ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন
jugantor
ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন

  আহনাফ আবদুল কাদির  

১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে জানা যায়, তিনি ছিলেন ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন খাঁটি মুসলমান নেতা। পোশাকে নয়- চিন্তা-চেতনা-মননে তিনি ইসলামী আদর্শ লালন করতেন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মের প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করতেন।

গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি হয়ে গৃহশিক্ষক কাজী আব্দুল হামিদের অনুপ্রেরণায় কাজ করেন ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ সংগঠনে। অবহেলিত দারিদ্র্যপীড়িত মুসলমান শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করতেন। ভারতবর্ষে তখন হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লেগেই থাকত। তিনি এসব মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন।

আত্মজীবনীতে তিনি লেখেন, ‘আমার কাছে তখন হিন্দু-মুসলমান বলে কোনো জিনিস ছিল না। হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে আমার খুব বন্ধুত্ব ছিল। একসঙ্গে গান বাজনা, খেলাধুলা ও বেড়ানো- সবই চলত।’ তবে মুসলমানদের ওপর কোনো অত্যাচার হলে তিনি চুপ থাকেননি।

গোপালগঞ্জ শহরে হিন্দু-মুসলমান উত্তেজনা দেখা দেয়। হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেণ ব্যানার্জির নির্দেশে তার সহপাঠী মালেককে ধরে নিয়ে মারধর করে আটকে রাখে। তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে বঙ্গবন্ধুর দলের সঙ্গে হিন্দুদের সংঘর্ষ বেধে যায়। হিন্দুদের অভিযোগের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু ও তার সহযোগীরা ৭ দিন জেলও খাটেন।

ল’ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ভয়াবহ আরেকটি দাঙ্গা হয় দিল্লিতে, যাতে বহু লোক হতাহত হয়। বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘মুসলমানদের উদ্ধার করার কাজও করতে হচ্ছে। দু-এক জায়গায় উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্তও হয়েছিলাম। আমরা হিন্দুদেরও উদ্ধার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহায্য করেছি। মনে হয়েছে, মানুষ তার মানবতা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে।’

১৯৩৯ সালে বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেন। শুরু হল বাংলার নিপীড়িত মুসলমানদের মুক্তির জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম। তিনি বলেন, ‘তখন রাজনীতি শুরু করেছি ভীষণভাবে। সভা করি, বক্তৃতা করি। খেলার দিকে আর নজর নেই। শুধু মুসলিম লীগ আর ছাত্রলীগ।

পাকিস্তান আনতেই হবে নতুবা মুসলমানদের বাঁচার উপায় নেই’। এ সময় ব্রিটিশ সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। মানুষ না খেয়ে মরতে থাকে। বঙ্গবন্ধু শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘অনেক লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খাবার দিতাম। মুসলিম লীগ অফিসে, কলকাতা মাদ্রাসায় এবং আরও অনেক জায়গায় লঙ্গরখানা খুললাম। দিনভর কাজ করতাম, আর রাতে কোনোদিন বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম, কোনোদিন লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকতাম।’ এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান তৈরিতে নিজেকে উজাড় করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তান এলো ঠিকই কিন্তু নিপীড়িত মুসলমানদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইনসাফের দোহাই দিয়ে যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- তা শুধু কাগজ-কলমেই রয়ে গেল। রাষ্ট্রের কোথাও সুবিচারের চিহ্নটুকুও দেখা যায়নি। বিশেষত পূর্ব বাংলার মানুষ সবক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে লাগল। এমনকি স্রষ্টা প্রদত্ত মুখের ভাষাও কেড়ে নিতে চাইল পাকিস্তানের শাষকগোষ্ঠী।

বঙ্গবন্ধু গর্জে উঠলেন বাংলাভাষার দাবিতে। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘কোনো নেতা যদি অন্যায় কাজ করতে বলেন- তার প্রতিবাদ করা এবং তাকে বুঝিয়ে বলার অধিকার জনগণের আছে। যেমন হজরত ওমর (রা.)কে সাধারণ নাগরিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি এত বড় জামা পরার কাপড় পেলেন কোথায়?’ অবশেষে বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পূর্ব বাংলার প্রতি জুলুম-নির্যাতনের সমাপ্তি ঘটেনি। কৃষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হলে বঙ্গবন্ধু তাদের অধিকার আদায়ের জন্যও সংগ্রাম করেন।

জিন্নাহ ফান্ড নামে সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে চাঁদা আদায় ও মারধর করা হলে বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, ‘চারদিকে জোর-জুলুম শুরু হয়েছে। চৌকিদার, দফাদার নেমে পড়েছে। কারও গরু, কারও বদনা, থালা ও ঘটিবাটি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এক ত্রাসের রাজত্ব।’ বিরোধী মতের লোকদের সহ্য করতে পারতেন না ক্ষমতাসীনরা।

বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘মুসলিম লীগ নেতারা একটি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছিল, যাতে কেউ সরকারের সমালোচনা করতে না পারে। উনারা ভেবেছিলেন, গুণ্ডা দিয়ে মারপিট করেই জনমত দাবাতে পারবেন। এ পন্থা যে কোনোদিন সফল হয়নি আর হতে পারে না- এ শিক্ষা তারা ইতিহাস পড়ে শিখতে চেষ্টা করেননি।’

বারবার নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। একবার সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘তোমার জীবনের ঝুঁকি আছে, সাবধান থেক’। জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘স্যার চিন্তা করবেন না, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি খোদা আমাকে দিয়েছেন। আর সে শিক্ষা আপনার কাছ থেকেই পেয়েছি’। আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।

১৯৭০ সালে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা লেবাসসর্বস্ব ইসলামে বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হজরত রাসূলে করিম (সা.)-এর ইসলাম। ইসলামের প্রবক্তা সেজে যারা পাকিস্তানের মাটিতে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনার পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে- আমাদের সংগ্রাম সেই মুনাফিকদের বিরুদ্ধে’।

ধর্মপ্রাণ এ মহান মানুষটি অপরাজনীতি ও বিদ্বেষের শিকার হয়ে নিজের জীবন বলি দিয়েছেন। এক শ্রেণির লোক ধর্মের মিথ্যা যুক্তি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাকে খাটো করছে। অথচ এমন একজন খাঁটি ধর্মপ্রাণ নেতার আজ বড়ই প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক

Email : [email protected]

ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন

 আহনাফ আবদুল কাদির 
১৪ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়লে জানা যায়, তিনি ছিলেন ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন খাঁটি মুসলমান নেতা। পোশাকে নয়- চিন্তা-চেতনা-মননে তিনি ইসলামী আদর্শ লালন করতেন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মের প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করতেন।

গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি হয়ে গৃহশিক্ষক কাজী আব্দুল হামিদের অনুপ্রেরণায় কাজ করেন ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ সংগঠনে। অবহেলিত দারিদ্র্যপীড়িত মুসলমান শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করতেন। ভারতবর্ষে তখন হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লেগেই থাকত। তিনি এসব মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন।

আত্মজীবনীতে তিনি লেখেন, ‘আমার কাছে তখন হিন্দু-মুসলমান বলে কোনো জিনিস ছিল না। হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে আমার খুব বন্ধুত্ব ছিল। একসঙ্গে গান বাজনা, খেলাধুলা ও বেড়ানো- সবই চলত।’ তবে মুসলমানদের ওপর কোনো অত্যাচার হলে তিনি চুপ থাকেননি।

গোপালগঞ্জ শহরে হিন্দু-মুসলমান উত্তেজনা দেখা দেয়। হিন্দু মহাসভার সভাপতি সুরেণ ব্যানার্জির নির্দেশে তার সহপাঠী মালেককে ধরে নিয়ে মারধর করে আটকে রাখে। তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে বঙ্গবন্ধুর দলের সঙ্গে হিন্দুদের সংঘর্ষ বেধে যায়। হিন্দুদের অভিযোগের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু ও তার সহযোগীরা ৭ দিন জেলও খাটেন।

ল’ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ভয়াবহ আরেকটি দাঙ্গা হয় দিল্লিতে, যাতে বহু লোক হতাহত হয়। বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘মুসলমানদের উদ্ধার করার কাজও করতে হচ্ছে। দু-এক জায়গায় উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্তও হয়েছিলাম। আমরা হিন্দুদেরও উদ্ধার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহায্য করেছি। মনে হয়েছে, মানুষ তার মানবতা হারিয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে।’

১৯৩৯ সালে বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে গোপালগঞ্জে মুসলিম ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করেন। শুরু হল বাংলার নিপীড়িত মুসলমানদের মুক্তির জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম। তিনি বলেন, ‘তখন রাজনীতি শুরু করেছি ভীষণভাবে। সভা করি, বক্তৃতা করি। খেলার দিকে আর নজর নেই। শুধু মুসলিম লীগ আর ছাত্রলীগ।

পাকিস্তান আনতেই হবে নতুবা মুসলমানদের বাঁচার উপায় নেই’। এ সময় ব্রিটিশ সরকারের আগ্রাসী নীতির কারণে ১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। মানুষ না খেয়ে মরতে থাকে। বঙ্গবন্ধু শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নির্দেশে দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘অনেক লঙ্গরখানা খুললাম। দিনে একবার করে খাবার দিতাম। মুসলিম লীগ অফিসে, কলকাতা মাদ্রাসায় এবং আরও অনেক জায়গায় লঙ্গরখানা খুললাম। দিনভর কাজ করতাম, আর রাতে কোনোদিন বেকার হোস্টেলে ফিরে আসতাম, কোনোদিন লীগ অফিসের টেবিলে শুয়ে থাকতাম।’ এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান তৈরিতে নিজেকে উজাড় করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

পাকিস্তান এলো ঠিকই কিন্তু নিপীড়িত মুসলমানদের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইনসাফের দোহাই দিয়ে যে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- তা শুধু কাগজ-কলমেই রয়ে গেল। রাষ্ট্রের কোথাও সুবিচারের চিহ্নটুকুও দেখা যায়নি। বিশেষত পূর্ব বাংলার মানুষ সবক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে লাগল। এমনকি স্রষ্টা প্রদত্ত মুখের ভাষাও কেড়ে নিতে চাইল পাকিস্তানের শাষকগোষ্ঠী।

বঙ্গবন্ধু গর্জে উঠলেন বাংলাভাষার দাবিতে। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘কোনো নেতা যদি অন্যায় কাজ করতে বলেন- তার প্রতিবাদ করা এবং তাকে বুঝিয়ে বলার অধিকার জনগণের আছে। যেমন হজরত ওমর (রা.)কে সাধারণ নাগরিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি এত বড় জামা পরার কাপড় পেলেন কোথায়?’ অবশেষে বহু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পূর্ব বাংলার প্রতি জুলুম-নির্যাতনের সমাপ্তি ঘটেনি। কৃষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হলে বঙ্গবন্ধু তাদের অধিকার আদায়ের জন্যও সংগ্রাম করেন।

জিন্নাহ ফান্ড নামে সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে চাঁদা আদায় ও মারধর করা হলে বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, ‘চারদিকে জোর-জুলুম শুরু হয়েছে। চৌকিদার, দফাদার নেমে পড়েছে। কারও গরু, কারও বদনা, থালা ও ঘটিবাটি কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এক ত্রাসের রাজত্ব।’ বিরোধী মতের লোকদের সহ্য করতে পারতেন না ক্ষমতাসীনরা।

বঙ্গবন্ধু লেখেন, ‘মুসলিম লীগ নেতারা একটি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছিল, যাতে কেউ সরকারের সমালোচনা করতে না পারে। উনারা ভেবেছিলেন, গুণ্ডা দিয়ে মারপিট করেই জনমত দাবাতে পারবেন। এ পন্থা যে কোনোদিন সফল হয়নি আর হতে পারে না- এ শিক্ষা তারা ইতিহাস পড়ে শিখতে চেষ্টা করেননি।’

বারবার নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। একবার সোহরাওয়ার্দী বঙ্গবন্ধুকে বলেন, ‘তোমার জীবনের ঝুঁকি আছে, সাবধান থেক’। জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘স্যার চিন্তা করবেন না, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি খোদা আমাকে দিয়েছেন। আর সে শিক্ষা আপনার কাছ থেকেই পেয়েছি’। আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।

১৯৭০ সালে এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা লেবাসসর্বস্ব ইসলামে বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হজরত রাসূলে করিম (সা.)-এর ইসলাম। ইসলামের প্রবক্তা সেজে যারা পাকিস্তানের মাটিতে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনার পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে- আমাদের সংগ্রাম সেই মুনাফিকদের বিরুদ্ধে’।

ধর্মপ্রাণ এ মহান মানুষটি অপরাজনীতি ও বিদ্বেষের শিকার হয়ে নিজের জীবন বলি দিয়েছেন। এক শ্রেণির লোক ধর্মের মিথ্যা যুক্তি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদাকে খাটো করছে। অথচ এমন একজন খাঁটি ধর্মপ্রাণ নেতার আজ বড়ই প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক

Email : [email protected]

 

ঘটনাপ্রবাহ : অশ্রুঝরা আগস্ট