মানবপ্রেমের চর্চা হওয়া জরুরি
jugantor
মানবপ্রেমের চর্চা হওয়া জরুরি

  জামাল আস-সাবেত  

৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো পৃথিবী প্রেমের অভাবে ধুঁকছে। মানুষ না খেয়ে মরছে। গরিবের বুকে চাবুক মেরে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। মানুষ মানুষের জন্য এ কথাটি আজ রূপকথার মতোই শোনাচ্ছে। মানুষ আজ আর মানুষ নেই, পশু হয়ে গেছি আমরা সবাই। জীবনের কোথাও সুন্দর কিছুর চর্চা দেখি না। সবকিছু কেমন যেন ধোঁয়াশার মতো মনে হয়।

আজ যিনি সেবক, কাল তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। পৃথিবীটা ঠকবাজ প্রতারকে ভরে গেছে। তাহলে কি মানুষ ভালো হওয়া ছেড়ে দিয়েছে? ধর্ম ধর্ম বলে যারা চিৎকার করেন, তাদের দিকে তাকালেও হতাশ না হয়ে পারি না। তাদের মধ্যে এখন আর মানবতা-প্রেম-সহনশীলতার চর্চা দেখা যায় না।

পৃথিবীজুড়েই রাজনীতি আর ধর্মের সঠিক চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে। এ দুয়ের সঠিক চর্চার অভাবে জীবন বিষিয়ে উঠছে। যেখানে ধর্মের চেয়ে ধর্মের পোশাক পরা মানুষ বেশি, রাজনীতির ময়দানে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি সে দেশে মানুষ মানুষের মতো বাঁচতে পারে না।

এসব থেকে বাঁচার পথ হল হৃদয়ে মানবপ্রেমের চর্চা করা। নিজের মতো করেই অন্যকে নিয়ে ভাবা। যে ছোট্ট পিঁপড়াটি হেঁটে যাচ্ছে, তারও নিরাপদে বাঁচার অধিকার আছে।

হে মানুষ! স্বার্থপরের মতো বাঁচতে তোমাকে পাঠান হয়নি। তোমাকে সৃষ্টির সেরা বানানো হয়েছে। তোমার দায়িত্ব হল পৃথিবীর ভারসাম্য ঠিক রাখা। হে যুবক! দায়িত্বহীন জীবন তোমার জন্য নয়। কেবল আনন্দ ফুর্তির জীবন তোমাকে শোভা পায় না। সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে পারলেই তুমি হতে পারবে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। যা সত্য-সুন্দর তা দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করতে হবে।

অন্ধত্ব, বিবেকবহির্ভূত জীবন, ছুড়ে ফেলতে হবে। মানুষের মতো বাঁচতে হলে বীরের মতো লড়তে হবে। অপসংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে। মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে শান্তি-সুখের অমিয় জীবন। মন-মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে হবে কোরআনের আলোয়।

প্রজন্মকে অন্ধকারে-অশ্লীলতায় রেখে কখনও জাতির মুক্তি মেলবে না। কোরআনের বাইরে কোনো আদর্শ আমরা মেনে নেব না। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ইসলামী আদলে আমাদের সাহিত্য ও বিজ্ঞানে চর্চা বাড়াতে হবে। কূপমণ্ডূক হৃদয় দিয়ে কখনও উন্নত জীবন কল্পনা করা যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয় প্রশস্ত করে দিন। আমিন।

লেখক : লেকচারার ও কলামিস্ট

মানবপ্রেমের চর্চা হওয়া জরুরি

 জামাল আস-সাবেত 
৩১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো পৃথিবী প্রেমের অভাবে ধুঁকছে। মানুষ না খেয়ে মরছে। গরিবের বুকে চাবুক মেরে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। মানুষ মানুষের জন্য এ কথাটি আজ রূপকথার মতোই শোনাচ্ছে। মানুষ আজ আর মানুষ নেই, পশু হয়ে গেছি আমরা সবাই। জীবনের কোথাও সুন্দর কিছুর চর্চা দেখি না। সবকিছু কেমন যেন ধোঁয়াশার মতো মনে হয়।

আজ যিনি সেবক, কাল তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। পৃথিবীটা ঠকবাজ প্রতারকে ভরে গেছে। তাহলে কি মানুষ ভালো হওয়া ছেড়ে দিয়েছে? ধর্ম ধর্ম বলে যারা চিৎকার করেন, তাদের দিকে তাকালেও হতাশ না হয়ে পারি না। তাদের মধ্যে এখন আর মানবতা-প্রেম-সহনশীলতার চর্চা দেখা যায় না।

পৃথিবীজুড়েই রাজনীতি আর ধর্মের সঠিক চর্চা হারিয়ে যাচ্ছে। এ দুয়ের সঠিক চর্চার অভাবে জীবন বিষিয়ে উঠছে। যেখানে ধর্মের চেয়ে ধর্মের পোশাক পরা মানুষ বেশি, রাজনীতির ময়দানে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি সে দেশে মানুষ মানুষের মতো বাঁচতে পারে না।

এসব থেকে বাঁচার পথ হল হৃদয়ে মানবপ্রেমের চর্চা করা। নিজের মতো করেই অন্যকে নিয়ে ভাবা। যে ছোট্ট পিঁপড়াটি হেঁটে যাচ্ছে, তারও নিরাপদে বাঁচার অধিকার আছে।

হে মানুষ! স্বার্থপরের মতো বাঁচতে তোমাকে পাঠান হয়নি। তোমাকে সৃষ্টির সেরা বানানো হয়েছে। তোমার দায়িত্ব হল পৃথিবীর ভারসাম্য ঠিক রাখা। হে যুবক! দায়িত্বহীন জীবন তোমার জন্য নয়। কেবল আনন্দ ফুর্তির জীবন তোমাকে শোভা পায় না। সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে পারলেই তুমি হতে পারবে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। যা সত্য-সুন্দর তা দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করতে হবে।

অন্ধত্ব, বিবেকবহির্ভূত জীবন, ছুড়ে ফেলতে হবে। মানুষের মতো বাঁচতে হলে বীরের মতো লড়তে হবে। অপসংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে সমাজকে বাঁচাতে হবে। মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিতে হবে শান্তি-সুখের অমিয় জীবন। মন-মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে হবে কোরআনের আলোয়।

প্রজন্মকে অন্ধকারে-অশ্লীলতায় রেখে কখনও জাতির মুক্তি মেলবে না। কোরআনের বাইরে কোনো আদর্শ আমরা মেনে নেব না। সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ইসলামী আদলে আমাদের সাহিত্য ও বিজ্ঞানে চর্চা বাড়াতে হবে। কূপমণ্ডূক হৃদয় দিয়ে কখনও উন্নত জীবন কল্পনা করা যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয় প্রশস্ত করে দিন। আমিন।

লেখক : লেকচারার ও কলামিস্ট