আওলাদে রাসূলরা মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ

  সৈয়দ হুমায়ূন কবীর ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

[দ্বিতীয় অংশ]

নিম্নের হাদিস ও আলী ওয়াজহুর বক্তব্যে কোরআন সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্ট : হাদিস-৩৭২৬। হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তভাবে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনও গোমরাহ হবে না। তার একটি অপরটির চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ; আল্লাহর কিতাব যা আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত প্রসারিত এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও পৃথক হবে না কাওসার নামক ঝরনায় আমার সঙ্গে উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব, তোমরা লক্ষ কর আমার পরে এতদোভয়ের সঙ্গে তোমরা কী রূপ আচরণ কর। (মুসলিম)- তিরমিজি শরিফ মা. মাজহারুল ইসলাম- মীনা বুক হাউস কোরআন হাদিস অবজ্ঞা বা পাশ কাটানোর কোনো বিধান ইসলাম ধর্মে নেই। উপরোক্ত হাদিসের যথোপযুক্ত ব্যাখ্যা করেছেন হজরত আলী ওয়াজহু। ‘ইসলামী উম্মাহর কাউকে আহলাল বাইতের সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কেউ তার অনুগ্রহভাজন হয়ে থাকলেও তাকে তাদের সমতুল্য মনে করা যাবে না। তারা হলেন দ্বীনের ভিত্তিমূল ও ইমানের স্তম্ভ। তাদের কেউ ডিঙিয়ে যেতে চাইলে আবার ফিরে আসতে হয় তাদের কাছে। আবার যারা পশ্চাতে পড়ে থাকে তাদের অনুসরণ করতে হয়। মূলত তারা রাসূলের বেলায়াতের অধিকারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। রাসূলের আমানত ও উত্তরাধিকার তাদেরই অনুকূলে। কাজেই ন্যায় ও সত্যের অনুসারীদের তাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তোমরা কোরআনকে যতটুকু মর্যাদা দাও তাদেরও ততটুকু মর্যাদা দিও এবং তৃষ্ণার্ত উট যেভাবে পানির ঝরনার দিকে ছুটে যায়, হেদায়েতের তৃষ্ণা মিটানোর জন্য তোমরাও সেভাবে তাদের দিকে যেয়ো।’- নাহ্জ আল বালাঘা-মাওলা আলী আল্লাহর কোরআন, কোরআনসংশ্লিষ্ট হাদিস এবং আলী ওয়াজহুর বক্তব্যে আহলাল বাইত- আওলাদে রাসূলের সমতুল্য-সমকক্ষ কেউ নেই। নূরে মোহাম্মদ- নূরে পাকপাঞ্জাতনের ধারক-বাহক আওলাদে রাসূলরা মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। আওলাদে রাসূলদের প্রতি সবাইকে মহব্বতের আনুগত্যশীলতায় থাকতে হবে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আওলাদে রাসূলদের প্রতি মহব্বতের আনুগত্যশীলতার বহিঃপ্রকাশ সেজদার মাধ্যমে হওয়া বাঞ্ছনীয়। নূরে মুহাম্মদ আওলাদে রাসূলদের যারা সেজদা করবে তারা ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। নিম্নের কোরআনের আয়াতগুলোসংশ্লিষ্ট শানেনুজুল ও সংশ্লিষ্ট হাদিসে নবী বংশধর- আওলাদে রাসূলদের মর্যাদা ও গুরুত্ব সুস্পষ্ট। সূরা শুরা : (২৩) এ সুসংবাদই আল্লাহ্ মোমিন ও পুণ্যবান বান্দাদের প্রদান করেন; আপনি বলুন, আত্মীয়তার সদ্ব্যবহার ব্যতীত তোমাদের কাছে আমি আর কিছুই চাই না। আর যে কল্যাণ করে আমি তাতে আরও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিয়ে থাকি, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ক্ষমাশীল গুণগ্রাহী। (২৪) তারা কি বলে, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা রচনা করেছে? আল্লাহ্ যদি চাইতেন, তবে আপনার মনে মোহর মেরে দিতেন। আর আল্লাহ্ মিথ্যাকে বিলুপ্ত করেন এবং হক প্রতিষ্ঠা করেন। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের অন্তরে যা আছে তা সবিশেষ অবহিত। (২৫) আর তিনি নিজ বান্দাদের তওবা গ্রহণ করেন এবং গুনাহগুলো মিটিয়ে দেন আর তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত। আয়াত- ২৪ : এ আয়াতের পূর্বে আয়াত নাজিল হলে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনার কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে আমাদের মহব্বত রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে? রাসূল (সা.) বললেন, ফাতিমা (রা.), আলী (রা.), হাসান (রা.) এবং হুসাইন (রা.)। তখন কতিপয় লোকের ধারণা

জন্মিল যে, রাসূল (সা.)-এর আদেশ দেয়ার উদ্দেশ্য হল তারা যেন রাসূল (সা.) এর পর আমাদের ওপর হুকুমত চালায় এবং আমরা তাদের প্রজা হয়ে থাকি। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (খাযিন) শানেনুজুল : আয়াত-২৫:২৪ নং আয়াতটি নাজিল হওয়ার পর কু-ধারণাকারীরা লজ্জিত হয়ে পড়ল এবং আবেদন করল হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আমাদের কু-ধারণা থেকে তওবা করছি। তখন তওবা গ্রহণের সুসংবাদে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। হজরত ইবনে আব্বাস থেকেই আরও বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি নাজিল হলে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ (সা.)কে জিজ্ঞেস করল, আপনার আত্মীয় কারা? তিনি বললেন আলী, ফাতেমা ও তাদের সন্তানসন্ততি। রাসূলূল্লাহ (সা.)-এর বংশধর হিসেবে তাদের মহব্বত ও সম্মান সৌভাগ্য ও সওয়াবের কারণ। অনেকেই এ ব্যাপারে শৈথিল্যের পরিচয় দিতে শুরু করলে হজরত ইমাম শাফেয়ী (রহ.) কয়েক লাইন কবিতায় তাদের তীব্র নিন্দা করেছেন। তার কবিতা নিম্নে উদ্ধৃত হল। হে আশ্বারোহী, তুমি মুহাসসাব উপত্যকার অদূরে থাম। প্রত্যুষে যখন হাজীদের স্রোত সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মতো মিনার দিকে রওনা হবে, তখন সেখানকার প্রত্যেক বাসিন্দা ও পথচারীকে ডেকে তুমি ঘোষণা কর, যদি কেবল মুহাম্মদ (সা,)-এর বংশধরের প্রতি মহব্বত রাখলেই মানুষ রাফেযি হয়ে যায়, তবে বিশ্ব জগতের সব জিন ও মানব সাক্ষী থাকুক, আমিও রাফেযি। বিশ্ব নবীর আহলাল বাইতের প্রতি কু-ধারণাকারী সাহাবিরা তওবাহর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়- আহলাল বাইতের প্রতি মহব্বত ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন-আলাদা করার কোনো উপায় নেই।

লেখক : প্রাবন্ধিক টোপেরবাড়ি দরবার শরিফ

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত