বুদ্ধিমান সেই যে মৃত্যুর কথা ভাবে
jugantor
বুদ্ধিমান সেই যে মৃত্যুর কথা ভাবে

  মোহাম্মদ আফসারুল আলম মামুন  

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন : প্রত্যেক প্রাণীকেই মরণের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সূরা আলে ইমরান : ১৮৫)। এছাড়া আল্লাহতায়ালা (সূরা নিসা আয়াত ৭৮) ঘোষণা করেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, যদিও তোমরা কোনো শক্ত ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।’ তারপরও মানুষ মৃত্যুর কথা ভুলে পৃথিবীতে চিরকাল থাকার বাসনা নিয়ে প্রতিনিয়ত অন্যায়, অবিচার অসৎ পথের দিকে ছুটছে। লোভ, লালসা আর চাওয়া পাওয়ার সমীকরণে মানুষ মৃত্যুর কথা ভাবার সময় পায় না। বয়সের ভারে জীবন নিস্তেজ হয়ে গেলেও লোভ আর আশা পিছু ছাড়ে না। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘আদম সন্তান বৃদ্ধ হয়ে যায় কিন্তু তার দুটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে- লোভ ও আশা।’ যার ফলে মৃত্যু না আসা পর্যন্ত মনে হয় মৃত্যু তুচ্ছ বিষয়। যদিও প্রতিদিন হাজারও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর তার কানে আসে। কিন্তু হাজারও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর শোনার পরই ভাবে তার মৃত্যুর সময় হয়তো এখনও হয়নি। সে নানাভাবে মৃত্যুর কথা ভুলে থাকে, মৃত্যু থেকে পালাতে চায়। কিন্তু আল্লাহতায়ালা বলেন আমি তোমাদের মৃত্যুর সময় ঠিক করে দিয়েছি। (সূরা ওয়াকিআহ : ৬০)। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহতায়ালা মৃত্যুর অনিবার্যতার কথা বলেছেন। উল্লেখ করেছেন, মৃত্যু থেকে কেউ রেহাই পাবে না, পালিয়ে যেতে পারবে না। আর মৃত্যুর পর কেয়ামতের দিন সবাইকে জীবিত করা হবে এবং কর্মফল প্রদান করা হবে। অর্থাৎ যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় যে কোনোভাবে মানুষকে অবশ্যই এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের জন্য পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া মানে জীবনাবসান নয় বরং প্রকৃত জীবনের সূচনা। বিখ্যাত কবি আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেন, ‘গাফেল মনে করছে মৃত্যুর মাধ্যমেই বুঝি জীবনের অবসান ঘটে, অথচ এ মৃত্যু অনন্ত জীবনের সূচনা মাত্র।’ হজরত রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তিই জ্ঞানী, যে আপন নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করে।’ মনে রাখতে হবে মৃত্যু মানে জীবনাবসান নয় শুধু নতুন জীবনে প্রত্যাবর্তন। যেখানে কবর দিয়ে শুরু জান্নাত বা জাহান্নাম দিয়ে শেষ। সাহাবিরা জাহান্নামের আলোচনায় যত না বেশি কষ্ট পেতেন তার চেয়ে কবরের আলোচনায় ভীত হতেন। প্রতিটি মানুষের উচিত দুনিয়ার প্রতিটি কথা ও কাজে মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখা। আর দুনিয়ায় প্রতি কাজে যে মৃত্যু চিন্তা করে এগোয় সেই তো প্রকৃত বুদ্ধিমান।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সংকটময় মুহূর্তে বান্দা যখন মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, মৃত্যুর এ স্মরণ তার সংকটকে দূর করে দেয় আবার সুখের সময় মৃত্যুকে স্মরণ করে তখন এ স্মরণ তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে দূর করে দেয়।’ অর্থাৎ পরকালের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। প্রিয় নবীর হাদিসে প্রমাণিত মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

লেখক : পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

বুদ্ধিমান সেই যে মৃত্যুর কথা ভাবে

 মোহাম্মদ আফসারুল আলম মামুন 
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন : প্রত্যেক প্রাণীকেই মরণের স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সূরা আলে ইমরান : ১৮৫)। এছাড়া আল্লাহতায়ালা (সূরা নিসা আয়াত ৭৮) ঘোষণা করেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, যদিও তোমরা কোনো শক্ত ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো।’ তারপরও মানুষ মৃত্যুর কথা ভুলে পৃথিবীতে চিরকাল থাকার বাসনা নিয়ে প্রতিনিয়ত অন্যায়, অবিচার অসৎ পথের দিকে ছুটছে। লোভ, লালসা আর চাওয়া পাওয়ার সমীকরণে মানুষ মৃত্যুর কথা ভাবার সময় পায় না। বয়সের ভারে জীবন নিস্তেজ হয়ে গেলেও লোভ আর আশা পিছু ছাড়ে না। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘আদম সন্তান বৃদ্ধ হয়ে যায় কিন্তু তার দুটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে- লোভ ও আশা।’ যার ফলে মৃত্যু না আসা পর্যন্ত মনে হয় মৃত্যু তুচ্ছ বিষয়। যদিও প্রতিদিন হাজারও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর তার কানে আসে। কিন্তু হাজারও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর শোনার পরই ভাবে তার মৃত্যুর সময় হয়তো এখনও হয়নি। সে নানাভাবে মৃত্যুর কথা ভুলে থাকে, মৃত্যু থেকে পালাতে চায়। কিন্তু আল্লাহতায়ালা বলেন আমি তোমাদের মৃত্যুর সময় ঠিক করে দিয়েছি। (সূরা ওয়াকিআহ : ৬০)। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহতায়ালা মৃত্যুর অনিবার্যতার কথা বলেছেন। উল্লেখ করেছেন, মৃত্যু থেকে কেউ রেহাই পাবে না, পালিয়ে যেতে পারবে না। আর মৃত্যুর পর কেয়ামতের দিন সবাইকে জীবিত করা হবে এবং কর্মফল প্রদান করা হবে। অর্থাৎ যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় যে কোনোভাবে মানুষকে অবশ্যই এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের জন্য পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া মানে জীবনাবসান নয় বরং প্রকৃত জীবনের সূচনা। বিখ্যাত কবি আল্লামা ইকবাল (রহ.) বলেন, ‘গাফেল মনে করছে মৃত্যুর মাধ্যমেই বুঝি জীবনের অবসান ঘটে, অথচ এ মৃত্যু অনন্ত জীবনের সূচনা মাত্র।’ হজরত রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তিই জ্ঞানী, যে আপন নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করে।’ মনে রাখতে হবে মৃত্যু মানে জীবনাবসান নয় শুধু নতুন জীবনে প্রত্যাবর্তন। যেখানে কবর দিয়ে শুরু জান্নাত বা জাহান্নাম দিয়ে শেষ। সাহাবিরা জাহান্নামের আলোচনায় যত না বেশি কষ্ট পেতেন তার চেয়ে কবরের আলোচনায় ভীত হতেন। প্রতিটি মানুষের উচিত দুনিয়ার প্রতিটি কথা ও কাজে মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখা। আর দুনিয়ায় প্রতি কাজে যে মৃত্যু চিন্তা করে এগোয় সেই তো প্রকৃত বুদ্ধিমান।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সংকটময় মুহূর্তে বান্দা যখন মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, মৃত্যুর এ স্মরণ তার সংকটকে দূর করে দেয় আবার সুখের সময় মৃত্যুকে স্মরণ করে তখন এ স্মরণ তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে দূর করে দেয়।’ অর্থাৎ পরকালের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। প্রিয় নবীর হাদিসে প্রমাণিত মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

লেখক : পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়