শেষ ঠিকানা মাটিতেই
jugantor
শেষ ঠিকানা মাটিতেই

  মাহমুদ আহমদ  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল ছিলেন অতুলনীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

হায়! আমরা যদি তার পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করতাম তাহলে পৃথিবীর বুকে মর্যাদাময় জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারতাম। প্রিয়নবী (সা.) বিধর্মীদের সম্মান করতেন। এমনকি তাদের লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে পর্যন্ত উম্মতকে শিখিয়েছেন মানবতা কাকে বলে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি মানুষকে মরণ দেন এবং তিনিই মানুষের কবরের জীবন সাজিয়ে দেন।’ (সূরা আবাসা, আয়াত ২১।)

আস্তিক-নাস্তিক, মুসলিম-অমুসলিম সবার শেষ ঠিকানা মাটিতেই হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহতায়ালাই সবাইকে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন। বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই আকাশের বৃষ্টি থেকে রিজিক দেন। একই সূর্যের আলো নিয়ে সবাই বেঁচে থাকেন।

একই কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে ফসল ফলায়। মহান আল্লাহর দয়ার এ সার্বজনীনতা আমাদের শেখায়, আমরাও যেন আপন-পর, শত্রু-মিত্র সবাইকে পরম যত্নে ভালোবাসতে পারি। কাউকেই ঘৃণার চোখে, বিদ্বেষের চোখে না দেখি।

খাতামুল আম্বিয়া হজরত রাসূলুল্লাহও (সা.) ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি (সা.) সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) ও হজরত কায়স ইবনে সাদ (রা.) কাদসিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মি ব্যক্তির জানাজা।

তখন এ সাহাবি (রা.) বললেন, ‘একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। তিনি ইরশাদ করেছিলেন, সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১২৩৪)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ‘প্রতিটি মানব শিশু মুসলমান হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসক বানায়।’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১৩০২)।

আমার প্রিয়নবী (সা.) শুধু মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই করেননি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি (সা.) বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়ে গেছে।’ (বুখারি)।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সব ক্ষেত্রেই মানবতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তার (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের হাতে এমন কোনো কাজ যেন সংঘটিত না হয় যার ফলে নবীজী (সা.) কষ্ট পান। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নবুওয়াতি শিক্ষার আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক

শেষ ঠিকানা মাটিতেই

 মাহমুদ আহমদ 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূল ছিলেন অতুলনীয়, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

হায়! আমরা যদি তার পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করতাম তাহলে পৃথিবীর বুকে মর্যাদাময় জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারতাম। প্রিয়নবী (সা.) বিধর্মীদের সম্মান করতেন। এমনকি তাদের লাশের সম্মানে দাঁড়িয়ে পর্যন্ত উম্মতকে শিখিয়েছেন মানবতা কাকে বলে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি মানুষকে মরণ দেন এবং তিনিই মানুষের কবরের জীবন সাজিয়ে দেন।’ (সূরা আবাসা, আয়াত ২১।)

আস্তিক-নাস্তিক, মুসলিম-অমুসলিম সবার শেষ ঠিকানা মাটিতেই হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় মতবিরোধ সত্ত্বেও আল্লাহতায়ালাই সবাইকে পরম যত্নে লালন-পালন করছেন। বিশ্বাসের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে একই আকাশের বৃষ্টি থেকে রিজিক দেন। একই সূর্যের আলো নিয়ে সবাই বেঁচে থাকেন।

একই কাদামাটিতে সবাই চাষাবাদ করে ফসল ফলায়। মহান আল্লাহর দয়ার এ সার্বজনীনতা আমাদের শেখায়, আমরাও যেন আপন-পর, শত্রু-মিত্র সবাইকে পরম যত্নে ভালোবাসতে পারি। কাউকেই ঘৃণার চোখে, বিদ্বেষের চোখে না দেখি।

খাতামুল আম্বিয়া হজরত রাসূলুল্লাহও (সা.) ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষকে সম্মান দিয়েছেন। ইসলামের ঘোরতর শত্রু ও কাফেরের লাশকেও তিনি (সা.) সম্মান প্রদর্শন করেছেন।

একবার হজরত সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.) ও হজরত কায়স ইবনে সাদ (রা.) কাদসিয়াতে বসা ছিলেন, তখন লোকেরা তাদের সামনে দিয়ে একটি জানাজা নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাদের বলা হল, এটা এ দেশীয় অমুসলিম জিম্মি ব্যক্তির জানাজা।

তখন এ সাহাবি (রা.) বললেন, ‘একবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দিয়েও একটি জানাজা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাকে বলা হয়েছিল, এটা তো এক ইহুদির জানাজা। তিনি ইরশাদ করেছিলেন, সে কি একজন মানুষ নয়?’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১২৩৪)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) ‘প্রতিটি মানব শিশু মুসলমান হয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান অথবা অগ্নি-উপাসক বানায়।’ (বুখারি, কিতাবুল জানায়েজ, হাদিস নম্বর ১৩০২)।

আমার প্রিয়নবী (সা.) শুধু মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই করেননি বরং মৃতদের গালমন্দ, লাশের অসম্মান, তাদের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করাকে গোনাহর কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি (সা.) বলেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না, তারা যা করেছে তারা তা পেয়ে গেছে।’ (বুখারি)।

আমাদের প্রিয়নবী (সা.) সব ক্ষেত্রেই মানবতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার উম্মত হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তার (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করা। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের হাতে এমন কোনো কাজ যেন সংঘটিত না হয় যার ফলে নবীজী (সা.) কষ্ট পান। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নবুওয়াতি শিক্ষার আলোকে জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক