাই পাবে না। নুরে মোহাম্মদ-নুরে পাকপাঞ্জাতন-নুরে আওলাদে রাসূল কিয়ামত পর্যন্ত এমনকি বেহেশতেও বর্তমান থাকবে। আওলাদে রাসূলের প্রতি মহব্বতের আনুগত্যশীলতা ছাড়া সৃষ্টি জগতের কারও কোনো উপায় নেই। বেহেশতি নারীদের সর্দার মা ফাতেমা। মা ফাতেমার প্রতি ও আওলাদে রাসূলদের প্রতি মহব্বতের আনুগত্যশীলতা ছাড়া কোনো মহিলা/নারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।

যুবক বেহেশতিদের সর্দার ইমাম হাসান-ইমাম হোসাইন। ইমাম হাসান-ইমাম হোসাইনের প্রতি ও আওলাদে রাসূলদের প্রতি মহব্বতের আনুগত্যশীলতা ছাড়া বেহেশতে প্রবেশ করা বা বেহেশতে স্থান পাওয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়। যাদের অন্তরে আওলাদে রাসূলের প্রতি মহব্বতের আনুগত্যশীলতা তিলমাত্র নেই, তারাই সারা বিশ্বে ধর্মের কথা প্রচার করে বেড়াচ্ছে (ইসলাম ধর্মের কথা অবশ্যই নয়)। আওলাদে রাসূলের বিরোধী চক্রের সদস্যরা মুসলমান (আত্মসমর্পিত) কিনা কোরআনের ভিত্তিতে বিবেচনা/বিচার করতে হবে।

সূরা-আলে ইমরানের ৩৩ নম্বর আয়াতে বোঝা যাচ্ছে আওলাদে রাসূলগণ সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। আওলাদে রাসূলগণের নাম যাদের জবানে-প্রচারে নেই সত্যিকারভাবে কোরআন মতে তারা মুসলমান কিনা এ সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিতে হবে। সূরা-আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতের শেষাংশের মতে পূতপবিত্র-বিশুদ্ধ আহলাল বাইত/আওলাদে রাসূলদের নাম বাদ দিয়ে ইসলাম ধর্মের নাম প্রচার হতে পারে না- অসম্ভব। সূরা-আলে ইমরানের ৬১ নম্বর আয়াত (মোবাহেলার আয়াত) অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে আল্লাহ্ ও রাসূলের বিবেচনা মতে সোয়া লাখ সাহাবিদের একজনেরও স্থান হয়নি মোবাহেলার ময়দানে। রাসূলপাক পূতপবিত্র-বিশুদ্ধ মা ফাতেমা, হজরত আলী, ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইনকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। ওই সময় ইমাম হাসানের বয়স ছিল ৭ বছরের মতো এবং ইমাম হোসাইনের বয়স ছিল ৬ বছরের মতো। পূতপবিত্র-বিশুদ্ধ আওলাদে রাসূল কচি শিশু ইমাম হাসান-ইমাম হোসাইনের সমতুল্য সোয়া লাখ সহাবির মধ্যে একজনও ছিল না বা রাসূলেপাক একজনকেও আওলাদে রাসূলের সমতুল্য বিবেচনা করেনি। এ বেলায়াতি জামানায় আওলাদে রাসূলদের অবজ্ঞা করেই যে যার মতো শ্রেষ্ঠ হওয়ার দাবি করছে।

লেখক : প্রাবন্ধিক টোপেরবাড়ী দরবার শরিফ

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫১ ২৫
বিশ্ব ৮,৫৬,৯১৭১,৭৭,১৪১৪২,১০৭
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×