ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি
jugantor
ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি

  শরীফ উদ্দিন পেশোয়ার  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা অনেকেই নিজেকে মুসলমান এবং নবীপ্রেমিক বলে দাবি করি। কিন্তু সেদিন এক মনীষীর বই পড়ে আমাদের এমন দাবির প্রমাণ পেলাম না।

আমি ওই বইয়ের একটি হাদিস পড়ে চমকে উঠি। হাদিসটি হচ্ছে, যিনি ঘুম থেকে জেগে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করে সে আল্লাহর প্রেমিক নয়। আর যিনি মুসলমানের উপকার ছাড়া কোনো কাজ করে সে মুসলমান নয়। (কিমিয়ায়ে সাআদত।)

আমরা যারা নবীপ্রেমিক বা আল্লাহপ্রেমিক দাবি করি, হাদিসটির সঙ্গে নিজেদের দাবির সত্যতা মিলিয়ে নেয়া দরকার। একবার আল্লাহর রাসূলের কাছে সাহাবিরা জানালেন, অমুক মহিলা সারা বছর রোজা রাখে এবং সারা রাত নফল নামাজে কাটায়। কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়।

আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, ওই মহিলা জাহান্নামে যাবে। কাজেই আমরা যারা মনে করছি পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে গেলে বা হাজী হলে বেহেশত নিশ্চিত। বিষয়টি সে রকম নয়।

বেহেশত পেতে হলে মানবসেবা হচ্ছে আসল পুঁজি। নামাজ হচ্ছে ইসলামের একটি অনুসঙ্গ। একমাত্র ইবাদত নয়। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে পূর্ব পশ্চিমে সেজদা করার নাম ইবাদত নয়।

আমাদের মতে নামাজ ছাড়া ইসলাম হয় না। বিতর্কিত ব্যক্তিরা নামাজ ছাড়া অন্য কিছুতে ইসলাম খোঁজেন। তাদের অন্তর অসুস্থ। আরেক দল শুধু নামাজকেই ইবাদত মনে করেন। কিন্তু বড় বিষয় হচ্ছে, নামাজে আপনি কি বলেছেন বা কি ওয়াদা দিয়েছেন প্রভুর কাছে, তা জীবনে বাস্তবায়ন করা।

আমরা নামাজের শুরুতেই সূরা ফাতিহায় বলি, আমরা আপনার ইবাদত করি, আপনার কাছেই সাহায্য চাই। আরও বলি, আমাদের সিরাত্বল মুস্তাকিমে চালাও।

আচ্ছা! বলুন তো, আপনি কি দুনিয়াবী ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান? না নেতাদের কাছে সাহায্য চান? আবার নেতারা কার কাছে চান? আপনি, আমি কি সাহাবিদের পথে চলেছি? সাহাবিদের পথে চলাই মুসলমানিত্ব। সাহাবিরা সরলপথে চলেছেন আর মাখলুকের সেবা করে জীবন কাটিয়েছেন।

আমরা অনেকেই নিজেকে নবীপ্রেমিক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু কাজের বেলায় উল্টো। নবীকে ভালোবাসার ইনডিকেটর হচ্ছে, নবীর আদর্শ বাস্তবায়িত করা। দাড়ি তো অন্য ধর্মের লোকও রাখতে পারে, কিন্তু নবীজির মতো মিথ্যা-অন্যায়মুক্ত জীবন কয়জন যাপন করতে পারে!

অনেক নেশাখোরও দাবি করে সে নাকি নবীপ্রেমিক। অনেক বান্দা দাবি করতে পারেন তিনি নবীপ্রেমিক। বহু টাকার কুমির আলেমও দাবি করেন তারা নবীপ্রেমিক। মনে রাখতে হবে, শুধু দাবি করলেই নবীপ্রেমিক হওয়া যায় কি?

নবীর আসল মিশন কী ছিল? নবীর আসল মিশন ছিল, ইয়া উম্মাতি! ইয়া উম্মাতি অর্থাৎ উম্মতের জন্য সদা জাগ্রত এবং উম্মতের জন্য দিল কোরবান করা। চোর-ঘুষখোরও যদি দাবি করে নবীপ্রেমিক, দাবি করতে পারে কিন্তু ধোপে টিকবে না।

বেনামাজিরা দাবি করে তারা নবীপ্রেমিক। এসব দাবির পেছনে যথার্থতা নেই। স্বামীর সেবা না করে স্বামীর জন্য জান দিয়ে দেব বলা যেমন সে রকম আর কি।

যারা নবীর আত্মিক প্রেমিক নয় তারাই নবী মাটির তৈরি না নুরের তৈরি, নবী মানুষ কি না, নবীকে ভাই বলা যাবে কি না, নবী হাজির নাজির কি না- এসব নিয়ে মাতামাতি করে।

নবী নিজেই বলেছেন, তাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি যেন না হয়। আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ দিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক

ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি

 শরীফ উদ্দিন পেশোয়ার 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা অনেকেই নিজেকে মুসলমান এবং নবীপ্রেমিক বলে দাবি করি। কিন্তু সেদিন এক মনীষীর বই পড়ে আমাদের এমন দাবির প্রমাণ পেলাম না।

আমি ওই বইয়ের একটি হাদিস পড়ে চমকে উঠি। হাদিসটি হচ্ছে, যিনি ঘুম থেকে জেগে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করে সে আল্লাহর প্রেমিক নয়। আর যিনি মুসলমানের উপকার ছাড়া কোনো কাজ করে সে মুসলমান নয়। (কিমিয়ায়ে সাআদত।)

আমরা যারা নবীপ্রেমিক বা আল্লাহপ্রেমিক দাবি করি, হাদিসটির সঙ্গে নিজেদের দাবির সত্যতা মিলিয়ে নেয়া দরকার। একবার আল্লাহর রাসূলের কাছে সাহাবিরা জানালেন, অমুক মহিলা সারা বছর রোজা রাখে এবং সারা রাত নফল নামাজে কাটায়। কিন্তু সে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়।

আল্লাহর রাসূল (সা.) বললেন, ওই মহিলা জাহান্নামে যাবে। কাজেই আমরা যারা মনে করছি পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে গেলে বা হাজী হলে বেহেশত নিশ্চিত। বিষয়টি সে রকম নয়।

বেহেশত পেতে হলে মানবসেবা হচ্ছে আসল পুঁজি। নামাজ হচ্ছে ইসলামের একটি অনুসঙ্গ। একমাত্র ইবাদত নয়। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে পূর্ব পশ্চিমে সেজদা করার নাম ইবাদত নয়।

আমাদের মতে নামাজ ছাড়া ইসলাম হয় না। বিতর্কিত ব্যক্তিরা নামাজ ছাড়া অন্য কিছুতে ইসলাম খোঁজেন। তাদের অন্তর অসুস্থ। আরেক দল শুধু নামাজকেই ইবাদত মনে করেন। কিন্তু বড় বিষয় হচ্ছে, নামাজে আপনি কি বলেছেন বা কি ওয়াদা দিয়েছেন প্রভুর কাছে, তা জীবনে বাস্তবায়ন করা।

আমরা নামাজের শুরুতেই সূরা ফাতিহায় বলি, আমরা আপনার ইবাদত করি, আপনার কাছেই সাহায্য চাই। আরও বলি, আমাদের সিরাত্বল মুস্তাকিমে চালাও।

আচ্ছা! বলুন তো, আপনি কি দুনিয়াবী ব্যাপারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চান? না নেতাদের কাছে সাহায্য চান? আবার নেতারা কার কাছে চান? আপনি, আমি কি সাহাবিদের পথে চলেছি? সাহাবিদের পথে চলাই মুসলমানিত্ব। সাহাবিরা সরলপথে চলেছেন আর মাখলুকের সেবা করে জীবন কাটিয়েছেন।

আমরা অনেকেই নিজেকে নবীপ্রেমিক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলি। কিন্তু কাজের বেলায় উল্টো। নবীকে ভালোবাসার ইনডিকেটর হচ্ছে, নবীর আদর্শ বাস্তবায়িত করা। দাড়ি তো অন্য ধর্মের লোকও রাখতে পারে, কিন্তু নবীজির মতো মিথ্যা-অন্যায়মুক্ত জীবন কয়জন যাপন করতে পারে!

অনেক নেশাখোরও দাবি করে সে নাকি নবীপ্রেমিক। অনেক বান্দা দাবি করতে পারেন তিনি নবীপ্রেমিক। বহু টাকার কুমির আলেমও দাবি করেন তারা নবীপ্রেমিক। মনে রাখতে হবে, শুধু দাবি করলেই নবীপ্রেমিক হওয়া যায় কি?

নবীর আসল মিশন কী ছিল? নবীর আসল মিশন ছিল, ইয়া উম্মাতি! ইয়া উম্মাতি অর্থাৎ উম্মতের জন্য সদা জাগ্রত এবং উম্মতের জন্য দিল কোরবান করা। চোর-ঘুষখোরও যদি দাবি করে নবীপ্রেমিক, দাবি করতে পারে কিন্তু ধোপে টিকবে না।

বেনামাজিরা দাবি করে তারা নবীপ্রেমিক। এসব দাবির পেছনে যথার্থতা নেই। স্বামীর সেবা না করে স্বামীর জন্য জান দিয়ে দেব বলা যেমন সে রকম আর কি।

যারা নবীর আত্মিক প্রেমিক নয় তারাই নবী মাটির তৈরি না নুরের তৈরি, নবী মানুষ কি না, নবীকে ভাই বলা যাবে কি না, নবী হাজির নাজির কি না- এসব নিয়ে মাতামাতি করে।

নবী নিজেই বলেছেন, তাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি যেন না হয়। আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ দিন।

 

লেখক: প্রাবন্ধিক