মাদ্রাসা ছাত্রদের হাতে লাঠি কাম্য ছিল না
jugantor
পাঠক কলাম
মাদ্রাসা ছাত্রদের হাতে লাঠি কাম্য ছিল না

  মাওলানা মেরাজুল ইসলাম  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে মহাসম্পদ কোরআন ও হাদিস মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়, সেই কোরআনের ধারক-বাহক মাদ্রাসা ছাত্রদের হাতে লাঠি কাম্য ছিল না।

যেখানে সারাক্ষণ তালিম দেয়া হয়- ক্বা-লাল্লাহু তায়ালা ও ক্বা-লা রসূলুল্লাহি (সা.) সেই বিদ্যাপীঠের মারকাজ ভাংচুর করার স্পর্ধা দেখানোয় আলেম সমাজ পুরোপুরি ব্যথিত।

জীবন গড়ার কারিগর আসাতিজাদের কক্ষ ভাংচুরে আলেম সমাজের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ছাত্রদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে অসন্তুষ্ট হয়ে হাজার হাজার ওস্তাদের ওস্তাদ একজন আল্লামা শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সারা জীবনের তালিম দেয়ার পরিণতিতে মৃত্যুকালে ছাত্রদের কক্ষ ভাংচুর দেখে গেলেন। জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ; অন্যদিকে ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার। মৃত্যুকালে এ আক্ষেপগুলো সঙ্গে নিয়ে গেলেন।

আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও হুজুরের জীবদ্দশায় বিষয়টি নাড়া না দিলেও হতো। ছাত্রদের বিক্ষোভের কারণ যাই হোক না কেন, এর সুরাহার জন্য লাঠির মাধ্যম কেন! লাঠিমুক্ত হাতে আদবের সহিত ওস্তাদদের সামনে ক্লাস স্থগিত করে বসে যেতে পারত।

আবেগের সঙ্গে যদি হুশ না থাকে তাহলে ওই আবেগের পরিণতিতে দুর্নাম হয়। ইতিহাস হয়ে থাকবে, অন্যদের মতো মাদ্রাসার ছাত্ররাও শিক্ষকের কক্ষ ভাংচুর করে। এখন ভাংচুরে জড়িতরা কি এ দুর্নামের দায়-ভার নেবেন?

কাদের নেতৃত্বে এ আন্দোলন হয়েছিল, কোন ছাত্রের হাতে মাদ্রাসা ভবনে লাঠি উঠেছিল; মাদ্রাসার ঐতিহ্য নষ্ট করার কারণে তাদের প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের কলঙ্কমুক্ত করা উচিত।

কেন আজ মাদ্রাসা ছাত্রদের সম্পর্কে মানুষের প্রশ্ন তৈরি হল? যারা সারাক্ষণ হাজারও কড়া শাসনের মুখে শিক্ষকের সামনে নতজানু থাকে, যারা শিক্ষকের মর্যাদা বাঁচাতে বন্দুকের সামনেও বুক পেতে দেয়, যারা আন্দোলন করে আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) ও মুফতি আমিনিকে জেল থেকে মুক্ত করে; তাদের হাতে আজ লাঠি কেন?

তাহলে কি কোরআন পড়ি কিন্তু কোরআনের মর্ম বুঝি না? হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্রদের কাছে আমরা এমন প্রত্যাশা করি না। যারা কওমি মাদ্রাসার মর্যাদা নষ্ট করে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা উচিত।

আফসোস! আদবের সৈনিকরা আজ বেয়াদবের খাঁচায় বন্দি। যতই যৌক্তিক দাবির বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, ওস্তাদদের বিশ্রামাগার ভাংচুর করা কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিবেন।

কারণ এটি জঘন্যতম অপরাধ। এটিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বলে না, বরং এ রুখে দাঁড়ানোটি পরিবেশকে আরও ঘৃণ্য করেছে।

ভবিষ্যতে শূরা কমিটির জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন শূরা কমিটির সদস্যরা যদি ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য খুব দ্রুত বিচক্ষণতা অবলম্বন না করেন তাহলে ভবিষ্যতে এ আন্দোলনের আশঙ্কা থেকে যাবে।

আজ উলামারা খুব চিন্তিত! একবার এক ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তাবলিগে ভাই-ভাই রক্তপাত খণ্ডিত করতে। তাবলিগের শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করল। এখন আবার ষড়যন্ত্রকারীরা মাদ্রাসার ঐক্য ও শক্তিকে খণ্ডনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে।

অথচ এ দুটিই দ্বীন টিকিয়ে রাখার মারকাজ। তাহলে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এখন কি আমরা হেরে যাব? মুসলমান ভেঙে পড়ার জাতি নয়। যে জাতি কোরআন লালন করে ও সিনায় সংরক্ষণ করে তারা দমে যাওয়ার পাত্র নয়।

লেখক : প্রাবন্ধিক

পাঠক কলাম

মাদ্রাসা ছাত্রদের হাতে লাঠি কাম্য ছিল না

 মাওলানা মেরাজুল ইসলাম 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে মহাসম্পদ কোরআন ও হাদিস মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়, সেই কোরআনের ধারক-বাহক মাদ্রাসা ছাত্রদের হাতে লাঠি কাম্য ছিল না।

যেখানে সারাক্ষণ তালিম দেয়া হয়- ক্বা-লাল্লাহু তায়ালা ও ক্বা-লা রসূলুল্লাহি (সা.) সেই বিদ্যাপীঠের মারকাজ ভাংচুর করার স্পর্ধা দেখানোয় আলেম সমাজ পুরোপুরি ব্যথিত।

জীবন গড়ার কারিগর আসাতিজাদের কক্ষ ভাংচুরে আলেম সমাজের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ছাত্রদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে অসন্তুষ্ট হয়ে হাজার হাজার ওস্তাদের ওস্তাদ একজন আল্লামা শফী মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

সারা জীবনের তালিম দেয়ার পরিণতিতে মৃত্যুকালে ছাত্রদের কক্ষ ভাংচুর দেখে গেলেন। জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ; অন্যদিকে ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার। মৃত্যুকালে এ আক্ষেপগুলো সঙ্গে নিয়ে গেলেন।

আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও হুজুরের জীবদ্দশায় বিষয়টি নাড়া না দিলেও হতো। ছাত্রদের বিক্ষোভের কারণ যাই হোক না কেন, এর সুরাহার জন্য লাঠির মাধ্যম কেন! লাঠিমুক্ত হাতে আদবের সহিত ওস্তাদদের সামনে ক্লাস স্থগিত করে বসে যেতে পারত।

আবেগের সঙ্গে যদি হুশ না থাকে তাহলে ওই আবেগের পরিণতিতে দুর্নাম হয়। ইতিহাস হয়ে থাকবে, অন্যদের মতো মাদ্রাসার ছাত্ররাও শিক্ষকের কক্ষ ভাংচুর করে। এখন ভাংচুরে জড়িতরা কি এ দুর্নামের দায়-ভার নেবেন?

কাদের নেতৃত্বে এ আন্দোলন হয়েছিল, কোন ছাত্রের হাতে মাদ্রাসা ভবনে লাঠি উঠেছিল; মাদ্রাসার ঐতিহ্য নষ্ট করার কারণে তাদের প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের কলঙ্কমুক্ত করা উচিত।

কেন আজ মাদ্রাসা ছাত্রদের সম্পর্কে মানুষের প্রশ্ন তৈরি হল? যারা সারাক্ষণ হাজারও কড়া শাসনের মুখে শিক্ষকের সামনে নতজানু থাকে, যারা শিক্ষকের মর্যাদা বাঁচাতে বন্দুকের সামনেও বুক পেতে দেয়, যারা আন্দোলন করে আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) ও মুফতি আমিনিকে জেল থেকে মুক্ত করে; তাদের হাতে আজ লাঠি কেন?

তাহলে কি কোরআন পড়ি কিন্তু কোরআনের মর্ম বুঝি না? হাটহাজারী মাদ্রাসা ছাত্রদের কাছে আমরা এমন প্রত্যাশা করি না। যারা কওমি মাদ্রাসার মর্যাদা নষ্ট করে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা উচিত।

আফসোস! আদবের সৈনিকরা আজ বেয়াদবের খাঁচায় বন্দি। যতই যৌক্তিক দাবির বিশ্লেষণ করা হোক না কেন, ওস্তাদদের বিশ্রামাগার ভাংচুর করা কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিবেন।

কারণ এটি জঘন্যতম অপরাধ। এটিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বলে না, বরং এ রুখে দাঁড়ানোটি পরিবেশকে আরও ঘৃণ্য করেছে।

ভবিষ্যতে শূরা কমিটির জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন শূরা কমিটির সদস্যরা যদি ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য খুব দ্রুত বিচক্ষণতা অবলম্বন না করেন তাহলে ভবিষ্যতে এ আন্দোলনের আশঙ্কা থেকে যাবে।

আজ উলামারা খুব চিন্তিত! একবার এক ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে তাবলিগে ভাই-ভাই রক্তপাত খণ্ডিত করতে। তাবলিগের শক্তিকে দ্বিখণ্ডিত করল। এখন আবার ষড়যন্ত্রকারীরা মাদ্রাসার ঐক্য ও শক্তিকে খণ্ডনের ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে।

অথচ এ দুটিই দ্বীন টিকিয়ে রাখার মারকাজ। তাহলে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে এখন কি আমরা হেরে যাব? মুসলমান ভেঙে পড়ার জাতি নয়। যে জাতি কোরআন লালন করে ও সিনায় সংরক্ষণ করে তারা দমে যাওয়ার পাত্র নয়।

লেখক : প্রাবন্ধিক