খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়
jugantor
খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়

  আমিনুল ইসলাম হুসাইনী  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ এলোরে দুনিয়ায়

আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়।

রক্তিম আকাশের পশ্চিমে পবিত্র রবিউল আউয়ালের বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই পল্লী-গাঁয়ের মিনারে মিনারে ধ্বনিত হল কাজী নজরুলের কালজয়ী এ নাতে রাসূল (সা.)। আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল হৃদয়ে হৃদয়ে। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শিশু-বুড়ো সবাই গেয়ে উঠল ‘আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়...।’

নবীয়ে দোজাহানের শুভাগমনের মাস হিসেবে পবিত্র রবিউল আউয়াল সমুন্নত, শান ও মর্যদার মহিমায় সমুজ্জ্বল। কেন না নবীজি এমনই এক সময়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, যখন আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে ছিল পৃথিবী। মানবতা ছিল শূন্যের কোঠায়। হেন কোনো কর্ম ছিল না, যা মানুষ করত না। মানুষ যেন মানুষ ছিল না। ছিল পশুর চেয়েও হিংস ও বর্বর। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল তাদের আচরণ। নিজ মেয়েকে জীবন্ত পুঁতে দিতে তাদের হাত কাঁপত না। মায়ার উদ্রেক হতো না পাষাণ চিত্তে। মোট কথা ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর এক সময়ে আল্লাহতায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)কে এ ধরণিতে আলোকবর্তিকা করে পাঠান। সে দিনটি ছিল বারোই রবিউল আউয়াল। তাই বারোই রবিউল আউয়াল জগৎগুলোর জন্য নিঃসন্দেহে একটি আনন্দময় ও বরকতপূর্ণ দিন। তাঁর আগমনে সেদিন পৃথিবীর পাড়ায় পাড়ায়, আকাশে বাতাসে, দ্যুলোকে ভূলোকে ধ্বনিত হয় আহলান ছাহলান, মারহাবান। কবির ভাষায়-

‘কূল মখলুকে আজি ওঠে ধ্বনি, কে এলো ঐ

কলেমা শাহাদাতের বাণী ঠোঁটে, কে এলো ঐ

আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলো ঐ

পড়ে দরুদ ফেরেশতা, বেহেশতে সব দুয়ার খোলে।’

তিনি এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে সত্যের মশাল নিয়ে ছুটলেন। শান্তির পেয়ালা বিলালেন। পাষাণ হৃদয়ে রোপণ করলেন প্রেমের চারা। তাঁর অপার গুণাবলির অনুপমতায় দূর হল জাহিলিয়াতের অমাবস্যা। উদয় হল ন্যায়ের সূর্য।

যে নবীজির আগমনে তিমিরময় পৃথিবী হয়ে উঠল আলোর ধরণি। পরিণত হয় বেহেশতের বাগানে। সে নবীর জন্ম আমাদের জন্য কতটা আনন্দের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নবীজির জন্মোৎসব আমাদের জন্য শুধু খুশিরই নয় বরং বরকতেরও। সেই বরকতের প্রত্যাশায় প্রতিবছর বারোই রবিউল আউয়াল বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান অত্যন্ত আদব ও সম্মানের সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করেন। পৃথিবীর আর সব দেশের মতো বাংলাদেশও এর জুলুসে ঝলমলে হয়। খুশির আমেজে উদ্ভাসিত হয় মুমিনের হৃদয়। শহরে চলে মিলাদ-মাহফিল শোভাযাত্রাসহ আরও নানা আয়োজন। শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জশনে জুলুসের মিছিলে মিছিলে দুলে ওঠে গ্রামগুলোও। রবিউল আউয়ালের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পল্লীর পথঘাট মুখরিত হয়ে ওঠে মিলাদ-মাহফিলে। কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতের সুরের মূর্ছনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

জুমার দিনে খতিব সাহেবরা শানে রিসালাতের অনুপম আদর্শ ও শিক্ষার ওপর সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন। এই যেমন গত জুমায় কসবা জামে মসজিদে খতিব আমিনুল ইসলাম আলোচনা করেছেন, রিসালাতের গুরুত্ব এবং মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের ফজিলত প্রসঙ্গে। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, নবীজির চাচা আবু লাহাব ছিল নবীজির ভয়ঙ্কর শত্রু। সেই আবু লাহাবের শাস্তিও প্রতি সোমবার এলে কিছুটা কমে আসে। তার কারণ, রাসূল (সা.) যেদিন জন্মগ্রহণ করেন, সেদিন আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা তাকে জানাল যে, ‘আবদুল্লাহর ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে।’ এ সংবাদে আবু লাহাব এত খুশি হল যে, সঙ্গে সঙ্গে ওই দাসীকে মুক্ত করে দেয়। যে আঙুল দিয়ে ওই দাসীকে মুক্তির ইশারা করেছিল, সে আঙুল থেকে প্রতি সোমবারে আবু লাহাব ঠাণ্ডা ও মিষ্টি পানীয় পায়।’

খারপাড়া নুরুল কোরআন মাদ্রাসা ও মসজিদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের। বক্তারা নবীজির বরকতময় ৬৩ বছরের জীবনের নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। মাওলানা হাফেজ জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘নবীজির জন্মোৎসব পালন করা দোষের নয়, তবে তা হতে হবে নবীজির আদর্শের মধ্যে। নবীজি যেভাবে নিজ জন্মের শোকরিয়া আদায়ান্তে রোজা রেখেছিলেন, আমাদেরও উচিত, সেভাবেই রোজা রেখে মিলাদুন্নবী পালন করা।’ আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে শিশুশিল্পীরা পরিবেশনা করেন নাতে রাসূল (সা.)। তাদের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতারাও কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন-

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে

যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে ॥

নবীয়ে দোজাহানের শুভাগমন হিসেবে বারোই রবিউল আউয়াল সমুন্নত, শান ও মর্যাদার মহিমায় সমুজ্জ্বল। এ দিনটি বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের জন্য ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয়। স্মরণীয়-বরণীয় এদিনে গ্রামবাংলার প্রতিটি পাড়ায়, মসজিদ-মাদ্রাসা ও খানকাহ শরিফে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিলের। বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। গতবছরও খাড়েরা দরবার শরিফ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়েছিল। এতে হাজার হাজার আশেকে রাসূল অংশগ্রহণ করে নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না জানিয়ে খাড়েরা দরবার শরিফের দায়িত্বশীল মাওলানা ক্বারি আবদুল বাছির আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছরের মতোই এবারও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে রাসূল! আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহর নিয়ামত ও রহমতপ্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ কর। তোমাদের পুঞ্জীভূত সম্পদ অপেক্ষা এটি কত উত্তম।’ (সূরা ইউনুছ, আয়াত : ৫৮) এ আয়াত থেকেই বুঝা যায়, নবীজির জন্মদিনে মুসলমানের খুশি হওয়া, আনন্দ প্রকাশ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

লেখক : প্রাবন্ধিক

খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়

 আমিনুল ইসলাম হুসাইনী 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মাদ এলোরে দুনিয়ায়

আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়।

রক্তিম আকাশের পশ্চিমে পবিত্র রবিউল আউয়ালের বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই পল্লী-গাঁয়ের মিনারে মিনারে ধ্বনিত হল কাজী নজরুলের কালজয়ী এ নাতে রাসূল (সা.)। আনন্দের হিল্লোল বয়ে গেল হৃদয়ে হৃদয়ে। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শিশু-বুড়ো সবাই গেয়ে উঠল ‘আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়...।’

নবীয়ে দোজাহানের শুভাগমনের মাস হিসেবে পবিত্র রবিউল আউয়াল সমুন্নত, শান ও মর্যদার মহিমায় সমুজ্জ্বল। কেন না নবীজি এমনই এক সময়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, যখন আইয়ামে জাহিলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে ছিল পৃথিবী। মানবতা ছিল শূন্যের কোঠায়। হেন কোনো কর্ম ছিল না, যা মানুষ করত না। মানুষ যেন মানুষ ছিল না। ছিল পশুর চেয়েও হিংস ও বর্বর। পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট ছিল তাদের আচরণ। নিজ মেয়েকে জীবন্ত পুঁতে দিতে তাদের হাত কাঁপত না। মায়ার উদ্রেক হতো না পাষাণ চিত্তে। মোট কথা ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর এক সময়ে আল্লাহতায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)কে এ ধরণিতে আলোকবর্তিকা করে পাঠান। সে দিনটি ছিল বারোই রবিউল আউয়াল। তাই বারোই রবিউল আউয়াল জগৎগুলোর জন্য নিঃসন্দেহে একটি আনন্দময় ও বরকতপূর্ণ দিন। তাঁর আগমনে সেদিন পৃথিবীর পাড়ায় পাড়ায়, আকাশে বাতাসে, দ্যুলোকে ভূলোকে ধ্বনিত হয় আহলান ছাহলান, মারহাবান। কবির ভাষায়-

‘কূল মখলুকে আজি ওঠে ধ্বনি, কে এলো ঐ

কলেমা শাহাদাতের বাণী ঠোঁটে, কে এলো ঐ

আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলো ঐ

পড়ে দরুদ ফেরেশতা, বেহেশতে সব দুয়ার খোলে।’

তিনি এসে মানুষের দ্বারে দ্বারে সত্যের মশাল নিয়ে ছুটলেন। শান্তির পেয়ালা বিলালেন। পাষাণ হৃদয়ে রোপণ করলেন প্রেমের চারা। তাঁর অপার গুণাবলির অনুপমতায় দূর হল জাহিলিয়াতের অমাবস্যা। উদয় হল ন্যায়ের সূর্য।

যে নবীজির আগমনে তিমিরময় পৃথিবী হয়ে উঠল আলোর ধরণি। পরিণত হয় বেহেশতের বাগানে। সে নবীর জন্ম আমাদের জন্য কতটা আনন্দের, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নবীজির জন্মোৎসব আমাদের জন্য শুধু খুশিরই নয় বরং বরকতেরও। সেই বরকতের প্রত্যাশায় প্রতিবছর বারোই রবিউল আউয়াল বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান অত্যন্ত আদব ও সম্মানের সঙ্গে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করেন। পৃথিবীর আর সব দেশের মতো বাংলাদেশও এর জুলুসে ঝলমলে হয়। খুশির আমেজে উদ্ভাসিত হয় মুমিনের হৃদয়। শহরে চলে মিলাদ-মাহফিল শোভাযাত্রাসহ আরও নানা আয়োজন। শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জশনে জুলুসের মিছিলে মিছিলে দুলে ওঠে গ্রামগুলোও। রবিউল আউয়ালের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পল্লীর পথঘাট মুখরিত হয়ে ওঠে মিলাদ-মাহফিলে। কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতের সুরের মূর্ছনায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে প্রতিটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকাহ।

জুমার দিনে খতিব সাহেবরা শানে রিসালাতের অনুপম আদর্শ ও শিক্ষার ওপর সারগর্ভ আলোচনা পেশ করেন। এই যেমন গত জুমায় কসবা জামে মসজিদে খতিব আমিনুল ইসলাম আলোচনা করেছেন, রিসালাতের গুরুত্ব এবং মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের ফজিলত প্রসঙ্গে। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, নবীজির চাচা আবু লাহাব ছিল নবীজির ভয়ঙ্কর শত্রু। সেই আবু লাহাবের শাস্তিও প্রতি সোমবার এলে কিছুটা কমে আসে। তার কারণ, রাসূল (সা.) যেদিন জন্মগ্রহণ করেন, সেদিন আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা তাকে জানাল যে, ‘আবদুল্লাহর ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে।’ এ সংবাদে আবু লাহাব এত খুশি হল যে, সঙ্গে সঙ্গে ওই দাসীকে মুক্ত করে দেয়। যে আঙুল দিয়ে ওই দাসীকে মুক্তির ইশারা করেছিল, সে আঙুল থেকে প্রতি সোমবারে আবু লাহাব ঠাণ্ডা ও মিষ্টি পানীয় পায়।’

খারপাড়া নুরুল কোরআন মাদ্রাসা ও মসজিদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের। বক্তারা নবীজির বরকতময় ৬৩ বছরের জীবনের নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। মাওলানা হাফেজ জাহাঙ্গির আলম বলেন, ‘নবীজির জন্মোৎসব পালন করা দোষের নয়, তবে তা হতে হবে নবীজির আদর্শের মধ্যে। নবীজি যেভাবে নিজ জন্মের শোকরিয়া আদায়ান্তে রোজা রেখেছিলেন, আমাদেরও উচিত, সেভাবেই রোজা রেখে মিলাদুন্নবী পালন করা।’ আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে শিশুশিল্পীরা পরিবেশনা করেন নাতে রাসূল (সা.)। তাদের সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতারাও কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন-

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে

মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে

যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে ॥

নবীয়ে দোজাহানের শুভাগমন হিসেবে বারোই রবিউল আউয়াল সমুন্নত, শান ও মর্যাদার মহিমায় সমুজ্জ্বল। এ দিনটি বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের জন্য ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয়। স্মরণীয়-বরণীয় এদিনে গ্রামবাংলার প্রতিটি পাড়ায়, মসজিদ-মাদ্রাসা ও খানকাহ শরিফে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিলের। বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। গতবছরও খাড়েরা দরবার শরিফ থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়েছিল। এতে হাজার হাজার আশেকে রাসূল অংশগ্রহণ করে নবীপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না জানিয়ে খাড়েরা দরবার শরিফের দায়িত্বশীল মাওলানা ক্বারি আবদুল বাছির আহমেদ জানান, ‘প্রতিবছরের মতোই এবারও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে রাসূল! আপনি বলুন, তোমরা আল্লাহর নিয়ামত ও রহমতপ্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ কর। তোমাদের পুঞ্জীভূত সম্পদ অপেক্ষা এটি কত উত্তম।’ (সূরা ইউনুছ, আয়াত : ৫৮) এ আয়াত থেকেই বুঝা যায়, নবীজির জন্মদিনে মুসলমানের খুশি হওয়া, আনন্দ প্রকাশ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

লেখক : প্রাবন্ধিক