গোটা পৃথিবী হাশরের মাঠ
jugantor
গোটা পৃথিবী হাশরের মাঠ

  মুফতি জহির ইবনে মুসলিম  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাশরের ময়দানে গুরুগম্ভীর কণ্ঠে আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘লিমানিল মুলকুল ইয়াওম, আজ রাজত্ব কার?’ এ ঘোষণা শুনে পৃথিবীর ক্ষমতাধর প্রতিটি মানুষ পর্যন্ত নীরব-নিথর-নিশ্চুপ থাকবে। কেউ টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করবে না।

এভাবে কয়েকবার হুংকারের পর যখন কেউ কোনো কথা বলবে না তখন আল্লাহ নিজেই বলবেন, ‘লিল্লাহি ওয়াহিদিল কাহহার, আজ রাজত্ব একমাত্র পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর।’

মহামারী করোনা যেন সে দৃশ্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার। গোটা পৃথিবী আজ থমকে গেছে, স্থবির হয়ে গেছে সব কিছু। পারমাণবিক বোমা, সুপারসনিক বিমানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের অধিকারী সুপারপাওয়ার দেশগুলো পর্যন্ত আজ অসহায় হয়ে পড়েছে।

আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীনের দাপটে গোটা পৃথিবী ছিল তটস্থ। হায়! তারা আজ অদৃশ্য করোনার কাছে ভেঙে পড়ছে।

পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে, আল্লাহতায়ালা যে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তার ক্ষমতার কাছে যেসব সৃষ্টি কিছুই না- এটা বোঝানোর জন্য পৃথিবীর বুকে মাঝে মাঝে এমন গজব আসে। বাইরে থেকে দেখে এগুলোকে গজব মনে হলেও জ্ঞানীরা বুঝতে পারেন সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য এসব রহমতেরই আরেকটি রূপ মাত্র।

করোনা পরিস্থিতি পৃথিবী বদলে দেবে। বহু ক্ষমতাধররা ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে। আর দুর্বলরা ক্ষমতার চেয়ারে বসবে।

সূরা আবাসায় কেয়ামতের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সে দিন মানুষ পালিয়ে যাবে আপন ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান রেখে। কেয়ামতের দৃশ্য আজ পৃথিবীতেই দেখতে পাচ্ছি।

যে বাবা-মা কষ্টের পর কষ্ট করে সন্তানকে মানুষ করেছেন, সে বাবা-মাকে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে সন্তানরা ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর প্রেমময় সম্পর্কেও দেখতে পাচ্ছি একই চিত্র। কাছেই আসছে না প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন।

কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিক শিরোনাম করেছে, ‘মানবতা হারল করোনায়, হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী, সড়কের পাশে লাশ, কেউ এলো না আতঙ্কে’।

এ ধরনের নানা অমানবিক খবর আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি আজকাল। করোনা ভয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ময়লার স্তূপে, জঙ্গলে ফেলে আসছে সন্তানরা, এ খবরও দেখলাম। গোটা পৃথিবীই আজ হাশরের মাঠ হয়ে গেছে।

অবশ্য মানবতার উদাহরণও আমরা দেখেছি। একদল স্বাস্থ্যকর্মী জীবন বাজি রেখে করোনা রোগীর চিকিৎসা করছেন। আলেম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধিরা মানব সেবার উদাহরণ দেখাচ্ছেন। অবশ্যই এরা বীরের ভূমিকা পালন করছেন। তবে এদের সংখ্যা যে প্রয়োজনের তুলনায় কম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবমিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতি পার করছে পৃথিবী গ্রহের বাসিন্দারা।

এ মুসিবত থেকে মুক্তির পথ আজও আবিষ্কার হয়নি। যিনি এ করোনা দিয়েছেন সেই রাব্বুল আলামিনই এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়ে আবার আমাদের কর্মচাঞ্চল্য পৃথিবী ফিরিয়ে দেবেন- সে আশায় বুক বাঁধলাম।

আজ বড় প্রয়োজন করোনার মালিকের কাছে একান্ত আত্মসমর্পণ করা। হে আল্লাহ! এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক এবং সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা কল্যাণ পরিষদ

গোটা পৃথিবী হাশরের মাঠ

 মুফতি জহির ইবনে মুসলিম 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হাশরের ময়দানে গুরুগম্ভীর কণ্ঠে আল্লাহতায়ালা বলবেন, ‘লিমানিল মুলকুল ইয়াওম, আজ রাজত্ব কার?’ এ ঘোষণা শুনে পৃথিবীর ক্ষমতাধর প্রতিটি মানুষ পর্যন্ত নীরব-নিথর-নিশ্চুপ থাকবে। কেউ টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করবে না।

এভাবে কয়েকবার হুংকারের পর যখন কেউ কোনো কথা বলবে না তখন আল্লাহ নিজেই বলবেন, ‘লিল্লাহি ওয়াহিদিল কাহহার, আজ রাজত্ব একমাত্র পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর।’

মহামারী করোনা যেন সে দৃশ্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে বারবার। গোটা পৃথিবী আজ থমকে গেছে, স্থবির হয়ে গেছে সব কিছু। পারমাণবিক বোমা, সুপারসনিক বিমানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের অধিকারী সুপারপাওয়ার দেশগুলো পর্যন্ত আজ অসহায় হয়ে পড়েছে।

আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীনের দাপটে গোটা পৃথিবী ছিল তটস্থ। হায়! তারা আজ অদৃশ্য করোনার কাছে ভেঙে পড়ছে।

পৃথিবীর ইতিহাস প্রমাণ করে, আল্লাহতায়ালা যে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তার ক্ষমতার কাছে যেসব সৃষ্টি কিছুই না- এটা বোঝানোর জন্য পৃথিবীর বুকে মাঝে মাঝে এমন গজব আসে। বাইরে থেকে দেখে এগুলোকে গজব মনে হলেও জ্ঞানীরা বুঝতে পারেন সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষার জন্য এসব রহমতেরই আরেকটি রূপ মাত্র।

করোনা পরিস্থিতি পৃথিবী বদলে দেবে। বহু ক্ষমতাধররা ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে। আর দুর্বলরা ক্ষমতার চেয়ারে বসবে।

সূরা আবাসায় কেয়ামতের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সে দিন মানুষ পালিয়ে যাবে আপন ভাই, মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান রেখে। কেয়ামতের দৃশ্য আজ পৃথিবীতেই দেখতে পাচ্ছি।

যে বাবা-মা কষ্টের পর কষ্ট করে সন্তানকে মানুষ করেছেন, সে বাবা-মাকে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে সন্তানরা ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর প্রেমময় সম্পর্কেও দেখতে পাচ্ছি একই চিত্র। কাছেই আসছে না প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন।

কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিক শিরোনাম করেছে, ‘মানবতা হারল করোনায়, হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী, সড়কের পাশে লাশ, কেউ এলো না আতঙ্কে’।

এ ধরনের নানা অমানবিক খবর আমরা পত্রপত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি আজকাল। করোনা ভয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে ময়লার স্তূপে, জঙ্গলে ফেলে আসছে সন্তানরা, এ খবরও দেখলাম। গোটা পৃথিবীই আজ হাশরের মাঠ হয়ে গেছে।

অবশ্য মানবতার উদাহরণও আমরা দেখেছি। একদল স্বাস্থ্যকর্মী জীবন বাজি রেখে করোনা রোগীর চিকিৎসা করছেন। আলেম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধিরা মানব সেবার উদাহরণ দেখাচ্ছেন। অবশ্যই এরা বীরের ভূমিকা পালন করছেন। তবে এদের সংখ্যা যে প্রয়োজনের তুলনায় কম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবমিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতি পার করছে পৃথিবী গ্রহের বাসিন্দারা।

এ মুসিবত থেকে মুক্তির পথ আজও আবিষ্কার হয়নি। যিনি এ করোনা দিয়েছেন সেই রাব্বুল আলামিনই এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিয়ে আবার আমাদের কর্মচাঞ্চল্য পৃথিবী ফিরিয়ে দেবেন- সে আশায় বুক বাঁধলাম।

আজ বড় প্রয়োজন করোনার মালিকের কাছে একান্ত আত্মসমর্পণ করা। হে আল্লাহ! এ কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাদের মুক্তি দিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক এবং সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা কল্যাণ পরিষদ