দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ

  জামাল আস-সাবেত ১৪ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি দেবার কিছু নাই/আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’ এ লাইনগুলো থেকেই বোঝা যায়, কেন বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা আজও প্রয়োজন! নেতা অনেকই দেখেছি, জনগণকে ভালোবাসার উপহার দেয়ার মতো নেতা তো তেমন আর দেখতে পাই না। বঙ্গবন্ধুর বাল্যকালের একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত লেখেন, ‘একসময় বঙ্গবন্ধুর এলাকায় অনেক মানুষ অনাহারে দিন কাটায়। মানুষ না খেয়ে থাকা বালক মুজিব সহ্য করতে না পেরে জনসাধারণের জন্য পারিবারিক গোলাঘর উন্মুক্ত করে দেন। অভুক্ত মানুষ এসে সেখান থেকে প্রয়োজন মতো ধান নিয়ে যেত।’

সমাজ পরিবর্তনের জন্য তেমন কিছু লাগে না। প্রজন্মকে মানবিক হয়ে উঠার শিক্ষা দিলেই সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়ে আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এ নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’

বঙ্গবন্ধু জানতেন, একটি সমাজ, দেশ সব বাধা-বিপত্তিকে ডিঙিয়ে তখনই দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলে, যখন সে সমাজে একে-অপরের প্রতি স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির মূলমন্ত্রই ছিল বিশ্বাস এবং ভালোবাসা। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘জনগণ আমাকে বিশ্বাস করে, জীবন গেলেও আমি তা ভাঙতে পারব না। জনগণ আমাকে ভালোবাসে। এ ভালোবাসার ঋণ আমি কখনও শোধ করতে পারব না।’

বর্তমান প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানছে, বুকে ধারণ করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে, লেখা পড়ে এ প্রজন্ম আদর্শবান হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যখন বলেন, ‘আমি কী চাই? আমি চাই বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ সুখী হোক। আমি কী চাই? আমার বাংলার মানুষ হেসে খেলে বেড়াক। আমি কী চাই? আমার সোনার বাংলার মানুষ আবার প্রাণভরে হাসুক।’ এই যে মধুর স্বপ্ন, তা কি বৃথা যাবে? বলতে দ্বিধা নেই, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা একদিন গড়ে উঠবেই। তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ হয়েছে। বাকি স্বপ্নও পরবর্তী প্রজন্ম পূরণ করবে ইনশাআল্লাহ।

হিন্দু-মুসলমান সবাইকে মানুষ বলে ভাবতেন বঙ্গবন্ধু। কখনই সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে চলতেন না। তিনি জাতীয়তাবাদের নামে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেননি। তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-অবাঙালি যারা আছেন তারা আমাদের ভাই, তাদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের ওপরে- আমাদের যেন বদনাম না হয়।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কী অপূর্ব উদাহরণ!

ভাষণে, বক্তব্যে তার প্রতিটি উচ্চারণ ছিল পরম করুণাময় আল্লাহপাককে হাজির-নাজির জেনে। তাই তিনি বলতে পেরেছেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ’। দেশের কথা, স্বাধীনতার কথা যখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, তখনই বঙ্গবন্ধুর কথা উচ্চারিত হয়। মনে হয় বঙ্গবন্ধু এখনও জীবিত। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন, আমরা তার স্বপ্নের সোনার বাংলা উপহার দেব- এমন মনোবল নিয়ে তরুণরা এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু ইনশাআল্লাহ শব্দ বলে স্বাধীনতা এনেছেন, সেই ইনশাআল্লাহর জোরেই বাংলার মানুষ আবার জেগে উঠবে।

লেখক : লেকচারার ও কলামিস্ট

Email : [email protected]

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত