বিপদ চিরদিন থাকে না
jugantor
বাংলা ভাষায় আরাফার মাঠে হজের খুতবা
বিপদ চিরদিন থাকে না

  ইসলাম ও জীবন ডেস্ক  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুগে যুগে নবীরা মায়ের ভাষায় দাওয়াতি কাজ করেছেন। শেষ নবীও (সা.) মাতৃভাষায় খোদার পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

ইসলামী স্কলাররা মাতৃভাষায় ধর্মপাঠের ব্যাপারে খুব জোর দিয়েছেন। আমাদের মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এ কথা পর্যন্ত বলেছেন, নামাজও মাতৃভাষায় পড়া জায়েজ। দুঃখজনক হলেও সত্য!

মুসলিম বিশ্ব মাতৃভাষার মর্যাদা দিতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ সময় হজের মতো মহাসম্মেলনের খুতবাও দুর্বোধ্য আরবি ভাষায় পড়া হতো। আরব বিশ্বের বাইরে থেকে আসা হাজীরা হজের খুতবা কিছুই বুঝতে পারতো না।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী কাগজ দৈনিক যুগান্তরের ইসলাম ও জীবন পাতার মাধ্যমে বারবার দাবি জানান হয়েছে, পরামর্শ দেয়া হয়েছে, হজের খুতবা বাংলাসহ বেশি প্রচলিত ভাষাগুলোতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, অনেক দেরি করে হলেও এ বছর অন্য ভাষার সঙ্গে বাংলাভাষায়ও হজের খুতবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাভাষা অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেল। আজ বড় মনে পড়ছে ভাষা শহিদদের কথা।

হে আল্লাহ! ভাষা শহিদদের উত্তম প্রতিদান দিন। যুগান্তর পাঠকদের জন্য হজের খুতবার চুম্বাকাংশ তুলে ধরা হল।

খুতবা পড়েছেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া। মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ সালামের পর তিনি বলেন-

‘আমি তোমাদের আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করে চললে সব ধরনের বিপদাপদ দূর হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।’

আজ এমন দিনে এ আরাফার ময়দানে আল্লাহতায়ালা তার রাসূলের ওপর আয়াত নাজিল করেন, ‘আজ আমি তোমাদের ওপর আমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম। আর তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে পছন্দ করলাম।’ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও ধৈর্য এবং নামাজের মাধ্যমে।’

হে মানুষ! দুনিয়ার জীবন দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত নয়। তাই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালা তোমাদের ধৈর্যের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের ভয়-ক্ষুধা, অর্থের ক্ষতি এবং বিপদাপদ দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করব।

সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যারা বিপদে ভেঙে না পড়ে আশা ভরা কণ্ঠে বলে, আমরা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কাছেই আমরা ফিরে যাব- এ ধরনের সাহসী মানুষই আল্লাহর অফুরন্ত দয়ার অধিকারী এবং সৎপথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

তাছাড়া বান্দা কেন ধৈর্য ধরবে না? সে তো তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রাখে। যা হচ্ছে তা তো অনেক আগেই একটি সুরক্ষিত কিতাবে লেখা হয়ে গেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপর এমন কোনো বিপদ আসে না, যা আগেই আল্লাহর কাছে লেখা নেই। আল্লাহর জন্য এমনটি করা খুবই সহজ।’

বিপদাপদ মানুষকে আল্লাহর অবারিত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গুনতে চাও, গুনে শেষ করতে পারবে না।’

বিপদ যত কঠিনই হোক না কেন, তা চিরদিন থাকে না। আল্লাহর রহমত মানুষকে আঁকড়ে রেখেছে। আল্লাহ বলেন, অবশ্যই দুঃখের সঙ্গেই সুখ আছে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কষ্টের পরপরই আল্লাহ তোমাদের সুখ ভোগ করাবেন। অন্য আয়াতে বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সুখ চান, কষ্ট চান না, বরং তোমরা নিজেরাই দুঃখ ডেকে আনো।’

আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ জোবরদখল করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পার।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর জান্নাত বানানো হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল এবং অভাবের সময় আল্লাহর পথে ব্যয় করে।’

সামাজিক ও পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করবে। আর বাবা-মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে।

তাদের একজন অথবা দু’জন যদি বার্ধক্যে পৌঁছে যায়, তাদের সামান্য পরিমাণ কষ্টও দেবে না, তাদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বল না। নরম ভাষায় তাদের সঙ্গে কথা বল। তোমার বিনয়ের ডানা তাদের প্রতি মেলে দাও। আর বল, হে আমার প্রভু! ছোটবেলায় তারা যেভাবে আমাকে দয়া করেছে, এখন সেভাবে তুমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো।’

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ন্যায়পরায়ণ হও, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো এবং আত্মীয়দের অধিকার দিয়ে দাও। অশ্লীলতা-অসংযত আচরণ এবং অবাধ্য হইও না।’ আল্লাহ বলেন, ‘আত্মীয়দের প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দাও, এতিম-মুসাফিরকেও তাদের অধিকার দাও। কিছুতেই অপব্যয় করো না।’

ইসলাম এমন রাজনৈতিক নীতিমালা দিয়েছে, যা রাষ্ট্র ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। অন্যকে কষ্ট দেয়া ও সীমালঙ্ঘন করা হারাম করেছে। জমিনে ফাসাদ-ফেতনা সৃষ্টির সব ধরনের কাজ ইসলাম নিষেধ করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দায়িত্বশীলদের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশি আঁকড়ে ধরো। পরস্পর দলাদলি করো না।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং উলিল আমরির আনুগত্য করো। তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের দিকে ফিরে আসো।’

আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা অসুস্থ হও, তখন আল্লাহই তোমাদের সুস্থ করেন।’ রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ভয়ংকর রোগ থেকে বেঁচে থাকো।’ হে মুসলমানগণ! তোমরা বড় বিনয়ের সঙ্গে আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি সাড়া দেব।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এ মহামারী থেকে রক্ষা করুন। অসুস্থদের সুস্থ করুন। ভাইরাসের সঠিক প্রতিষেধক আবিষ্কারের শক্তি দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আপনি নিরাপদ রাখুন। আমিন।

সময়ের দাবি

ইসলাম ও জীবন পাতা শুরু থেকেই হজের দিন, বিশ্ব ইজতেমার দিন এবং জুমার খুতবা মাতৃভাষায় দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ! আরাফার মাঠে এখন বাংলা ভাষায় খুতবাকে প্রাধান্য দেয়া হল। ইজতেমার মাঠেও এখন বাংলা ভাষায় বয়ান হচ্ছে।

এখন জুমার দিনে বাংলাদেশের খতিবরাও মাতৃভাষা বাংলায় খুতবা দিলে জুমার গুরুত্ব বাড়বে। জুমার নামাজের মুসল্লিরা বুঝবে নামাজের গুরুত্ব, ধর্মের গুরুত্ব। আধুনিক আলেমরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন আশা করি।

বাংলা ভাষায় আরাফার মাঠে হজের খুতবা

বিপদ চিরদিন থাকে না

 ইসলাম ও জীবন ডেস্ক 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুগে যুগে নবীরা মায়ের ভাষায় দাওয়াতি কাজ করেছেন। শেষ নবীও (সা.) মাতৃভাষায় খোদার পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

ইসলামী স্কলাররা মাতৃভাষায় ধর্মপাঠের ব্যাপারে খুব জোর দিয়েছেন। আমাদের মাজহাবের ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এ কথা পর্যন্ত বলেছেন, নামাজও মাতৃভাষায় পড়া জায়েজ। দুঃখজনক হলেও সত্য!

মুসলিম বিশ্ব মাতৃভাষার মর্যাদা দিতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ সময় হজের মতো মহাসম্মেলনের খুতবাও দুর্বোধ্য আরবি ভাষায় পড়া হতো। আরব বিশ্বের বাইরে থেকে আসা হাজীরা হজের খুতবা কিছুই বুঝতে পারতো না।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী কাগজ দৈনিক যুগান্তরের ইসলাম ও জীবন পাতার মাধ্যমে বারবার দাবি জানান হয়েছে, পরামর্শ দেয়া হয়েছে, হজের খুতবা বাংলাসহ বেশি প্রচলিত ভাষাগুলোতে দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, অনেক দেরি করে হলেও এ বছর অন্য ভাষার সঙ্গে বাংলাভাষায়ও হজের খুতবা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাভাষা অন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেল। আজ বড় মনে পড়ছে ভাষা শহিদদের কথা।

হে আল্লাহ! ভাষা শহিদদের উত্তম প্রতিদান দিন। যুগান্তর পাঠকদের জন্য হজের খুতবার চুম্বাকাংশ তুলে ধরা হল।

খুতবা পড়েছেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া। মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদ সালামের পর তিনি বলেন-

‘আমি তোমাদের আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করে চললে সব ধরনের বিপদাপদ দূর হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।’

আজ এমন দিনে এ আরাফার ময়দানে আল্লাহতায়ালা তার রাসূলের ওপর আয়াত নাজিল করেন, ‘আজ আমি তোমাদের ওপর আমার দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম। আর তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে পছন্দ করলাম।’ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও ধৈর্য এবং নামাজের মাধ্যমে।’

হে মানুষ! দুনিয়ার জীবন দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত নয়। তাই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালা তোমাদের ধৈর্যের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের ভয়-ক্ষুধা, অর্থের ক্ষতি এবং বিপদাপদ দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করব।

সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। যারা বিপদে ভেঙে না পড়ে আশা ভরা কণ্ঠে বলে, আমরা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর কাছেই আমরা ফিরে যাব- এ ধরনের সাহসী মানুষই আল্লাহর অফুরন্ত দয়ার অধিকারী এবং সৎপথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

তাছাড়া বান্দা কেন ধৈর্য ধরবে না? সে তো তাকদিরের ওপর বিশ্বাস রাখে। যা হচ্ছে তা তো অনেক আগেই একটি সুরক্ষিত কিতাবে লেখা হয়ে গেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ওপর এমন কোনো বিপদ আসে না, যা আগেই আল্লাহর কাছে লেখা নেই। আল্লাহর জন্য এমনটি করা খুবই সহজ।’

বিপদাপদ মানুষকে আল্লাহর অবারিত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গুনতে চাও, গুনে শেষ করতে পারবে না।’

বিপদ যত কঠিনই হোক না কেন, তা চিরদিন থাকে না। আল্লাহর রহমত মানুষকে আঁকড়ে রেখেছে। আল্লাহ বলেন, অবশ্যই দুঃখের সঙ্গেই সুখ আছে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কষ্টের পরপরই আল্লাহ তোমাদের সুখ ভোগ করাবেন। অন্য আয়াতে বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সুখ চান, কষ্ট চান না, বরং তোমরা নিজেরাই দুঃখ ডেকে আনো।’

আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ জোবরদখল করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পার।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর জান্নাত বানানো হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল এবং অভাবের সময় আল্লাহর পথে ব্যয় করে।’

সামাজিক ও পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করবে। আর বাবা-মায়ের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে।

তাদের একজন অথবা দু’জন যদি বার্ধক্যে পৌঁছে যায়, তাদের সামান্য পরিমাণ কষ্টও দেবে না, তাদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বল না। নরম ভাষায় তাদের সঙ্গে কথা বল। তোমার বিনয়ের ডানা তাদের প্রতি মেলে দাও। আর বল, হে আমার প্রভু! ছোটবেলায় তারা যেভাবে আমাকে দয়া করেছে, এখন সেভাবে তুমি তাদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো।’

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ন্যায়পরায়ণ হও, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো এবং আত্মীয়দের অধিকার দিয়ে দাও। অশ্লীলতা-অসংযত আচরণ এবং অবাধ্য হইও না।’ আল্লাহ বলেন, ‘আত্মীয়দের প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দাও, এতিম-মুসাফিরকেও তাদের অধিকার দাও। কিছুতেই অপব্যয় করো না।’

ইসলাম এমন রাজনৈতিক নীতিমালা দিয়েছে, যা রাষ্ট্র ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। অন্যকে কষ্ট দেয়া ও সীমালঙ্ঘন করা হারাম করেছে। জমিনে ফাসাদ-ফেতনা সৃষ্টির সব ধরনের কাজ ইসলাম নিষেধ করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দায়িত্বশীলদের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশি আঁকড়ে ধরো। পরস্পর দলাদলি করো না।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং উলিল আমরির আনুগত্য করো। তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের দিকে ফিরে আসো।’

আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমরা অসুস্থ হও, তখন আল্লাহই তোমাদের সুস্থ করেন।’ রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা ভয়ংকর রোগ থেকে বেঁচে থাকো।’ হে মুসলমানগণ! তোমরা বড় বিনয়ের সঙ্গে আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি সাড়া দেব।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এ মহামারী থেকে রক্ষা করুন। অসুস্থদের সুস্থ করুন। ভাইরাসের সঠিক প্রতিষেধক আবিষ্কারের শক্তি দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আপনি নিরাপদ রাখুন। আমিন।

সময়ের দাবি

ইসলাম ও জীবন পাতা শুরু থেকেই হজের দিন, বিশ্ব ইজতেমার দিন এবং জুমার খুতবা মাতৃভাষায় দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ! আরাফার মাঠে এখন বাংলা ভাষায় খুতবাকে প্রাধান্য দেয়া হল। ইজতেমার মাঠেও এখন বাংলা ভাষায় বয়ান হচ্ছে।

এখন জুমার দিনে বাংলাদেশের খতিবরাও মাতৃভাষা বাংলায় খুতবা দিলে জুমার গুরুত্ব বাড়বে। জুমার নামাজের মুসল্লিরা বুঝবে নামাজের গুরুত্ব, ধর্মের গুরুত্ব। আধুনিক আলেমরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন আশা করি।