আমাদের প্রিয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
jugantor
আমাদের প্রিয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

  মোহাম্মদ তালহা তারীফ  

১৯ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রেকিং নিউজ দেখে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমাদের প্রিয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ আর নেই। যুগান্তরের ফিচার পাতা ইসলাম ও জীবনের লেখালেখির কারণে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল কয়েকদিন। বড় মানুষদের সামনে থেকে দেখলে বোঝা যায়, কেন তারা বড়। বড়ত্ব কীভাবে বিনয়ের মোড়কে ঢাকা থাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে দেখে শিখেছি আরও একবার।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। ওইবারই প্রথম আলাপচারিতার সুযোগ হয় মানুষটির সঙ্গে। সামান্য আলাপচারিতার পর বুঝলাম বড় মনের মানুষ তিনি।

কোনো ধরনের গোঁড়ামি বা সংকীর্ণতা নেই মানুষটির ভেতর। বড় পদ নাকি মানুষকে বদলে দেয়। কখনও কখনও ছোটও করে দেয় মানুষের স্বভাব-আচরণ। যখন শেখ আবদুল্লাহ মন্ত্রী হলেন, শুভকামনা জানাতে ফোন করেছিলাম। ফোন ধরেই বলেছিলাম, স্যার তো মন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের ভুলে যাবেন না তো? আগের মতোই স্বভাবসুলভ সহজ কণ্ঠে বললেন, ‘আরে না। তুমি ফোন দিও। আসিও। দেখিও ভুলে যাই কিনা।’

তিনি দায়িত্ব পেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলেন। আলেমদের প্রতি তার হৃদয়ের টান বলে বোঝানো যাবে না। দায়িত্বের শুরুতে বলেছিলেন, ‘আলেমদের নিয়ে কাজ করব।’ প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

আলেমরা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন সেভাবেই কাজ করেছেন। ইজতেমার সমস্যা সমাধান, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান, বিশিষ্ট আলেমদের সরকারি উদ্যোগে হজ করানোসহ তার অনেক অবদান ইতিহাস মনে রাখবে। বিশেষ করে হাজীদের ভোগান্তি কমাতে তার প্রচেষ্টা পরবর্তীদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ধর্মীয় যে কোনো সমস্যা বিচক্ষণতার সঙ্গে সমাধান করতেন তিনি।

একজন নিরহংকারী মানুষ ছিলেন আমাদের শেখ আবদুল্লাহ। আমি একজন মন্ত্রী, এমন ভাব কখনও দেখা যায়নি তার মধ্যে। অতি সম্প্রতি তার দুটি সাক্ষাৎকার নেয়ার সৌভাগ্য হয় আমার। তখন তিনি অফ দ্য রেকর্ডে কিছু কথা বলেন, যা আজ দেশের মানুষের জানা দরকার।

তিনি বলেন, আল্লাহর নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া আদায় করতে হয়। তার নেয়ামত মূল্যায়ন করতে হয়। আমি মন্ত্রী হয়েছি, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য অনেক বড় নেয়ামত। মন্ত্রী হয়েছি ভাব দেখানোর জন্য নয়, কাজ করার জন্য। আলেমদের পাশে থাকা বড়ই ভাগ্যের ব্যাপার। তাদের পাশে থাকা মানে হাশরেও তাদের পাশে থাকা।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে ৮০ হাজার আলেমের কর্মসংস্থান হয়েছে। দ্রুত তাদের ভালোমানের বেতন নিশ্চিত করব। আলেমদের আর্থিক সহায়তা করব। করোনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সম্মানী পাননি। সে ব্যবস্থাও করব ইনশাআল্লাহ।

যেমন বলেছিলেন তেমন করেও দেখিয়েছেন। মসজিদ-মাদ্রাসায় সরকারি অনুদানের সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। কিন্তু মসজিদ কমিটি সে অনুদান হস্তান্তর করতে টালবাহানা করার অভিযোগ শোনা গেল।

আমি বললাম, স্যার! দেশের নানা জায়গায় কমিটি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি অনুদান দিতে গড়িমসি করছে। এটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিলেন। সমস্যা সমাধান হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকরাও সম্মানী পেলেন।

গত সপ্তাহে বলেছিলাম, আপনি মন্ত্রী, আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভয় হয়। হেসে বললেন, কিসের ভয়? আমি তো একজন সাধারণ মানুষ। যা মন চায় বলে ফেল। তিনি খুবই হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন। একবার মজা করে বলেছিলাম, আপনার ছবিসহ যুগান্তরে সাক্ষাৎকার দেব। শুনে বললেন, আমি নিয়মিত যুগান্তর পড়ি। খুব ভালো পত্রিকা। হায়! আজ যুগান্তরে ছবিসহ আপনার স্মৃতিচারণ ছাপা হল। কিন্তু আপনি ফোন করে আর বলবেন না, ‘তালহা ভালোই লিখেছ। সবার কাছে দোয়া চাই।’ হে আল্লাহ! আমাদের

নিরহংকারী ধর্মমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহকে আপনার প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে জান্নাতে জায়গা করে দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের প্রিয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

 মোহাম্মদ তালহা তারীফ 
১৯ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রেকিং নিউজ দেখে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমাদের প্রিয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ আর নেই। যুগান্তরের ফিচার পাতা ইসলাম ও জীবনের লেখালেখির কারণে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল কয়েকদিন। বড় মানুষদের সামনে থেকে দেখলে বোঝা যায়, কেন তারা বড়। বড়ত্ব কীভাবে বিনয়ের মোড়কে ঢাকা থাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে দেখে শিখেছি আরও একবার।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। ওইবারই প্রথম আলাপচারিতার সুযোগ হয় মানুষটির সঙ্গে। সামান্য আলাপচারিতার পর বুঝলাম বড় মনের মানুষ তিনি।

কোনো ধরনের গোঁড়ামি বা সংকীর্ণতা নেই মানুষটির ভেতর। বড় পদ নাকি মানুষকে বদলে দেয়। কখনও কখনও ছোটও করে দেয় মানুষের স্বভাব-আচরণ। যখন শেখ আবদুল্লাহ মন্ত্রী হলেন, শুভকামনা জানাতে ফোন করেছিলাম। ফোন ধরেই বলেছিলাম, স্যার তো মন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের ভুলে যাবেন না তো? আগের মতোই স্বভাবসুলভ সহজ কণ্ঠে বললেন, ‘আরে না। তুমি ফোন দিও। আসিও। দেখিও ভুলে যাই কিনা।’

তিনি দায়িত্ব পেয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলেন। আলেমদের প্রতি তার হৃদয়ের টান বলে বোঝানো যাবে না। দায়িত্বের শুরুতে বলেছিলেন, ‘আলেমদের নিয়ে কাজ করব।’ প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

আলেমরা যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন সেভাবেই কাজ করেছেন। ইজতেমার সমস্যা সমাধান, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান, বিশিষ্ট আলেমদের সরকারি উদ্যোগে হজ করানোসহ তার অনেক অবদান ইতিহাস মনে রাখবে। বিশেষ করে হাজীদের ভোগান্তি কমাতে তার প্রচেষ্টা পরবর্তীদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ধর্মীয় যে কোনো সমস্যা বিচক্ষণতার সঙ্গে সমাধান করতেন তিনি।

একজন নিরহংকারী মানুষ ছিলেন আমাদের শেখ আবদুল্লাহ। আমি একজন মন্ত্রী, এমন ভাব কখনও দেখা যায়নি তার মধ্যে। অতি সম্প্রতি তার দুটি সাক্ষাৎকার নেয়ার সৌভাগ্য হয় আমার। তখন তিনি অফ দ্য রেকর্ডে কিছু কথা বলেন, যা আজ দেশের মানুষের জানা দরকার।

তিনি বলেন, আল্লাহর নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া আদায় করতে হয়। তার নেয়ামত মূল্যায়ন করতে হয়। আমি মন্ত্রী হয়েছি, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার জন্য অনেক বড় নেয়ামত। মন্ত্রী হয়েছি ভাব দেখানোর জন্য নয়, কাজ করার জন্য। আলেমদের পাশে থাকা বড়ই ভাগ্যের ব্যাপার। তাদের পাশে থাকা মানে হাশরেও তাদের পাশে থাকা।

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে ৮০ হাজার আলেমের কর্মসংস্থান হয়েছে। দ্রুত তাদের ভালোমানের বেতন নিশ্চিত করব। আলেমদের আর্থিক সহায়তা করব। করোনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সম্মানী পাননি। সে ব্যবস্থাও করব ইনশাআল্লাহ।

যেমন বলেছিলেন তেমন করেও দেখিয়েছেন। মসজিদ-মাদ্রাসায় সরকারি অনুদানের সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। কিন্তু মসজিদ কমিটি সে অনুদান হস্তান্তর করতে টালবাহানা করার অভিযোগ শোনা গেল।

আমি বললাম, স্যার! দেশের নানা জায়গায় কমিটি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি অনুদান দিতে গড়িমসি করছে। এটা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিলেন। সমস্যা সমাধান হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকরাও সম্মানী পেলেন।

গত সপ্তাহে বলেছিলাম, আপনি মন্ত্রী, আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভয় হয়। হেসে বললেন, কিসের ভয়? আমি তো একজন সাধারণ মানুষ। যা মন চায় বলে ফেল। তিনি খুবই হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন। একবার মজা করে বলেছিলাম, আপনার ছবিসহ যুগান্তরে সাক্ষাৎকার দেব। শুনে বললেন, আমি নিয়মিত যুগান্তর পড়ি। খুব ভালো পত্রিকা। হায়! আজ যুগান্তরে ছবিসহ আপনার স্মৃতিচারণ ছাপা হল। কিন্তু আপনি ফোন করে আর বলবেন না, ‘তালহা ভালোই লিখেছ। সবার কাছে দোয়া চাই।’ হে আল্লাহ! আমাদের

নিরহংকারী ধর্মমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহকে আপনার প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে জান্নাতে জায়গা করে দিন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়