ইমামকে তার সম্মানী বুঝিয়ে দিন

  মুহাম্মাদ ইলিয়াস আলমগীর ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমাদের গ্রামের মসজিদের ইমামের কথা বলছি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়িয়ে যে বেতন তিনি পান তা ভদ্র সমাজে উল্লেখ না করলেই ভদ্রতা বজায় থাকবে। যৎসামান্য টাকা দিয়েই পুরো মাস তাকে সংসার চালাতে হয়। ছেলেপুলের আবদার পূরণ করতে হয়। বাবা-মায়ের ওষুধ কিনতে হয়।

বছরে এক-আধবার ছোট-বড় উপহার দিয়ে স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর অধিকার ওই ইমামেরও তো আছে। কিন্তু সেই বেতন দিয়ে ঠিকঠাক দুই বেলা পেট ভরে খাবার জোটে কিনা তাই তো সন্দেহ। আপনার সংসারের খরচ নিয়ে আপনি যেমন গভীর দুশ্চিন্তায় ভোগেন- সন্তান, স্ত্রীর মুখ গোমড়া দেখলে জীবনের মানে খুঁজে পান না; ওই ইমামেরও তেমনই হয়।

তিনি তো আমাদের মতোই মানুষ। তারও সন্তান আছে, স্ত্রী আছে, হাসি-আহ্লাদ আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি তো আর আসমান থেকে নেমে আসেননি। এ সমাজ-সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা আর দশজনের মতোই একজন সাধারণ মানুষ আমাদের ইমাম।

দুশ্চিন্তা নিয়ে, হতাশ মনে নামাজ পড়ালে কি নামাজের কোনো সমস্যা হয়? এ প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। এর উত্তর দেবেন মসজিদ কমিটি, মুসল্লি এবং সমাজের আপামর জনতা। যদি বলি, একজন ইমাম যদি সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অর্থের চিন্তায় পেরেশান হৃদয় নিয়ে নামাজে দাঁড়ান, সে ইমামের পেছনে যারা নামাজ পড়েন তাদের নামাজের কোনো সমস্যা হবে কি?

মসজিদের কমিটি আর মুসল্লিরা মনে করেন অল্প বেতন দিয়ে ইমামকে ঠকিয়ে তারা জিতে যাচ্ছেন। আসলে তা নয় বরং ক্ষতি যা হওয়ার আপনাদেরই হচ্ছে। যিনি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য, জান্নাতের আশায় নামাজ পড়েন এ বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। অনেকে হয়তো বলতে পারেন, ইমাম সাহেব তো দাওয়াতে গিয়ে, বিয়ে পড়িয়ে টাকা পান।

আফসোস! এটা যে কত জঘন্য এবং নিচু মনের যুক্তি তা বিবেকবান মানুষমাত্রই বুঝতে পারেন। আপনি এখন যে চাকরি করছেন, মনে করুন আপনার বেতন থেকে অর্ধেক কেটে দিয়ে আপনাকে বলল, তুমি এই করে সেই করে বাকিটা উপার্জন করে নাও। আপনি কি মেনে নেবেন? তাহলে একজন সম্মানিত ইমামের ক্ষেত্রে এমন যুক্তি কীভাবে আপনার মাথায় এলো?

আমাদের দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান লাখ লাখ টাকা খরচ করে ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন করেন। কোনো সন্দেহ নেই এটা খুব ভালো কাজ। কথা হল, এক রাত ওয়াজের বিনিময়ে যদি একজন ওয়ায়েজকে লাখ লাখ টাকা দিতে পারেন, তাহলে যে ইমাম সারা বছরই আমাদের পাশে থাকেন, সুখে-দুঃখে যার কাছে গিয়ে দোয়া চাই, তাকে কেন সম্মানজনক কোনো বেতন দিতে পারছি না।

তাকে যদি ভালো বেতন দিই তাহলে তিনি যেমন প্রশান্ত মনে নামাজ পড়াতে পারবেন তেমনি আমাদের নামাজও আরও বেশি কবুলিয়াতের যোগ্যতা অর্জন করবে। অনেক মুসল্লিই কাঁচুমাচু হয়ে হুজুরকে বলেন, হুজুর! আপনাকে যোগ্য সম্মানী দিতে পারছি ন। মনে কষ্ট নেবেন না। আরও নানা কথাবার্তা। আসলে এগুলো লোকদেখানো ছাড়া আর কিছুই না।

দুনিয়ার সব আপনি করতে পারছেন, এখন যদি একসিডেন্ট করেন বা মেয়ের বিয়ে দিতে যান এক টাকার জায়গায় একশ’ টাকা খরচ করবেন হাসি মুখে; শুধু ইমামের প্রাপ্য বেতনটুকু দিতেই আপনার গলা শুকিয়ে যায়! কে বলে আপনাকে মসজিদে এসে নামাজির বেশ ধরতে? আপনি কেন মসজিদের সভাপতি, সেক্রেটারি, ক্যাশিয়ারের পদ দখল করে বসে আছেন?

এসব যে নির্বাচনে জেতার জন্য, সমাজের চোখে ভালো মানুষ সাজার জন্য একটি জাল সার্টিফিকেট মাত্র- তা মানুষ ঠিকই বোঝে। তাই সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান। ইমামকে তার সম্মানী বুঝিয়ে দিন। নয়তো আল্লাহর আদালতে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত