সৃষ্টিজগতে মুহাম্মদ ও আহম্মদ নামে পরিচিত তিনি
jugantor
সৃষ্টিজগতে মুহাম্মদ ও আহম্মদ নামে পরিচিত তিনি

  মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এসিএস  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাদ্দুল আম্বিয়া হিসেবে খ্যাত হজরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) ও তার সুযোগ্য পুত্র ও নবী হজরত ইসমাইল জবেহউল্লাহ (আ.) আল্লাহর দরবারে হুজুরের শুভাগমনের প্রার্থনা করেছিলেন যেন মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সে মহান রাসূলকে প্রেরণ করা হয়। কোরআনের ভাষায়-

অর্থাৎ : হে আমাদের রব! এবং তাদের মধ্যে তাদেরই থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করো। (সূরা বাকারা : ১২৯)।

কোরআনের আয়াত এ কথার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে যে, রাসূলে করীম (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধর। বংশের এ ধারাবাহিকতায় কতজন পুরুষ অতিবাহিত হয়েছে তা নিয়ে বংশ বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন অভিমত প্রকাশ করলেও সবাই একমত যে, হুজুর আকরাম (সা.)-এর ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ নর-নারী সবাই সিজদাকারী মু’মিন ছিলেন। কোরআন মজিদে ‘ওয়াকাল্লুবাকা ফিচ চা’জিদীন’ বলে সে কথারই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে বলে মুফাস্সিরদের সর্দার হজরত আব্বাস (রা.) অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’-এ দুই নামে হুজুর গোটা সৃষ্টিজগতে পরিচিত। ‘মুহাম্মদ’ অর্থ ‘চরম প্রশংসিত’ আর ‘আহম্মদ’ অর্থ ‘চরম প্রশংসাকারী’। এ দুটো তাঁর সত্তাগত নাম; কিন্তু পরস্পর পরিপূরক। আরবি ‘মিম’, ‘হা’, ‘মিম’ ও ‘দাল’-এ চারটি হরফে ‘মুহাম্মদ’ শব্দ গঠিত যেখানে বর্ণের সংখ্যা ও ‘নুক্বতা’ (বিন্দু)বিহীন হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নামের সঙ্গে একান্ত সামঞ্জস্য সমৃদ্ধ। ‘মুহাম্মদ’ শব্দের সিবতী গণনা অনুসারে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১৩। এত সংখ্যক রাসূলই দুনিয়ায় তাশরিফ আনয়ন করেছেন বলে তাফসিরে রুহুল বয়ান শরিফে আল্লামা ইসমাইল হক্বী (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

‘মোহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’ ছাড়াও হুজুরের আরও এক হাজার নাম আছে যেগুলো তাঁর গুণবাচক নাম হিসেবে পরিচিত। হজরত জুবায়ের ইব্নে মুত্ইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন : ‘আমার পাঁচটি নাম আছে। আমি মুহাম্মদ, আমি আহাম্মদ, আমি মাহী-আল্লাহতায়ালা আমার মাধ্যমে কুফরকে বিলোপ করবেন। অর্থাৎ : মক্কা মোয়াজ্জমা ও বিশ্ব জাহানের কেন্দ্রভূমি আরব জাহান থেকে কুফুরিকে নির্মূল করা হবে। (বুখারি ও মুসলিম)।

‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’ নামের উৎপত্তি হয়েছে ‘হাম্দ’ থেকে। হাম্দ শব্দের অর্থ হল কারও উত্তম আখলাক বা চরিত্র, প্রশংসনীয় গুণাবলি, পরিপূর্ণ সৌন্দর্য, ভালোবাসা, মর্যাদা ও সম্ভ্রমের বর্ণনা করা। ‘মুহাম্মদ’ নাম বা’বে তাফ’ইলের ‘তাহমী’দ মাসদার হতে উৎপন্ন। ‘মুহাম্মদ’ শব্দ উক্ত মাসদারের ইসমে ফে’ল বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য পদের এবং কারও কারও মতে, ইসমে মাফ’ইল বা কর্মবাচক বিশেষ্য পদের অর্থ বহন করে যে, মোহাম্মদ (সা.) সৃষ্টিজগতের মধ্যে আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক হাম্দ বা প্রশংসা বর্ণনাকারী। (ফাতহুল বারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৪০৩, লিসানুল আরব ও আর রাওদুল উনুফ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৬)

লেখক : সাবেক কলেজ শিক্ষক, বর্তমানে একটি বেসরকারি, ব্যাংকে কর্মরত

সৃষ্টিজগতে মুহাম্মদ ও আহম্মদ নামে পরিচিত তিনি

 মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন এসিএস 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাদ্দুল আম্বিয়া হিসেবে খ্যাত হজরত ইবরাহিম খলিলুল্লাহ (আ.) ও তার সুযোগ্য পুত্র ও নবী হজরত ইসমাইল জবেহউল্লাহ (আ.) আল্লাহর দরবারে হুজুরের শুভাগমনের প্রার্থনা করেছিলেন যেন মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সে মহান রাসূলকে প্রেরণ করা হয়। কোরআনের ভাষায়-

অর্থাৎ : হে আমাদের রব! এবং তাদের মধ্যে তাদেরই থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করো। (সূরা বাকারা : ১২৯)।

কোরআনের আয়াত এ কথার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে যে, রাসূলে করীম (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর পুত্র হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধর। বংশের এ ধারাবাহিকতায় কতজন পুরুষ অতিবাহিত হয়েছে তা নিয়ে বংশ বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন অভিমত প্রকাশ করলেও সবাই একমত যে, হুজুর আকরাম (সা.)-এর ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ নর-নারী সবাই সিজদাকারী মু’মিন ছিলেন। কোরআন মজিদে ‘ওয়াকাল্লুবাকা ফিচ চা’জিদীন’ বলে সে কথারই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে বলে মুফাস্সিরদের সর্দার হজরত আব্বাস (রা.) অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’-এ দুই নামে হুজুর গোটা সৃষ্টিজগতে পরিচিত। ‘মুহাম্মদ’ অর্থ ‘চরম প্রশংসিত’ আর ‘আহম্মদ’ অর্থ ‘চরম প্রশংসাকারী’। এ দুটো তাঁর সত্তাগত নাম; কিন্তু পরস্পর পরিপূরক। আরবি ‘মিম’, ‘হা’, ‘মিম’ ও ‘দাল’-এ চারটি হরফে ‘মুহাম্মদ’ শব্দ গঠিত যেখানে বর্ণের সংখ্যা ও ‘নুক্বতা’ (বিন্দু)বিহীন হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নামের সঙ্গে একান্ত সামঞ্জস্য সমৃদ্ধ। ‘মুহাম্মদ’ শব্দের সিবতী গণনা অনুসারে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১৩। এত সংখ্যক রাসূলই দুনিয়ায় তাশরিফ আনয়ন করেছেন বলে তাফসিরে রুহুল বয়ান শরিফে আল্লামা ইসমাইল হক্বী (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

‘মোহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’ ছাড়াও হুজুরের আরও এক হাজার নাম আছে যেগুলো তাঁর গুণবাচক নাম হিসেবে পরিচিত। হজরত জুবায়ের ইব্নে মুত্ইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন : ‘আমার পাঁচটি নাম আছে। আমি মুহাম্মদ, আমি আহাম্মদ, আমি মাহী-আল্লাহতায়ালা আমার মাধ্যমে কুফরকে বিলোপ করবেন। অর্থাৎ : মক্কা মোয়াজ্জমা ও বিশ্ব জাহানের কেন্দ্রভূমি আরব জাহান থেকে কুফুরিকে নির্মূল করা হবে। (বুখারি ও মুসলিম)।

‘মুহাম্মদ’ ও ‘আহম্মদ’ নামের উৎপত্তি হয়েছে ‘হাম্দ’ থেকে। হাম্দ শব্দের অর্থ হল কারও উত্তম আখলাক বা চরিত্র, প্রশংসনীয় গুণাবলি, পরিপূর্ণ সৌন্দর্য, ভালোবাসা, মর্যাদা ও সম্ভ্রমের বর্ণনা করা। ‘মুহাম্মদ’ নাম বা’বে তাফ’ইলের ‘তাহমী’দ মাসদার হতে উৎপন্ন। ‘মুহাম্মদ’ শব্দ উক্ত মাসদারের ইসমে ফে’ল বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য পদের এবং কারও কারও মতে, ইসমে মাফ’ইল বা কর্মবাচক বিশেষ্য পদের অর্থ বহন করে যে, মোহাম্মদ (সা.) সৃষ্টিজগতের মধ্যে আল্লাহতায়ালার সর্বাধিক হাম্দ বা প্রশংসা বর্ণনাকারী। (ফাতহুল বারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৪০৩, লিসানুল আরব ও আর রাওদুল উনুফ, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০৬)

লেখক : সাবেক কলেজ শিক্ষক, বর্তমানে একটি বেসরকারি, ব্যাংকে কর্মরত