মোমিন কখনও হতাশ হয় না

  ফিরোজ আহমাদ ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যু যেমন সত্য, কেউ তা রোধ করতে পারে না। রোগ-ব্যাধি মুমিনের ইমান পরীক্ষার কষ্টিপাথর। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে’ (সূরা বাকারা : ১৫৫)। ‘আর ভালো এবং মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি’ (সূরা আম্বিয়া : ৩৫)। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের আক্রমণে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে মোমিন বান্দার করণীয় হল আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। প্রতিটি বালা-মুসিবত কিংবা রোগ-ব্যাধি আসার পেছনে কোনো না কোনো রহস্য থাকে, যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। আল্লাহতায়ালা এমনিতে বা অযথা কোনো কাজ করেন না কিংবা বান্দার ওপর কোনো বিষয় চাপিয়ে দেন না। তিনি রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের ওপর যে সব যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এ সবের দ্বারা আল্লাহ তার গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (বোখারি : ৫২৩৯।) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ইমানদার ব্যক্তির শরীরের একটি কাঁটার আঘাত কিংবা তার চেয়ে বড় কোনো আঘাত লাগলে আল্লাহতায়ালা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা একটি গোনাহ মাফ করে দেন।’ (মুসলিম : ৬৩২৮।)

দুনিয়াতে যত ধরনের রোগ-ব্যাধি রয়েছে আল্লাহতায়ালাই মানুষকে প্রতিটি রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। এমন কোনো রোগ-ব্যাধি নেই যে চিকিৎসা পদ্ধতি তিনি মানুষকে শিক্ষা দেননি। রোগ-ব্যাধি যেমন তিনি দিয়ে থাকেন, শেফাও তিনিই করে থাকেন। তিনিই আমাদের একমাত্র প্রভু। তিনি ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো শেফা দানকারী নেই। হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (বোখারি : ৫২৭৬।) হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.)-কে প্লেগ নামক মহামারী রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, তা হচ্ছে আল্লাহর এক ধরনের আজাব। যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তার ওপর প্রেরণ করেন। তবে আল্লাহ মুমিনের জন্য তা রহমত বানিয়ে দিয়েছেন’ (বোখারি : ৩৩২)।

রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাবের সময় মোমিনদের কখনও হতাশ হতে নেই। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা হতাশ হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না, তোমরা যদি ইমানদার হও তাহলে তোমরা সফল হবে’ (সূরা : আলে ইমরান : ১৩৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন তারা খুশি হয়; আবার যখন তাদেরই মন্দ কাজের কারণে তাদের ওপর কোনো মুসিবত পতিত হয় তখন তারা নিরাশ হয়ে পড়ে’ (সূরা রুম : ৩৬)। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব ধরনের রোগ-ব্যাধি, বালা-মুসিবত ও মহামারী থেকে শিক্ষা নেয়ার তাওফিক দিন।

লেখক : ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষক

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত