সম্পদ-স্বজন কিছুই কাজে আসবে না
jugantor
সম্পদ-স্বজন কিছুই কাজে আসবে না

  ড. মো. জসিম উদ্দিন খান পাঠান  

০৭ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় আক্রান্ত হলে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতদের প্রতি অমানবিক আচরণ দেখান হয়, তা জাহেলিয়াতের নির্মমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

২২ জুন, যুগান্তরের একটি শিরোনাম ছিল ‘করোনায় আক্রান্ত বাবাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিল সন্তানরা’। লক্ষ্মীপুর জেলার অধিবাসী বৃদ্ধ খুরশেদ মিয়া করোনায় আক্রান্ত হলে তার সন্তানরা তাকে বাড়ি থেকে এনে কুমিল্লা নগরীর ফয়জুন্নেছা স্কুলের বিপরীতে ডাস্টবিনে গভীর রাতে ফেলে গেছে। বৃদ্ধের চিৎকারে পথচারীরা জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ কল করলে কোতোয়ালি মডেল থানার দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর খুরশেদ মিয়া মারা যান। তার চোখে-মুখে ছিল বাঁচার আকুতি।

করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর কেয়ামতের করুণ চিত্র দুনিয়াতেই জীবন্ত হয়ে উঠছে। যে অবস্থা, যে দৃশ্য, যে উন্মাদনার চিত্র কেয়ামতের দিনে হাশরের ময়দানে দেখা যাবে বলে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে সূরা হজ্জে বলেন, ‘হে মানুষ! ভয় কর তোমাদের প্রভুকে। কেয়ামতের ঝাঁকুনি এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। সেদিন তোমরা তা দেখবে। প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী ভুলে যাবে তার শিশুর কথা এবং প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখবে তুমি মাতাল, অথচ তারা মাতাল নয়। আল্লাহর শাস্তি বড় কঠিন। (হাজ্জ/আয়াত ১.২)।

হাশরের ময়দানের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আবাসায় বলেন, সেদিন পালিয়ে যাবে মানুষ ভাই, মাতা, পিতা স্ত্রী এবং সন্তানদের থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে। (আবাসা/আয়াত ৩৪-৩৭)।

এটা হাশর দিনের অবস্থা। দুনিয়াতে যেসব রক্তের সম্পর্ক, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে অন্যের জন্য জীবন বিসর্জন দিতেও পরোয়া করে না। হাশরের ময়দান হবে এর ব্যতিক্রম। সেদিন সবাই নিজ চিন্তায় ডুবে থাকবে। কেউ কারও খবর নিতে পারবে না। আপনজনকে দেখলে মুখ লুকিয়ে নেবে।

আল্লাহতায়ালা সূরা বাকারায় বলেন, ‘তোমরা সেদিনকে ভয় কর যেদিন কেউ কারও কোনো উপকারে আসবে না, কারও কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কারও থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং তারা কোনো সাহায্য পাবে না। (বাকারা/আয়াত ৪৮)।

করোনাভাইরাসের মহামারীর পর আত্মীয়স্বজন, সন্তান, ধনসম্পদ কোনোটাই কাজে আসছে না। অনেক সামর্থ্যবান রোগী একাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের দুয়ার ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এমনটি তো হাশরের দিনে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুনিয়াতেই এ নির্মমতা শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কালামে সূরা শু’আরায় বলেন, ‘সেদিন ধনসম্পদ, সন্তানসন্ততি কোনো কাজে আসবে না। সেদিন ভাগ্যবান হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে।’ (শু’আরায়/আয়াত ৮৮-৮৯)।

তাই বলি, করোনাভাইরাসের মহামারী আমাদের সতর্ক করল যে, কেয়ামতের অবস্থা এখনই শুরু হয়ে গেছে এবং মৃত্যুই চূড়ান্ত কথা। এর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাতে চাচ্ছ, সে মৃত্যু তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ করবে।’ (সূরা জুমু’আ/আয়াত ৮)। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকে ভেবে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। (সূরা হাশর/আয়াত ১৮)।

লেখক : প্রাবন্ধিক

সম্পদ-স্বজন কিছুই কাজে আসবে না

 ড. মো. জসিম উদ্দিন খান পাঠান 
০৭ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনায় আক্রান্ত হলে বা করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃতদের প্রতি অমানবিক আচরণ দেখান হয়, তা জাহেলিয়াতের নির্মমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

২২ জুন, যুগান্তরের একটি শিরোনাম ছিল ‘করোনায় আক্রান্ত বাবাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিল সন্তানরা’। লক্ষ্মীপুর জেলার অধিবাসী বৃদ্ধ খুরশেদ মিয়া করোনায় আক্রান্ত হলে তার সন্তানরা তাকে বাড়ি থেকে এনে কুমিল্লা নগরীর ফয়জুন্নেছা স্কুলের বিপরীতে ডাস্টবিনে গভীর রাতে ফেলে গেছে। বৃদ্ধের চিৎকারে পথচারীরা জরুরি সেবার জন্য ৯৯৯ কল করলে কোতোয়ালি মডেল থানার দু’জন পুলিশ কর্মকর্তা বৃদ্ধকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর খুরশেদ মিয়া মারা যান। তার চোখে-মুখে ছিল বাঁচার আকুতি।

করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর কেয়ামতের করুণ চিত্র দুনিয়াতেই জীবন্ত হয়ে উঠছে। যে অবস্থা, যে দৃশ্য, যে উন্মাদনার চিত্র কেয়ামতের দিনে হাশরের ময়দানে দেখা যাবে বলে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে সূরা হজ্জে বলেন, ‘হে মানুষ! ভয় কর তোমাদের প্রভুকে। কেয়ামতের ঝাঁকুনি এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। সেদিন তোমরা তা দেখবে। প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী ভুলে যাবে তার শিশুর কথা এবং প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখবে তুমি মাতাল, অথচ তারা মাতাল নয়। আল্লাহর শাস্তি বড় কঠিন। (হাজ্জ/আয়াত ১.২)।

হাশরের ময়দানের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা আবাসায় বলেন, সেদিন পালিয়ে যাবে মানুষ ভাই, মাতা, পিতা স্ত্রী এবং সন্তানদের থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের হবে এমন গুরুতর অবস্থা যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে। (আবাসা/আয়াত ৩৪-৩৭)।

এটা হাশর দিনের অবস্থা। দুনিয়াতে যেসব রক্তের সম্পর্ক, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে অন্যের জন্য জীবন বিসর্জন দিতেও পরোয়া করে না। হাশরের ময়দান হবে এর ব্যতিক্রম। সেদিন সবাই নিজ চিন্তায় ডুবে থাকবে। কেউ কারও খবর নিতে পারবে না। আপনজনকে দেখলে মুখ লুকিয়ে নেবে।

আল্লাহতায়ালা সূরা বাকারায় বলেন, ‘তোমরা সেদিনকে ভয় কর যেদিন কেউ কারও কোনো উপকারে আসবে না, কারও কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। কারও থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং তারা কোনো সাহায্য পাবে না। (বাকারা/আয়াত ৪৮)।

করোনাভাইরাসের মহামারীর পর আত্মীয়স্বজন, সন্তান, ধনসম্পদ কোনোটাই কাজে আসছে না। অনেক সামর্থ্যবান রোগী একাধিক সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের দুয়ার ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এমনটি তো হাশরের দিনে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুনিয়াতেই এ নির্মমতা শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কালামে সূরা শু’আরায় বলেন, ‘সেদিন ধনসম্পদ, সন্তানসন্ততি কোনো কাজে আসবে না। সেদিন ভাগ্যবান হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে আসবে বিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে।’ (শু’আরায়/আয়াত ৮৮-৮৯)।

তাই বলি, করোনাভাইরাসের মহামারী আমাদের সতর্ক করল যে, কেয়ামতের অবস্থা এখনই শুরু হয়ে গেছে এবং মৃত্যুই চূড়ান্ত কথা। এর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাতে চাচ্ছ, সে মৃত্যু তোমাদের সঙ্গে অবশ্যই সাক্ষাৎ করবে।’ (সূরা জুমু’আ/আয়াত ৮)। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকে ভেবে দেখুক আগামীকালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে জানেন। (সূরা হাশর/আয়াত ১৮)।

লেখক : প্রাবন্ধিক