আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন
jugantor
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

  এসএম আরিফুল কাদের  

১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। করোনার সংক্রমণ যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য আমাদের সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। নবীজি (সা.)-এর বলে দেয়া নির্দেশ মেনে চললে করোনার সংক্রমণ থামিয়ে দেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রথম কথা হল, সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একজন কোরআন বিশ্বাসী মুসলমান বিন্দু পরিমাণ অসতর্র্ক-অসংযত জীবনযাপন করে করোনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা জীবনযাপনে সতর্কতা অবলম্বন কর।’ (সূরা নিসা, আয়াত-৭১)। সতর্কতা হল, সরকার ঘোষিত লকডাউন ব্যবস্থা মেনে চলা। দেড় হাজার বছর আগেই রাসূল (সা.) মহামারীর সময় লকডাউন পালনের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘কোথাও মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তোমরা সেখান থেকে অন্য এলাকায় যেও না। আর অন্য এলাকা থেকে কেউ যেন মহামারী আক্রান্ত এলাকায় না ঢুকে (তিরমিজি, হাদিস নম্বর-১০৬৫)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং ধৈর্যের সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলে, এর বিনিময় সে সওয়াবের আশা করে আর তাকদিরের বিশ্বাস বজায় রাখে তাহলে এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে তাকে শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা দেয়া হবে।’ (বোখারি, হাদিস নম্বর-৫৩২৩)। আইসোলেশন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা থাকার নির্দেশ দিয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে চলাফেরা করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর-৫৬২৬)।

করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। একটু পর পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোন। বাসাবাড়ি, লিফট, সিঁড়ি, রেলিং, জামাকাপড় ও ঘরের জানালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু আপনাকে করোনা থেকেই বাঁচাবে না বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতেও সাহায্য করবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাওবাকারী এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন-পবিত্র বান্দাদের ভালোবাসেন’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২২২)। হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর-২২৩)। করোনা প্রতিরোধে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। মুসাফা ও কোলাকুলি এগুলো থেকে বিরত থাকুন। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বনু সাকিফের প্রতিনিধি দলে থাকা একজন কুষ্ঠ রোগীর বায়াত নেয়ার সময় তাকে স্পর্শ না করেই বায়াত সম্পন্ন করেছিলেন। (মুসলিম, হাদিস নম্বর-২২৩১)।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন। এ বিশ্বাস হৃদয়ে গেঁথে নিন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো বিপদই আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যা আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই আমাদের স্পর্শ করবে না; তিনিই আমাদের অভিভাবক। তার ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত’ (সূরা তাওবা, আয়াত-৫১)। বেশি বেশি ইস্তেগফার ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মহামারী চলে যায় বলে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে পাওয়া যায়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘জলে ও স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে’ (সূরা রুম, আয়াত-৪১)। আর হাদিসে আছে, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে নির্লজ্জতা বা অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন তাদের মধ্যে এমন সব সংক্রামক মহামারী ও যন্ত্রণাদায়ক রোগ দেখা যায়, যা তাদের আগের যুগে ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর-৪০১৯)।

লেখক : আলেম ও গবেষক

Email : [email protected]

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন

 এসএম আরিফুল কাদের 
১০ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। করোনার সংক্রমণ যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য আমাদের সবাইকে আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। নবীজি (সা.)-এর বলে দেয়া নির্দেশ মেনে চললে করোনার সংক্রমণ থামিয়ে দেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রথম কথা হল, সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একজন কোরআন বিশ্বাসী মুসলমান বিন্দু পরিমাণ অসতর্র্ক-অসংযত জীবনযাপন করে করোনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা জীবনযাপনে সতর্কতা অবলম্বন কর।’ (সূরা নিসা, আয়াত-৭১)। সতর্কতা হল, সরকার ঘোষিত লকডাউন ব্যবস্থা মেনে চলা। দেড় হাজার বছর আগেই রাসূল (সা.) মহামারীর সময় লকডাউন পালনের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘কোথাও মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তোমরা সেখান থেকে অন্য এলাকায় যেও না। আর অন্য এলাকা থেকে কেউ যেন মহামারী আক্রান্ত এলাকায় না ঢুকে (তিরমিজি, হাদিস নম্বর-১০৬৫)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং ধৈর্যের সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলে, এর বিনিময় সে সওয়াবের আশা করে আর তাকদিরের বিশ্বাস বজায় রাখে তাহলে এ অবস্থায় যদি সে মারা যায় তাহলে তাকে শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা দেয়া হবে।’ (বোখারি, হাদিস নম্বর-৫৩২৩)। আইসোলেশন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা থাকার নির্দেশ দিয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে চলাফেরা করবে না।’ (মুসলিম, হাদিস নম্বর-৫৬২৬)।

করোনা প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। একটু পর পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোন। বাসাবাড়ি, লিফট, সিঁড়ি, রেলিং, জামাকাপড় ও ঘরের জানালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু আপনাকে করোনা থেকেই বাঁচাবে না বরং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতেও সাহায্য করবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তাওবাকারী এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন-পবিত্র বান্দাদের ভালোবাসেন’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২২২)। হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর-২২৩)। করোনা প্রতিরোধে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। মুসাফা ও কোলাকুলি এগুলো থেকে বিরত থাকুন। ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বনু সাকিফের প্রতিনিধি দলে থাকা একজন কুষ্ঠ রোগীর বায়াত নেয়ার সময় তাকে স্পর্শ না করেই বায়াত সম্পন্ন করেছিলেন। (মুসলিম, হাদিস নম্বর-২২৩১)।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করুন। এ বিশ্বাস হৃদয়ে গেঁথে নিন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো বিপদই আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যা আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই আমাদের স্পর্শ করবে না; তিনিই আমাদের অভিভাবক। তার ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত’ (সূরা তাওবা, আয়াত-৫১)। বেশি বেশি ইস্তেগফার ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মহামারী চলে যায় বলে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে পাওয়া যায়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘জলে ও স্থলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে’ (সূরা রুম, আয়াত-৪১)। আর হাদিসে আছে, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে নির্লজ্জতা বা অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন তাদের মধ্যে এমন সব সংক্রামক মহামারী ও যন্ত্রণাদায়ক রোগ দেখা যায়, যা তাদের আগের যুগে ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর-৪০১৯)।

লেখক : আলেম ও গবেষক

Email : [email protected]