নিরক্ষরও হতে পারেন জ্ঞানী
jugantor
নিরক্ষরও হতে পারেন জ্ঞানী

  শরীফ উদ্দিন পেশোয়ার  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা অধিকাংশ মুসলিম ইসলাম বুঝিনি। এ না-বোঝার কারণে আমরা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। না বোঝার কারণে ইসলামকে কারও কারও না-পছন্দও হতে পারে।

ইসলামের নবী (সা.)কে এজন্য নানা কিছু বলতে পারেন কিন্তু বুঝলে ইসলামের নবীকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বলতেই হবে। তাঁর সাহাবাদেরই তো তুলনা চলে না কারও সঙ্গে- এটিও মানতে হবে। এ জন্য ‘দ্যা হানড্রেড’ গ্রন্থ খুশি মনে গ্রহণ করি।

ধরা যাক, আমার বাড়িতে পাশের বাড়ি থেকে শুধু ঝোল এসেছে একটি পাত্রে। তখন আমি কী করব? আমি তখন রাগ করব বা ক্ষোভ প্রকাশ করব। আমি করব অন্য কেউ না করতে পারেন।

আমি শুধু ঝোল দেখে বলব, দেখ কারবার? আমার সঙ্গে ইয়ার্কি করা হচ্ছে? গোশত বা মাছ না দিয়ে শুধু ঝোল দেয়া হয়েছে!

কিন্তু আমি যদি ইসলামকে বুঝতাম বা ধারণ করতাম কী হতো? আবার আরেকটা প্রশ্ন করা যাক। ধরা যাক, আমি নেতা আর আমার কাছে অনেক মাল এসেছে। আমি যদি আমার মেয়েকে কিছু না দেই অথচ মেয়ে আমার কাছে হাত পেতেছিল, আমার মেয়েকে না দিয়ে অন্য মানুষকে দান করে দিলাম- তখন কী হবে? ঝামেলা বা মনকষাকষি হবে কি না?

আজ আমাদের সমাজে দেখা যায়, দরকার না হলেও নিজের স্বজনকে মাল দেয়া হয় বেশি করে। এটি একটি বড় সমস্যা। কিন্তু ইসলাম বুঝলে কী হবে?

ইসলাম বুঝলে এটি কোনো সমস্যাই নয়। এখন ইসলাম বুঝতে হলে কোরআন বুঝতে হবে। কোরআন বুঝতে হলে নবী মুহাম্মদ (সা.)কে বুঝতে হবে।

ইসলামকে বুঝতে হলে প্রচুর জানতে হবে- এটি সবাই জানেন। ইসলাম বা ইসলামের নবীকে জানতে হলে অন্য ধর্ম ও অন্য মহান নেতাদেরও জানা দরকার।

তুলনামূলক জানা না থাকলে নবী ও ইসলামের মাহাত্ম্য বুঝা যাবে না। যিশু খ্রিস্ট, শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, চর্বাক, গুরু নানক. আইনস্টাইন, নিউটন, রবীন্দ্রনাথ, আলেকজান্ডার, নেপোলিয়ন, মাও সে তুং, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, লেলিন, স্ট্যালিন, চেঙ্গিস খান, হিটলার ও কার্লমার্কসসহ প্রায় অনেক নেতা বা পণ্ডিতের জীবনী পড়ে বুঝেছি, মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না অন্যদের।

মুহম্মদ (সা.) এবং ইসলামকে বুঝতে হলে জানতে হবে, মানে পড়তে হবে। আর পড়া শুধু এক জাররা হলে চলে না। ইতিহাস পড়তে হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়তে হয়। কোরআন পড়তে হয়। কোরআনের তাফসির পড়তে হয়। বিশেষ করে ইমাম গাজ্জালি (রহ.), মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি, শেখ সাদী (রহ.) ও আশরাফ আলী থানভীর লেখা পড়লে ইসলাম বোঝা সহজ হতে পারে।

দুনিয়ার যত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই আছে তা-ও অন্তত কিছু পড়ার অভ্যাস থাকলে ইসলাম বোঝার জন্য সহায়ক হয়। তবে চিত্তকে উন্মুক্ত রাখতে হবে। সত্যকে ধারণ করার মতো মানসিকতা থাকতে হবে। কোরআন দেখে নাক সিটকালে চলবে না।

গীতা দেখলে নাক সিটকালে চলবে না। কোন ধর্মের মধ্যে কী আছে- দেখতে হবে। শেখ সাদী (রহ.) বলেন, উলুবনে যেমন বাঘ থাকতে পারে নিরক্ষর মানুষের কথার মাঝেও জ্ঞানের কথা থাকতে পারে। এ জন্য জ্ঞানীরা মন দিয়ে নিরক্ষর মানুষের কথা শোনেন কিছু অর্জন করার জন্য। কেননা একজন নিরক্ষরও প্রকৃত অর্থে জ্ঞানী হতে পারেন।

লেখক : প্রাবন্ধিক

নিরক্ষরও হতে পারেন জ্ঞানী

 শরীফ উদ্দিন পেশোয়ার 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা অধিকাংশ মুসলিম ইসলাম বুঝিনি। এ না-বোঝার কারণে আমরা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। না বোঝার কারণে ইসলামকে কারও কারও না-পছন্দও হতে পারে।

ইসলামের নবী (সা.)কে এজন্য নানা কিছু বলতে পারেন কিন্তু বুঝলে ইসলামের নবীকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বলতেই হবে। তাঁর সাহাবাদেরই তো তুলনা চলে না কারও সঙ্গে- এটিও মানতে হবে। এ জন্য ‘দ্যা হানড্রেড’ গ্রন্থ খুশি মনে গ্রহণ করি।

ধরা যাক, আমার বাড়িতে পাশের বাড়ি থেকে শুধু ঝোল এসেছে একটি পাত্রে। তখন আমি কী করব? আমি তখন রাগ করব বা ক্ষোভ প্রকাশ করব। আমি করব অন্য কেউ না করতে পারেন।

আমি শুধু ঝোল দেখে বলব, দেখ কারবার? আমার সঙ্গে ইয়ার্কি করা হচ্ছে? গোশত বা মাছ না দিয়ে শুধু ঝোল দেয়া হয়েছে!

কিন্তু আমি যদি ইসলামকে বুঝতাম বা ধারণ করতাম কী হতো? আবার আরেকটা প্রশ্ন করা যাক। ধরা যাক, আমি নেতা আর আমার কাছে অনেক মাল এসেছে। আমি যদি আমার মেয়েকে কিছু না দেই অথচ মেয়ে আমার কাছে হাত পেতেছিল, আমার মেয়েকে না দিয়ে অন্য মানুষকে দান করে দিলাম- তখন কী হবে? ঝামেলা বা মনকষাকষি হবে কি না?

আজ আমাদের সমাজে দেখা যায়, দরকার না হলেও নিজের স্বজনকে মাল দেয়া হয় বেশি করে। এটি একটি বড় সমস্যা। কিন্তু ইসলাম বুঝলে কী হবে?

ইসলাম বুঝলে এটি কোনো সমস্যাই নয়। এখন ইসলাম বুঝতে হলে কোরআন বুঝতে হবে। কোরআন বুঝতে হলে নবী মুহাম্মদ (সা.)কে বুঝতে হবে।

ইসলামকে বুঝতে হলে প্রচুর জানতে হবে- এটি সবাই জানেন। ইসলাম বা ইসলামের নবীকে জানতে হলে অন্য ধর্ম ও অন্য মহান নেতাদেরও জানা দরকার।

তুলনামূলক জানা না থাকলে নবী ও ইসলামের মাহাত্ম্য বুঝা যাবে না। যিশু খ্রিস্ট, শ্রীকৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, চর্বাক, গুরু নানক. আইনস্টাইন, নিউটন, রবীন্দ্রনাথ, আলেকজান্ডার, নেপোলিয়ন, মাও সে তুং, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, লেলিন, স্ট্যালিন, চেঙ্গিস খান, হিটলার ও কার্লমার্কসসহ প্রায় অনেক নেতা বা পণ্ডিতের জীবনী পড়ে বুঝেছি, মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে কোনো তুলনা চলে না অন্যদের।

মুহম্মদ (সা.) এবং ইসলামকে বুঝতে হলে জানতে হবে, মানে পড়তে হবে। আর পড়া শুধু এক জাররা হলে চলে না। ইতিহাস পড়তে হয়। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়তে হয়। কোরআন পড়তে হয়। কোরআনের তাফসির পড়তে হয়। বিশেষ করে ইমাম গাজ্জালি (রহ.), মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি, শেখ সাদী (রহ.) ও আশরাফ আলী থানভীর লেখা পড়লে ইসলাম বোঝা সহজ হতে পারে।

দুনিয়ার যত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই আছে তা-ও অন্তত কিছু পড়ার অভ্যাস থাকলে ইসলাম বোঝার জন্য সহায়ক হয়। তবে চিত্তকে উন্মুক্ত রাখতে হবে। সত্যকে ধারণ করার মতো মানসিকতা থাকতে হবে। কোরআন দেখে নাক সিটকালে চলবে না।

গীতা দেখলে নাক সিটকালে চলবে না। কোন ধর্মের মধ্যে কী আছে- দেখতে হবে। শেখ সাদী (রহ.) বলেন, উলুবনে যেমন বাঘ থাকতে পারে নিরক্ষর মানুষের কথার মাঝেও জ্ঞানের কথা থাকতে পারে। এ জন্য জ্ঞানীরা মন দিয়ে নিরক্ষর মানুষের কথা শোনেন কিছু অর্জন করার জন্য। কেননা একজন নিরক্ষরও প্রকৃত অর্থে জ্ঞানী হতে পারেন।

লেখক : প্রাবন্ধিক