মোহাম্মদ (দ.) নামকরণের সার্থকতা
jugantor
মোহাম্মদ (দ.) নামকরণের সার্থকতা

  মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এসিএস  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশংসা করি ওই মাবুদ রাব্বুল আলামিনের যিনি হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ধারণকারী, দুনিয়ার তাবৎ জাতির ভেদাভেদ ও বিবাদ-বিসংবাদকে মুছে দিয়ে ইনসাফপূর্ণ জীবন গড়ার মহান ধর্ম ইসলামকে তাঁর প্রিয় হাবীব (সা.)-এর মাধ্যমে নাজিল করেছেন। শিরোনাম থেকেই পাঠক অনুমান করতে পারেন, নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় ইসলামকে মানবজাতির মাঝে উপস্থাপনকারী, মানবতার সার্বজনীন নবী, মানববংশের শ্রেষ্ঠতম গৌরব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার কোরবানি, চরম সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও অনুপম চারিত্রিক আদর্শের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে ইসলাম এক পরিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

মুসলিম উম্মাহর চলমান অস্থিরতা দেখে অনেকেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারেন; কিন্তু এ কথা সত্য, মুসলমানদের অধঃপতন কিংবা অস্থিরতার জন্য ইসলাম কোনো কারণ নয়। মুসলমানরা নিজেরাই তার জন্য দায়ী। আইয়্যামে জাহেলিয়ার সে অধঃপাত থেকে গোটা মানবজাতিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক যুগে রাসূল (সা.) তাঁর নবুয়তি হাতে যে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তার সৌরভ রোজ কেয়ামত পর্যন্ত অটুট ও অব্যাহত থাকবে। মুসলিম উম্মাহ তো বটেই, অন্য কোনো গোষ্ঠী বা জাতিও যদি তার প্রবর্তিত নীতিমালা দিয়ে জীবন সাজাতে চায়, তবে চিরদিনই তার বৈপ্লবিক বার্তা পৃথিবীজুড়ে অক্ষত ও কার্যকর থাকবে।

স্মরণযোগ্য যে, মানবজাতির কল্যাণের জন্য ইসলামের সূচনা সেই আদম সফী উল্লাহ (আ.) থেকে শুরু হয়েছিল। ক্রমবিকাশের ধারাবাহিকতায় অন্যান্য নবী রাসূলদের মাধ্যমে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। সঙ্গে এ কথাও অকপটে স্বীকার করে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, ইসলামকে মানবজাতির মাঝে পরিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুগে যুগে ১২৩৯৯৯ জন নবী রাসূল যে ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার চেয়ে সায়্যিদুল মুরসালিন নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একক অবদান সহস্র গুণ বেশি সন্দেহ নেই। কিন্তু মানবতার নবী, রহমতের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ত্যাগের কিঞ্চিৎ প্রতিদান কিংবা শুকরিয়াও কারও কাছে প্রত্যাশা করেননি। কোরআন মজিদে সে কথাই তুলে ধরা হয়েছে: লা নুরিদু মিনকুম জাযাআঁও ওয়ালা শুকুরা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কোন সে নবী, কেমন সে নবী যার পবিত্র হাতে ইসলামের পরিপূর্ণতা এসেছে, কোরআনের ভাষায় যাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন ঘোষণা করা হয়েছে, যার চরিত্র গোটা মানবজাতির জন্য এক অনুপম আদর্শ ও আলোকবর্তিকা, যাকে সমগ্র মাখলুকাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন করা হয়েছে, স্বয়ং রাব্বুল আলামিন যাকে ‘হাবীব’ বা ‘দোস্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকে জানা, তার আনুগত্য অনুসরণ তো বটেই, বরং উম্মতে মোহাম্মদীর এ এক পরম সৌভাগ্য যে, তারাই সে মহান নবীর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী।

‘মোহাম্মদ’-সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর পবিত্র নাম যা তাঁর নবুয়তি জীবনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। কেননা নবী করিম (সা.)-এর আগে প্রশংসা ও গৌরবের এ নামে আর কারও নাম রাখা হয়নি কিংবা কাকেও এ নামে ডাকা হয়নি। এটি মহান রবেরই কুদরত, তিনি তাঁর হাবিবের নামকরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যেন অন্য কারও সঙ্গে মহান নবীর নাম মোবারক মিলে না যায়। আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-এর পিতামহ আবদুল মুত্তালিবের মাধ্যমে নামকরণ করেছেন। এ কারণে আবদুল মুত্তালিবকে ‘শায়বাতুল হাম্দ’ (প্রশংসা সয়ী) বলা হয়। তাবাকাতে ইবনে সা’দ গ্রন্থে’ উল্লেখ আছে, নবী করিম (সা.)-এর জন্মের সপ্তম দিনে আয়োজিত আরবের চিরাচরিত প্রথা ‘আকিকা’ অনুষ্ঠানে নাম রাখা হয়। অনুষ্ঠানে সমবেত তৎকালীন কোরেশ নেতৃবর্গ আবদুল মুত্তালিবকে দেবদেবীর নাম অনুসরণ না করে এ রকম নামকরণের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেছিলেন- “আমি চাই সমগ্র পৃথিবী তাঁর স্তুতি ও প্রশংসা করুক। পুত্রবধূ আমিনাকে তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বলেছিলেন যেন গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখা হয়”। মা আমিনাও তার দেখা স্বপ্ন বৃত্তান্ত আবদুল মুত্তালিবকে অবহিত করেছিলেন। এজন্য বংশগতভাবে তাকে বলা হয় সারওয়ারে কায়েনাত মুহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। -(ইবনে কাসির, সিরাতে নববিয়্য)

লেখক : সাবেক কলেজ শিক্ষক, বর্তমানে একটি বেসরকারি, ব্যাংকে কর্মরত

মোহাম্মদ (দ.) নামকরণের সার্থকতা

 মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এসিএস 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশংসা করি ওই মাবুদ রাব্বুল আলামিনের যিনি হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ধারণকারী, দুনিয়ার তাবৎ জাতির ভেদাভেদ ও বিবাদ-বিসংবাদকে মুছে দিয়ে ইনসাফপূর্ণ জীবন গড়ার মহান ধর্ম ইসলামকে তাঁর প্রিয় হাবীব (সা.)-এর মাধ্যমে নাজিল করেছেন। শিরোনাম থেকেই পাঠক অনুমান করতে পারেন, নিবন্ধের আলোচ্য বিষয় ইসলামকে মানবজাতির মাঝে উপস্থাপনকারী, মানবতার সার্বজনীন নবী, মানববংশের শ্রেষ্ঠতম গৌরব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার কোরবানি, চরম সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা ও অনুপম চারিত্রিক আদর্শের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে ইসলাম এক পরিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

মুসলিম উম্মাহর চলমান অস্থিরতা দেখে অনেকেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারেন; কিন্তু এ কথা সত্য, মুসলমানদের অধঃপতন কিংবা অস্থিরতার জন্য ইসলাম কোনো কারণ নয়। মুসলমানরা নিজেরাই তার জন্য দায়ী। আইয়্যামে জাহেলিয়ার সে অধঃপাত থেকে গোটা মানবজাতিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক যুগে রাসূল (সা.) তাঁর নবুয়তি হাতে যে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন তার সৌরভ রোজ কেয়ামত পর্যন্ত অটুট ও অব্যাহত থাকবে। মুসলিম উম্মাহ তো বটেই, অন্য কোনো গোষ্ঠী বা জাতিও যদি তার প্রবর্তিত নীতিমালা দিয়ে জীবন সাজাতে চায়, তবে চিরদিনই তার বৈপ্লবিক বার্তা পৃথিবীজুড়ে অক্ষত ও কার্যকর থাকবে।

স্মরণযোগ্য যে, মানবজাতির কল্যাণের জন্য ইসলামের সূচনা সেই আদম সফী উল্লাহ (আ.) থেকে শুরু হয়েছিল। ক্রমবিকাশের ধারাবাহিকতায় অন্যান্য নবী রাসূলদের মাধ্যমে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। সঙ্গে এ কথাও অকপটে স্বীকার করে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, ইসলামকে মানবজাতির মাঝে পরিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুগে যুগে ১২৩৯৯৯ জন নবী রাসূল যে ত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার চেয়ে সায়্যিদুল মুরসালিন নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একক অবদান সহস্র গুণ বেশি সন্দেহ নেই। কিন্তু মানবতার নবী, রহমতের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ত্যাগের কিঞ্চিৎ প্রতিদান কিংবা শুকরিয়াও কারও কাছে প্রত্যাশা করেননি। কোরআন মজিদে সে কথাই তুলে ধরা হয়েছে: লা নুরিদু মিনকুম জাযাআঁও ওয়ালা শুকুরা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কোন সে নবী, কেমন সে নবী যার পবিত্র হাতে ইসলামের পরিপূর্ণতা এসেছে, কোরআনের ভাষায় যাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন ঘোষণা করা হয়েছে, যার চরিত্র গোটা মানবজাতির জন্য এক অনুপম আদর্শ ও আলোকবর্তিকা, যাকে সমগ্র মাখলুকাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন করা হয়েছে, স্বয়ং রাব্বুল আলামিন যাকে ‘হাবীব’ বা ‘দোস্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকে জানা, তার আনুগত্য অনুসরণ তো বটেই, বরং উম্মতে মোহাম্মদীর এ এক পরম সৌভাগ্য যে, তারাই সে মহান নবীর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী।

‘মোহাম্মদ’-সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর পবিত্র নাম যা তাঁর নবুয়তি জীবনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। কেননা নবী করিম (সা.)-এর আগে প্রশংসা ও গৌরবের এ নামে আর কারও নাম রাখা হয়নি কিংবা কাকেও এ নামে ডাকা হয়নি। এটি মহান রবেরই কুদরত, তিনি তাঁর হাবিবের নামকরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যেন অন্য কারও সঙ্গে মহান নবীর নাম মোবারক মিলে না যায়। আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-এর পিতামহ আবদুল মুত্তালিবের মাধ্যমে নামকরণ করেছেন। এ কারণে আবদুল মুত্তালিবকে ‘শায়বাতুল হাম্দ’ (প্রশংসা সয়ী) বলা হয়। তাবাকাতে ইবনে সা’দ গ্রন্থে’ উল্লেখ আছে, নবী করিম (সা.)-এর জন্মের সপ্তম দিনে আয়োজিত আরবের চিরাচরিত প্রথা ‘আকিকা’ অনুষ্ঠানে নাম রাখা হয়। অনুষ্ঠানে সমবেত তৎকালীন কোরেশ নেতৃবর্গ আবদুল মুত্তালিবকে দেবদেবীর নাম অনুসরণ না করে এ রকম নামকরণের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাবে বলেছিলেন- “আমি চাই সমগ্র পৃথিবী তাঁর স্তুতি ও প্রশংসা করুক। পুত্রবধূ আমিনাকে তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বলেছিলেন যেন গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখা হয়”। মা আমিনাও তার দেখা স্বপ্ন বৃত্তান্ত আবদুল মুত্তালিবকে অবহিত করেছিলেন। এজন্য বংশগতভাবে তাকে বলা হয় সারওয়ারে কায়েনাত মুহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। -(ইবনে কাসির, সিরাতে নববিয়্য)

লেখক : সাবেক কলেজ শিক্ষক, বর্তমানে একটি বেসরকারি, ব্যাংকে কর্মরত